কলকাতা: ‘মানসিক অবসাদ’ বা ‘ডিপ্রেশন’ শব্দ গুলির সঙ্গে আমরা সবাই পরিচিত। হঠাৎ করে কোনও কিছুর থেকে নিজেকে সম্পূর্ণ গুটিয়ে নেওয়া বা আলাদা আলাদা রাখাই এই রোগের প্রধান লক্ষন বলেই আমরা জানি। তবে এই ডিপ্রেশন বা অবসাদ একজন মানুষের জীবনে যে কতটা সর্বনাশ ডেকে আনতে পারে, বর্তমানে তার সব থেকে বড় উদাহরণ হল বহুল চর্চিত বলি তারকা সুশান্ত সিং রাজপুতের অকাল মৃত্যু।

মানসিক ভাবে ভেঙে পড়া, হতাশা, দুঃখ এবং জীবনে নানারকম ব্যর্থতা থাকলে মানুষ হঠাৎ করেই নিজেকে সকলের থেকে ধীরে,ধীরে গুটিয়ে নেন। মনের কথা ধৈর্য ধরে শোনার মতো বা বোঝার মতোন লোক যদি জীবনে না থাকে তাহলেও অনেকেই মানসিক ভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন। অনেক সময় কিছু না ভেবেই জীবনের চরম সিদ্ধান্ত নিতে পিছুপা হন না এইধরনের মানুষেরা।

কিন্তু হঠাৎ করেই আবেগের বশবর্তী হয়ে কোনও কিছু করা, বা আমার কেন কিছুই ভালো লাগছে না তার কারণ অনুসন্ধান না করেই জীবনের চরম সিদ্ধান্ত নেওয়া কী উচিত? আমাদের চারপাশে যে কেউ মনের অসুখে আক্রান্ত হতে পারেন। তাহলে তাঁকে কীভাবে এই সমস্যা থেকে বাঁচাবো বা কী করে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেব? সেই কথাই জানাচ্ছেন বিশিষ্ট মনরোগ বিশেষজ্ঞ তথা অধ্যাপিকা ডঃ নীলাঞ্জনা স্যানাল।


ডঃ নীলাঞ্জনা স্যানালের কথায়, ” আমরা কমবেশি সবাই নানারকম সমস্যায় ভুগি। তবে এটার সঙ্গে মনের রোগকে গুলিয়ে ফেলা ঠিক নয়। সব সময় নিজেকে নিয়ে চিন্তা, আমিত্ব সত্ত্বার বিকাশ ঘটানো বা আমি যা বলছি তাই সঠিক , বাকিরা ভুল। এমনটা করলে হবে না। সবসময় কারও প্রতি নেতিবাচক মনোভাব না রেখে ইতিবাচক কিছু ভাবুন এতে করে অন্যের মতামত বা তাঁর কথা শুনলেও আমরা জীবনে অনেক সময় অনেক উপকার পাই। এমনকি সব সময় নিজের মতো করে চললে হয় না। অপরের কথা শোনা বা জানারও দরকার আছে। তবে হঠাৎ করেই কেউ ডিপ্রেশনে চলে যায় না। কাজের প্রতি একঘেয়েমি,জীবনের ব্যর্থতাও আমাদের মানসিক অবসাদের জন্য দায়ী।”

তিনি আরও বলেন, “তবে এই সমস্ত কিছু যেমন নিজে থেকেই চেষ্টা করলে কাটিয়ে ওঠা সম্ভব,তেমনই অনেকে আবার বিশেষজ্ঞদেরও পরামর্শ নেন। যদিও মানসিক স্বাস্থ্য ভালো রাখতে আমাদের সকলের জীবনে নিয়মানুবর্তিতা খুবই জরুরি। আধুনিকতার যাঁতাকলে চাপা পড়ে বর্তমান সময়ের ছেলে মেয়েরা যেটাকে প্রায় ভুলতে বসেছে। কিন্তু যে কোনও মানুষের জীবনে সময়ানুবর্তিতা বা রুটিন অনুযায়ী জীবন যাপন করা খুব জরুরি। যদিও কাজের চাপে সব সময় সেটা সম্ভব হয়ে ওঠে না। তবে দৈনন্দিন জীবনে একটু সঠিক নিয়মকানুন মেনে চললে আখেরে লাভ আমাদেরই। কেননা, আট থেকে আশি যে কোনও বয়সী মানুষের শরীরকে সুস্থ রাখতে সবার আগে মনের সুস্থতা জরুরি।”

তিনি আরও বলেন, ” মন ভালো না থাকলে যে কোনও মানুষেরই খাবার খাওয়া বা যেকোনও কাজের প্রতি অনীহা তৈরি হয়।আর যা থেকে ধীরে ধীরে শরীরে বাঁসা বাঁধে দুরারোগ্য ব্যাধি। সুতরাং আমাদের সকলের জীবনেই সময়ের কাজ সময়ে করা উচিত।এতে যেমন নিজের মন ভালো থাকে, তেমনই নতুন কোনও কিছু করার প্রতি আগ্রহ জন্মায়।”

তবে শুধু নিয়মানুবর্তীতা নয়, অপরের কথা শোনাও আজকের যুগে খুবই প্রয়োজনীয় বিষয়। অপরের ভালো মন্দ জানা, তাঁকে সাহস যোগানো যেকোনও পজিটিভ চিন্তাভাবনার মানুষের প্রধান কাজ। এছাড়াও নিজের ইচ্ছা অনিচ্ছা কারও উপর জোর করে না চাপিয়ে নিজেকে সময় দেওয়া, নিজেকে নিয়ে চিন্তা ভাবনা করাও মানসিক সুস্বাস্থ্য বজায় রাখার লক্ষন। সব সময় পারছি না, আমার দারা এটা হবে না এসব ভেবে অযথা সময় নষ্ট না করে ভালো কিছু করার চেষ্টা করুন। যেটা আপনাকে আনন্দ দেবে বা আনন্দে রাখবে।

শুধু তাই নয়, জীবনে যত আমরা চাওয়ার পাওয়ার হিসেব কমাতে পারব ততই ভালো থাকতে পারব। সুতরাং জীবনে ভালো থাকতে হলে চাওয়া পাওয়ার হিসেব কমিয়ে অল্প অল্প পাওনাতেই নিজের সুখ আনন্দ খুঁজে নিতে শিখুন দেখবেন ভালো আছেন। ভালো থাকতে পারবেন।

প্রশ্ন অনেক-এর বিশেষ পর্ব 'দশভূজা'য় মুখোমুখি ঝুলন গোস্বামী।