স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: পুজো কমিটিগুলিকে সরকারি অনুদান মামলায় স্থগিতাদেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট৷ অন্তর্বতীকালীন স্থগিতাদেশ দিল কলকাতা হাইকোর্টের ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি দেবাশিস করগুপ্ত ও শম্পা সরকারের ডিভিশন বেঞ্চ৷ তবে এই মামলা আদৌ গ্রহণযোগ্য কিনা সেই মামলায় রায় জানা যাবে বুধবার৷

মঙ্গলবার পুজো কমিটিগুলিকে সরকারি অনুদান মামলার শুনানি ছিল কলকাতা হাইকোর্টে৷ অ্যাডভোকেট জেনারেল, সরকারি আইনজীবী ও মামলাকারীর আইনজীবীর বাদানুবাদে এদিন এজলাস সরগরম ছিল৷ শুনানির প্রথমেই এজি বলেন, ‘‘পুজো কমিটিগুলিকে সরকারি অনুদার প্রসঙ্গে কেউ হস্তক্ষেপ করতে পার না৷ এক্ষেত্রে তিনি সংবিধানের ২৮২ নম্বর ধারার কথা তুলে ধরেন৷’’ সরকারি আইনজীবী শক্তিনাথ মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘‘সরকার টাকা খরচার ক্ষেত্রে আলাদা কমিটি রয়েছে৷ অডিটর কম্পট্রোলার রয়েছে৷ ফলে করদাতা এই বিষয়ে কিছু বলতে পারে না৷’’

এজি ও সরকারাি আইনজীবীর কথার বিরোধীতায় সরব হন মামলাকরীর আইনজীবী বিকাশরঞ্জণ ভট্টাচার্য৷ প্রশ্ন তুলে জানতে চান, ‘‘বাজেটে বরাদ্দ টাকা নিয়ে প্রশ্ন তোলা যায় না৷ প্রতিবছর কমিউনিটি পুলিশিং-এ টাকা বরাদ্দ থাকে৷ এতেই জড়িত থাকে সেভ ড্রাইভ সেফ লাইফ প্রকল্প৷ তাহলে নতুন করে কীভাবে ২৮ কোটি খরচ হল?’’

এরসঙ্গেই বিকাশবাবু যোগ করেন, ‘‘মুখ্যমন্ত্রী টাকা দেওয়ার কথা ঘোষণার সময় কোনও অর্ডার হয়নি৷ তাহলে এটি বরাদ্দই বলব৷ পুজোর জন্য বরাদ্দ অসাংবিধানিক৷’’ উদাহরণ হিসাবে তিনি ইমাম ভাতার বিষয়টি তুলে ধরেন৷

দুপক্ষের সওয়াল জবাব শেষে ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি এজিকে উদ্দেশ্য করে জানতে চান, ‘‘হস্তক্ষেপ নয়, শুধু জানতে চাওয়া হচ্ছে টাকা দেওয়ার কাজ কী কার্যকর হয়েছে? এই পক্রিয়ায় কোনও সেফটি ভাবলব আছে কী? জলের গতিপথ না আটকে তার লিকেজ আটকাতে চাইছি৷’’

শুনানির দ্বিতীয় দফায় এদিন ওজির কাছে প্রদান বিচারপতি জানতে চান ২৮কোটির কত কোন কাতে খরচ হয়েছে? উত্তরে এজি জানান, অর্থ দফতর থেকে বরাদ্দ অর্থ সব ট্রেজারিতে চলে গিয়েছে৷ প্রতিবাদ করেন মামলাকারীর আইনজীবী৷ তখন বিতারপতি জানতে চান, এই প্রকল্প কী কোনও নির্দিষ্ট সংবিধানের আওতায় পড়ছে? উত্তরে এজি বলেন, ‘‘এই প্রকল্প পরের বছর বাজেটের সঙ্গে যুক্ত করা হবে৷’’

কিন্তু তার আগেইতো টাকা খরচ হয়ে গিয়েছে৷ বিচারপতির প্রশ্নের উত্তরে এজি হাতিয়ার করেন সংবিধানের ২৮২ নম্বর ধারাকে৷ এছাড়া ২০৬ ধারার কথাও বলা হয়৷ যেকানে উল্লেখ রয়েছে বিশেষ ক্ষেত্রে সরকার বাজেটের খসড়া পেশ করতে পারে৷

কিন্তু এক্ষেত্রে বিশেষ কী সেই প্রশ্নের উত্তরে এজি বলেন, ‘‘জনগনের কল্যাণে অর্থ বরাদ্দ করতে পারে সরকার৷ আর এই অর্থ পুজোর জন্য নয়, বরং জনসচেতনার কাজে দেওয়া হচ্ছে৷ গাইড লাইন না থাকলে কোনও কিছু করা যাবে না এমন হতে পারে না৷’’

শুনানি শেষে বিচারপতি আগামী বৃহস্পতিবার পর্যন্ত এই মামলায় অন্তর্বতী স্থগিতাদেশ জারি করেন৷