মুম্বাই: শীঘ্রই মুক্তি হইচই-তে মুক্তি পেতে চলেছে ‘পাপ: অন্তিম পর্ব’ (Paap:Antim Parbo)। মুক্তির আগে ‘পার্বণী’ অর্থাৎ পূজা ব্যানার্জীর (Puja Banerjee) সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় কলকাতা টোয়েন্টিফোর ইনটু সেভেন।

এখন কি বাড়িতেই সময় কাটাচ্ছো?

বাড়িতেই সময় কাটাচ্ছি। সময় কীভাবে চলে যাচ্ছে তা বুঝতেই পারছি না কারণ কৃশিব রয়েছে আমাদের জীবনে। এমনিতে আমাদের কাজ থাকতো বলে ওকে সময় দিতে পারতাম না। এবছর লকডাউনে তাই আমরা দুজনেই কৃশিবকে সময় দিতে পারছি।

পাপের ট্রেলার দেখে মনে হল, তুমি তোমার চোখে একইসঙ্গে স্থিরতা এবং কোন দৃঢ় প্ল্যান একইসঙ্গে মেনটেন করে গেছো এটা করতে কি কোন প্র্যাকটিস করতে হয়েছে?

বিগত চোদ্দ পনেরো বছর ধরে কাজ করছি আর কাজের মাধ্যমেই শিখেছি। যখন কোন চরিত্রে অভিনয় করি সেই চরিত্র নিয়ে ভাবি। স্ক্রিপ্ট পড়ার সময় আমি নিজের ছাড়া অন্যের ডায়লগ পড়িনা। তাই শটের সময় অন্যের ডায়লগে আমার স্বতস্ফূর্ত অভিব্যক্তি আসে।

পার্বণী চরিত্রটি সব সময় খোলা চুল রেখে দেয়, তুমিও কি খোলা চুল রাখতেই পছন্দ করো?

খোলা চুল পছন্দ করি ঠিক তবে বেশিরভাগ সময় হাতখোঁপা করেই রাখি। কারণ, শুটিং এবং সারাদিন খোলা চুল মেনটেন করা সম্ভব হয় না আর যেহেতু কৃশিব রয়েছে তাই হাতখোঁপা করে রাখাই শ্রেয়।

পাপে কর্মফলের কথা দেখানো হয়েছে, তুমিও কি Karma-তে বিশ্বাসী?

হ্যাঁ নিশ্চয়ই। ঘুরে ফিরে তোমার কাজের ফল তুমি পাবেই।

পাপের শাস্তি ঈশ্বর করবে নাকি নিজের সঙ্গে পাপ হলে নিজেকেই শাস্তি দিতে হবে, কোনটায় বিশ্বাসে তুমি?

এটা প্রত্যেকের ক্ষেত্রে আলাদা হতে পারে তবে অন্যায় দেখলে প্রতিবাদ করা উচিত। কারণ অন্যায় যে করে অন্যায় যে সহে দুজনেই অপরাধ করছে। তাই অন্য কারুর সঙ্গে অন্যায় দেখলে প্রতিবাদটা করা উচিত। তবে যদি শাস্তির কথা বলো, যদি কোন ক্রিমিনালের বিরুদ্ধে শাস্তির বিষয় হয় তবে তা শীর্ষ মহলের হাতে ছেড়ে দেওয়া উচিত। যখন আমাদের কাছের কেউ আমাদের আঘাত করে তখন আমরা তার বিচার ভগবানের উপর ছেড়ে দিই।

এমনকি, আমি আমার সোশ্যাল সাইটে আমার যে ফটো দিই না কেন তাতে কেউ না কেউ কিছু একটা কুরুচিকর কমেন্ট করবেই। আমরা সেলিব্রিটি বলে তারা ভুলে যায় যে আমরা একই সঙ্গে মানুষও। তবে আমি তাদের কাউকেই কোনো প্রতি উত্তর দিতে চাই না কারণ, কথায় কথা বাড়ে আর আমি এদের বিচার ঈশ্বরের উপরই ছেড়ে দিয়েছি।

কিছু না বললেও, মনের ভেতর রাগ পুষে রাখো ?

প্রত্তুত্তর দিতে ইচ্ছা করে তবে রাগ থেকে নয়। আমি ওদের এই মানসিকতাকে চেঞ্জ করতে চাই। শুধুমাত্র ছবির ক্ষেত্রে নয় আমি ইন্টারভিউ দেওয়ার পর অনেকেই জিজ্ঞেস করে, ‘তুমি নিজে কি খুব ভালো?’, আমি তাদের থেকে জানতে চাই, আপনি যখন আমার ব্যাপারে পড়ছেন তখন নিশ্চয়ই আপনার আমার প্রতি কোন একটা আগ্রহ আছে।

কারণ যদি আমার কারুর ব্যাপারে আগ্রহ না থাকে, আমি তার ব্যাপারে জানতে যাব কেন। তাই আমার বলার যে আপনার বাড়িতেও তো মহিলারা থাকে তারা যখন কোন শর্ট ড্রেস পড়ে তাদের ব্যাপারেও কি আপনারা একই কথা বলেন!

কোন চরিত্রে অভিনয় করতে গেলে যদি আমায় কোনো পোশাক পরতেই হয় সেটাকে নিয়ে কটুক্তি করার কী মানে! সাধারণ ঘরের মহিলারাও তো এরকম ধরনের পোশাক পরেন। আমি যখন ‘পার্বতী’-র চরিত্রে অভিনয় করেছিলাম আমি এক ধরনের পোশাক পড়ে ছিলাম আবার ‘পাপ’ (Paap)এ আমার চরিত্রে তাগিদে আমাকে শাড়ি পড়তে বলা হয়েছে,আমি তাই করেছি। কিন্তু এই ধরনের মানুষগুলো শুধু সেটাই দেখাতে চায়, যা তারা নিজেরা ভাবে।

যদি শুধু অভিনেত্রীরাই এই ধরনের পোশাক পড়তো তাহলে তো এই পোশাকগুলো বিক্রিই হতো না। আমরা ডিজাইনার দিয়ে বানিয়ে নিতে পারতাম।

কদিন পরে আমার সন্তান বড় হয়ে যদি এই ধরনের জিনিস দেখে তখন ওর মনের ওপর কী প্রভাব পড়বে।আমার প্রথম কাজে একজন আমায় বলেছিলেন, ‘তুমকো কেয়া লাগা খুবসুরত দিখতি হো তো,অ্যাকটার বান যাওগি’- আমার কথাটা খুব খারাপ লেগেছিল।

দেড় বছর পরে উনি এসে বলেছিলেন, ‘ম্যাম আপনে কেয়া শট্ দিয়া হে’। সেদিন আমি খুশি হয়েছিলাম। কারণ আমি বিশ্বাস করি, কেউ যদি আমায় খারাপ বলে তাহলে আমার কাজ দিয়ে তাকে ভুল প্রমাণ করার, কোন মৌখিক কথার উত্তরে নয়।

পার্বণী কতটা বদলেছে?

না পার্বণী বদলায়নি।সে এখনও ইনোসেন্ট। তবে এই সিজনে দর্শক পার্বণীর চরিত্রের আরেকটা লেয়ার দেখতে পাবে।

পার্বণী কী মনের ভেতর রাগ পুষে রেখেছে?

হ্যাঁ কারণ পার্বণীর সঙ্গে যা হয়েছে তা অন্য কারোর সঙ্গে হলে সেও মনের ভেতরে ক্ষোভ পুষে রাখত, তাই অবশ্যই পার্বণীর মনের ভেতরে ক্ষোভ জমে রয়েছে।

এই চরিত্রটা থেকে তোমার প্রাপ্তি কী?

ধর্ষণ এবং যৌন নিগ্রহের ঘটনা দিনের পর দিন বাড়ছে এই চরিত্রটির মাধ্যমে যদি আমি কাউকে উদ্বুদ্ধ করতে পারি এবং ভাবাতে পারি যে নিজের লড়াই নিজেকেই লড়তে হবে এবং মুখ বুঝে সহ্য করতে দেওয়া যাবে না সেটাই একটা বড় প্রাপ্তি। মহিলাদের রাত্রিবেলা দেরী করে বাড়ী না ফিরতে বলা হয় কিন্তু যদি কেউ বাড়ির ভেতরেই সুরক্ষিত বোধ না করে তাহলে তার কী হবে?

আমি তো এটাই বুঝতে পারি না যখন কোন মেয়ের ধর্ষণ হয় তখন নাকি মেয়েটার বদনাম হয় কিন্তু যে ধর্ষণকারী তার বদনাম হওয়া উচিত এই সমাজের চিন্তা ধারাকে বদলানো উচিত।

সোশ্যাল সাইটে উদারমনস্কতার কথা বলে কিন্তু নিজের বাড়ির ভেতরেই মহিলাদের উপর হওয়া অন্যায় কে সমর্থন করে এমন চরিত্র বাস্তবে দেখেছো?

নিশ্চয়ই বহু ক্ষেত্রে এরকম চরিত্র দেখেছি তবে যদি ছেলেদের কথা বলি তবে তাদের এই মানসিকতা তৈরি হয় তাদের কীভাবে বড় করা হচ্ছে সেটা থেকে। অনেক সময় কোন দম্পতির মধ্যে ঝগড়া হলে মেয়েটিকে বলা হয়, ‘ও তো ছেলে,ওর মাথা গরম হতেই পারে’- এই জিনিসটা কোনদিনও গ্রহণযোগ্য নয়।

আমি আমার সন্তানকে এমন ভাবেই তৈরি করব সে যেন কোন মহিলা কী পোশাক পরছে বা কটার সময় বাড়ি ফিরছে এই সমস্ত দিকে লক্ষ্য না করে প্রত্যেক মহিলাকে সম্মান করে। তবে বহু পুরুষ মানুষ এগিয়ে আসে এই ধরনের ইস্যুতে কথা বলার জন্য।

আমি সব মহিলাদের অনুরোধ করবো ধর্ষণ বা যৌন নিগ্রহের কোন ঘটনা ঘটলে অবশ্যই প্রতিবাদ করুন, নিজের মনের মধ্যে সে যন্ত্রনাটা লুকিয়ে রাখবেন না।

রাপিদ ফায়ার:

  • ছোটবেলা থেকে বলা এই পাপ গুলোর মধ্যে কোনগুলো তুমি করেছ?

সরস্বতী পূজার আগে কুল খাওয়া!- হ্যাঁ! তবে খেয়ে খুব ভয় পেয়েছিলাম।

  • এটো হাতে কোন জিনিস ধরে বকা খাবে বলে লুকিয়ে গিয়েছো- হ্যাঁ বেশ কয়েকবার।

বাসি কাপড়ে করে রান্না ঘরে ঢুকেছো- হ্যাঁ করেছি কিন্তু এটা আমাদের বাড়িতে খুব একটা গুরুত্ব দেওয়া হতো না, হয়তো ছোট ছিলাম বলে।

  • যারা সেলিব্রিটিদের সোশ্যাল সাইট ঘেঁটে, নোংরা কমেন্ট করে তাদের কী শাস্তি দিতে চাও?

শাস্তি আমি দিতে চাই না। তবে আমি প্রার্থনা করি এদের এই মানসিকতার যেন বদলে যায়। শাস্তি দিয়ে কিছু হবে না যদি না ভেতর থেকে পরিবর্তন ঘটে।

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.