স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: প্রতিবাদই হয়ে ওঠে তাঁর কবিতার ভাষা। এই প্রথম নয়, এর আগেও নানান ঘটনার প্রতিবাদে কলম হাতে তুলে নিতে দেখা গিয়েছে কবি সুবোধ সরকারকে। মণিপুরে আর্মিদের কর্মকান্ডের নিন্দা করে তিনি ‘মণিপুরের মা’ নামের একটি তীব্র কবিতা লিখেন। যা পরবর্তীতে সারা ভারতে ছড়িয়ে পড়ে।

গুজরাট হত্যার পরেও থেমে থাকেনি তাঁর কলম। অন্যায়ের বিরুদ্ধে বারবার সরব হয়েছেন সুবোধ সরকার। তিনি এই মুহূর্তে পশ্চিমবঙ্গ কবিতা আকাদেমির সভাপতি। যে কোনও ভাষাকেই তিনি সম্মান করেন। তিনি ঘোষণা করেন– “হিন্দি ভাষাকে আমি সম্মান করি। কন্নড় মালয়ালি মারাঠী কোঙ্কনী কিংবা ককবোরোককে আমি সমানভাবে সম্মান করি। কোনও ভাষা ছোট হয় না। কোনও ভাষা বড় হয় না। মাতৃভাষা একজন মানুষের আসল রেশন কার্ড। তবে বাংলাকে মুছে ফেলার নতুন নীতির নাম এক দেশ এক ভাষা।”

এখানেই শেষ নয়। অমিত শাহর ‘এক দেশ এক ভাষা’র সমালোচনা করে সোমবার সকালে নিজের ফেসবুক দেওয়ালে একটি কবিতা পোস্ট করেন সুবোধ সরকার। কবিতাটিতে তিনি লেখেন–

“যাঁরা চাইছেন এক দেশ এক ভাষা
তাঁরা কী জানেন কাকে বলে দেশ?
কাকে বলে ভালবাসা?

আমার ভাইকে তোমরা মেরেছ কাশ্মীরে
মেরেছ বোনকে কন্যাকুমারিকায়
গঙ্গার জলে সবটুকু ধোয়া যায়?

তোমরা চাইছ এক ভাষা এক দেশ
বিষে বিষ বাড়ে শঙ্কায়
আমি ছাড়ব না আমার মাতৃভাষা।

নিজের ভাষায় গাইবে না আর গান?
বুঝবে সেদিন
যখন তোমার থালায় পড়বে টান।

দেখেই চলেছি জোচ্চুরী করা পাশা
আমি বলব না আমার মাতৃভাষা?”

এক সময় সাহিত্যিক সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় ধর্মতলার বুকে দাঁড়িয়ে বাংলা ভাষার জন্য আন্দোলনে নেমেছিলেন। সেই আন্দোলনে যোগ দিয়েছিলেন তরুণ কবি সুবোধ সরকারও। এবার কি নতুন করে রাস্তায় নামার সময় এসেছে? প্রশ্ন তুলছে নানা মহল। বাংলা ভাষার জন্য আগামী দিনে বাংলার বুদ্ধিজীবীরা কী পদক্ষেপ নেবেন, সেই দিকেই তাকিয়ে আছে সাধারণ মানুষ।