পর্ণা সেনগুপ্ত: পরপর দুদিনের দুটো ছবি আলাদা৷ বিশ্বকর্মা পুজোর দিন তেনাদের বায়না ছিল ভাড়া বেশি দিতে হবে, কারণ পুজো৷ নয়তো তাঁরা যাবেন না৷ তা সে পুজো মিটল৷ তবে বায়নাক্কা মিটল না৷ মিটল না যাত্রী হয়রানি৷ মিটল না বিধাননগর সল্টলেক রুটের অটোচালকদের দাদাগিরি৷

বিশ্বকর্মা পুজোর দিন নির্দিষ্ট গন্তব্যে অটো না পেয়ে রীতিমতো নাকাল হযতে হয়েছিল অফিসযাত্রীদের৷ সমস্যা মিটল না পরের দিনও৷ সেই একই গোঁ তাঁদের৷ বেশি ভাড়া না হলে তাঁরা নাকি যাবেন না৷ উলটে প্রশ্ন করা হলে, সোজা জবাব যেতে হবে না৷ অটো থেকে নেমে যান৷

অটো থেকে নেমে গেলে অটোওয়ালার সমস্যা নেই হয়তো৷ তাঁর হয়তো দুদিন ভাড়া না খাটলেও চলবে৷ কিন্তু আমরা? যাঁরা প্রতিদিন অফিস যাওয়ার নামে রীতিমতো যুদ্ধ করি? অফিস না গেলে যাদের মাসের শেষে বরাদ্দের কম জোটে, তাদের? কোনও উপায় নেই তাঁদের সামনে৷ তাই চোখ বুজে সায় দিতে হয় বেশি ভাড়ায়৷ সায় দিতে হয় অটোচালকদের অন্যায় আবদারে৷

কিন্তু কতদিন? বিক্ষোভ প্রতিবাদ করে যে কোনও লাভ হয়না, তা এতদিনে হাড়ে হাড়ে টের পেয়েছেন ১০-৫টার চাকরি করা আম জনতা৷ করুণাময়ীতে বিক্ষোভ হয়েছে৷ লাভ হয়নি৷ বিক্ষোভ দেখানো হয়েছে মঙ্গলবারও৷ তবে তাতেও যে অটোচালকদের কিছু যায় আসেনি, সেটা বিক্ষোভ ওঠার পরে টের পেলেন যাত্রীরা৷

বিক্ষোভ ওঠার পরে শুরু হল অটোচালকদের দাদাগিরি৷ তাঁরা যাবেন না৷ গেলেও রিজার্ভ করে যেতে হবে৷ ভাড়া কত? শুনলে চোখ কপালে উঠবে৷ ২০০-৩০০ টাকা৷ অবশ্য তারও কম হতে পারে৷ যাত্রী প্রতি ৫০-৬০ টাকা পেলে চারজন যাত্রী নিয়ে এগোবেন তাঁরা৷

মঙ্গলবার পুলিশকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখান যাত্রীরা৷ বচসা শুরু হয়৷ যাত্রীদের অভিযোগ ছিল জোর করে পুলিশ অটোতে তুলে দিলেও, কিছুদূর গিয়েই যাত্রীদের নামিয়ে দেওয়া হচ্ছে৷

এখন প্রশ্ন কার জোরে অটোচালকদের এত বাড়বাড়ন্ত? পুলিশকেও ডরাচ্ছে না তারা! তাহলে সমাধান কোন পথে? উত্তর আপাতত অটোর চাকায় জড়িয়ে, যে চাকা সহজে নড়বে বলে মনে হচ্ছে না৷