সিদ্ধার্থ মুখোপাধ্যায়: মহালয়ার দিনে সকালে বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের গলায় মহিষাসুরমর্দিনীর কোনও বিকল্প হতে পারে না৷ ১৯৭৬ সাল আকাশবাণীর কর্তৃপক্ষ তেমন কিছু করতে গিয়ে চরম ভাবে ব্যর্থ হয়েছিল৷ যদিও সেবার বিকল্প হিসেবে মহালয়ার দিনের যে প্রভাতী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল তাতে গ্ল্যামারের কিছু খামতি ছিল না ৷ এই বিকল্প অনুষ্ঠানে উত্তমকুমার লতা মঙ্গেসকর সহ বেশ কিছু কলকাতা ও বম্বের নামি দামি শিল্পীদের ব্যবহার করা হলেও শেষরক্ষা হয়নি ৷ একেবারে পাবলিক তা গ্রহণ করেনি ফলে পরে ফের ফিরিয়ে আনতে হয়েছিল বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্র-পঙ্কজ মল্লিক জুটির পুরনো মহিষাসুরমর্দ্দিনীকেই৷

ওই ব্যতিক্রমী বছর বাদে গত শতাব্দীর তিনের দশক থেকে বাঙালির অস্থি-মজ্জায় জড়িয়ে রয়েছে এই ‘মহিষাসুরমর্দিনী’৷ যেটির রচয়িতা বাণীকুমার, সুরকার পঙ্কজকুমার মল্লিক এবং ভাষ্যপাঠ বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের।

অন্যদিকে ১৯৭৬ সালে ‘মহিষাসুরমর্দিনী’-র পরিবর্তে শোনান হয়েছিল‘দুর্গতিহারিণী’৷ বিষয় ভাবনা স্ক্রিপ্ট লিখেছিলেন ধ্যানেশ নারায়ণ চক্রবর্তী। সুর করেছিলেন হেমন্ত মুখোপাধ্যায়। গান গাইলেন লতা মঙ্গেসকর আশা ভোঁসলে, মান্না দে’র মতো শিল্পীরা। বীরেন্দ্রকৃষ্ণর জায়গায় সেবার পাঠে সেরা চমক ছিল মহানায়ক উত্তমকুমার সহ একঝাঁক শিল্পী।

পাঠে অন্যান্যদের মধ্যে ছিলেন অভিজাত কণ্ঠের বসন্ত চৌধুরী, বাচিক শিল্পী পার্থ ঘোষ-গৌরী ঘোষ তৎকালীন দক্ষ সংবাদ পাঠিকা ছন্দা সেন। তাছাড়া তৎকালীন বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্কৃতের বিভাগীয় প্রধান ডঃ গোবিন্দগোপাল মুখোপাধ্যায়কে সংস্কৃত স্তোত্র পাঠে এবং সেই সময়কার নামী স্তোত্র গায়িকা মাধুরী মুখোপাধ্যায়কে কাজে লাগান হয়েছিল। তবু তা চূড়ান্ত ফ্লপ করেছিল৷

এটাও ঘটনা ওই সময়টা ছিল প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর ডাকা জরুরি অবস্থার সময়৷ ফলে শোনা যায় বেশ কিছু সরকারি আমলা ইন্দিরা গান্ধীকে একেবারে মা দুর্গা রূপে তুলে ধরতেই এমন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল৷ এই‘দুর্গতিহারিণী’-র কিছু গানে দেবী আর দেশ যেন মিশে গিয়েছিল। দেশ বিরোধীরাই যেন অসুর বলে মনে হচ্ছিল৷

তাছাড়া আকাশবাণীর কর্তাদের সেই চক্রান্তের জন্য কোপ পড়েছিল পঙ্কজ মল্লিক আর বীরেন ভদ্রের উপর৷ এদের দুজনকেই আকাশবাণী থেকে হঠিয়ে দেওয়ার প্রক্রিয়া আগেই শুরু হয়েছিল। যেমন পঙ্কজবাবুকে চিঠি ধরিয়ে হঠাৎ তাঁর সঙ্গীত-শিক্ষার আসরটা বন্ধ করে দেওয়া হয়৷