স্টাফ রিপোর্টার, বারাকপুর: আইন করেও আটকানো যাচ্ছে না গণপ্রহার। ফের তা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল উত্তর ২৪ পরগনার নিমতার ঘটনা। এক মহিলাকে সাইকেলে দিয়ে ধাক্কা মারার অপরাধে উত্তেজিত জনতার হাতে বেঘোরে প্রাণ দিতে হল সাইকেল আরোহী ওই যুবককে।

পুলিশ জানিয়েছে, মৃত ওই যুবকের নাম বিকাশ মাঝি(৩২)। তাঁর বাড়ি নিমতা থানার উত্তর সপ্তগ্রামে। টানা সাতদিন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে শুক্রবার সকালে কলকাতার এসএসকেএম হাসপাতালে মৃত্যু হয় ওই যুবকের। এই ঘটনায় মৃতের পরিবারের তরফে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে নিমতা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। যদিও, ঘটনার পর থেকেই পলাতক অভিযুক্তেরা। তাদের খোঁজ পেতে তল্লাশি শুরু করেছে পুলিশ। এদিকে অভিযুক্তদের কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মূল ঘটনার সূত্রপাত হয় গত শনিবার অর্থাৎ ১ ফেব্রুয়ারি। সেদিন নিমতা থানার উত্তর সপ্তগ্রামের বাসিন্দা মৃত বিকাশ মাঝি তাঁর নাবালক ছেলেকে ডাক্তার দেখিয়ে সাইকেলে করে বাড়ি ফিরছিলেন। সেই সময়, তিনি দেখেন উত্তর সপ্তগ্রামের রাস্তা আটকে দাঁড়িয়ে গল্প করছেন দুই মহিলা। তিনি সাইকেলে বেল দেওয়া সত্ত্বেও ওই দুই মহিলা রাস্তা থেকে সরে দাঁড়ায়নি।

ফলে তখন আচমকা বিকাশ মাঝির সাইকেল নিয়ন্ত্রন হারিয়ে ওই রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকা এক মহিলাকে আঘাত করে। এরপর ওই মহিলা তার স্বামী সুজয় দাসকে খবর দিয়ে ঘটনাস্থলে ডাকিয়ে আনে। এবং বিকাশ মাঝিকে বেধড়ক মারধোর করে রাস্তার নিত্যযাত্রী ও তার স্বামীকে দিয়ে। সেদিন বিকাশ মাঝির অসুস্থ ছেলের সামনেই তাঁকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ।

এদিকে ঘটনার খবর পেয়ে মৃতের পরিচিতরা সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে ছুটে আসলে পালিয়ে যায় অভিযুক্তরা। সেই সময় ঘটনাস্থলে আসে নিমতা থানার পুলিশও। রক্তাক্ত অবস্থায় রাস্তায় সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়ে থাকা বিকাশ মাঝিকে উদ্ধার করে কলকাতার এসএসকেএম হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। গত সাতদিন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে শুক্রবার ভোরে মৃত্যু হয় তাঁর।

এদিকে শুক্রবার তাঁর মৃত্যুর খবর বিশর পাড়ার উত্তর সপ্তগ্রামে ছড়িয়ে পড়তেই উত্তেজিত হয়ে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁরা অভিযুক্ত পলাতক খুনিদের অবিলম্বে গ্রেফতারের দাবি জানান। নৃশংস এই ঘটনার প্রতিবাদে এদিন সকালে বিশরপাড়ায় পথ অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখান তাঁরা। দীর্ঘক্ষণ ধরে চলে পথ অবরোধ। পরে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় নিমতা থানার পুলিশ। পুলিশ গিয়ে অভিযুক্তদের গ্রেফতারের আশ্বাস দিলে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আসে। এবং উত্তেজিত জনতা পথ অবরোধ তুলে নেয়।