কলম্বো: অভিশপ্ত রবিবার৷ ২১ এপ্রিলের সেই স্মৃতি মনে পড়লেই শিউড়ে উঠছেন দ্বীপরাষ্ট্রের বাসিন্দারা৷ সজাগ প্রশাসন৷ সুরক্ষার স্বার্থে এবার তরোয়াল এবং বড় ছুরি স্থানীয় থানায় জমা করার নির্দেশ দিল শ্রীলঙ্কা সরকার৷

শ্রীলঙ্কা পুলিশের মিডিয়া সেল এদিন একটি বিবৃতি জারি করে৷ সেখানেই বলা হয়েছে জনসাধারণকে বলা হচ্ছে রবিবারের মধ্যে তাদের কাছে তরোয়াল বা বড় ছুরি থাকলে তা জমা দিতে হবে স্থানীয় থানায়৷

রবিবারই গীর্জায় প্রার্থনা করেন খ্রীষ্টানরা৷ সেদিনও চলছিল প্রার্থনা৷ তারই মাঝে ঘটে যায় বিস্ফোরণ৷ গাড়ি করেই এসেছিল জঙ্গিরা৷ সেই কথা মনে রেখে পুলিশের নির্দেশ, রবিবার দুপুর একটার পর কলম্বোয় অবস্থিত স্কুলের পাসের রাস্তায় গাড়ি পার্ক করা যাবে না৷ বিশেষ তল্লাশি অভিযানের জন্যই এই নির্দেশ বলে জানানো হয়৷

আরও পড়ুন: পাকিস্তানের গুরুদোয়ারায় দুই ভারতীয় কূটনীতিককে আটকে হেনস্থা

এই প্রথম নয়, এর আগেও কলম্বো জঙ্গি হামলার পর নিরাপত্তার স্বার্থে বেশ কিছু পদক্ষেপ করে শ্রীলঙ্কা প্রশাসন৷ মুসলিম মহিলাদের সেখানে বোর্খা পড়া নিষিদ্ধ করা হয়৷ মুখ ঢাকা কোনও পোশাকই পরা যাবে না বলে গত রবিবার ডিক্রি জারি করেছেন সিহলীয় প্রেসিডেন্ট। জাতীয় নিরাপত্তায় স্বার্থে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে নির্দেশিকায় উল্লেখ করা হয়৷

চলতি বছরের ২১ এপ্রিল ভয়াবহ জঙ্গি বিস্ফোরণ ঘটে কলম্বোর তিনটি গির্জা ও তিনটি বিলাসবহুল হোটেলে৷ নিহত হন ২৫৩ জন মানুষ৷ ঘটনার দিন দুয়েকের মাথায় হামলার দায় স্বীকার করে ইসলামিক স্টেট জঙ্গিরা৷ প্রথমে মনে করা হয়েছিল স্থানীয় তওহিদ জামাত নামে জঙ্গি সংগঠনটি হামলার পিছনে রয়েছে৷ পরে দায় স্বীকার করে আইএস৷ শ্রীলঙ্কার এক মন্ত্রী জানান, নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে হামলার বদলা নিতে ইসলামিক সংগঠনটি শ্রীলঙ্কায় চার্চে হামলা চালিয়েছে।