মুজফফরাবাদ : চিনের দাদাগিরি মেনে নিতে নারাজ পাক অধিকৃত কাশ্মীরের মানুষ। বুধবার রাতে চিনের জোর করে বাঁধ নির্মাণের বিরুদ্ধে গিয়ে প্রতিবাদে নামল পিওকে। নীলম-ঝিলম নদীর ওপর বাঁধ নির্মাণ করছে চিন। মুজজফরাবাদের বাসিন্দাদের অভিযোগ এই বাঁধ তৈরি হয়ে গেলে পানীয় জলও পাওয়া যাবে না।

মিলবে না চাষাবাদের জন্য জল। আখেরে চরম সমস্যায় পড়বে পাক অধিকৃত কাশ্মীর। পিওকের এক সমাজকর্মী আমজাদ আয়ুব মির্জার অভিযোগ একসময়ের গর্জনশীল খরস্রোতা নীলম নদী এখন একটা খালের মতো তিরতির করে বইছে। এই পরিস্থিতি মেনে নেওয়া যায় না। চিনকে বাঁধ নির্মাণ বন্ধ করতেই হবে।

উল্লেখ্য, এই বাঁধনির্মাণের সঙ্গে যুক্ত আরও দুটি প্রজেক্ট। এক কোহালা জলবিদ্যুৎ প্রকল্প ও দ্বিতীয়টি হল নীলম ঝিলম জলবিদ্যুৎ প্রকল্প। দীর্ঘদিন ধরেই পাক অধিকৃত কাশ্মীরের বাসিন্দারা এই প্রকল্পগুলির বিরদ্ধে সরব।

আমজাদ আয়ুবের অভিযোগ পাক অধিকৃত কাশ্মীরের বাসিন্দাদের কথা শোনার সময় নেই কোনও দেশেরই। পাকিস্তানও শুনছে না। ফলে চরম বিপদে পড়েছেন তাঁরা। প্রকল্পটি পুরোপুরি বাস্তবায়নের পর এটা থেকে কমপক্ষে সাড়ে চার হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের আশা করছে ইসলামাবাদ।

পাকিস্তান ও চিন এব্যাপারে একটি সমঝোতা স্মারক সই করে। এছাড়া বাঁধ নির্মাণের জন্য পাকিস্তানের পানিসম্পদ মন্ত্রক ও চীনের থ্রি জর্জেস প্রজেক্ট কর্পোরেশনের মধ্যেও একটি চুক্তি হয়েছে। উল্লেখ্য হিমালয় থেকে বয়ে যাওয়া সিন্ধু নদের উপর একটি বাঁধ প্রকল্পের পরিকল্পনা করছিল পাকিস্তান।

কিন্তু ভারত বাধা দেওয়ায় টাকা পাওয়া সমস্যা হয়ে উঠছিল। বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য এবার চিনের সহযোগিতাতেই কাশ্মীরের হিমালয় পার্বত্য অঞ্চলে সিন্ধু নদে ওই বাঁধ নির্মাণের পরিকল্পনা করছে পাকিস্তান।পাকিস্তান-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে বুঞ্জি জলবিদ্যুৎ প্রকল্প নির্মাণ করা হবে।

ওই বাঁধ তৈরিতে খরচ হবে এক হাজার ২৬০ কোটি ডলার। সাত বছরে বাঁধটি নির্মাণ করা হবে। এই বাঁধ নির্মাণ প্রসঙ্গে চিন জানিয়েছে পাক অধিকৃত কাশ্মীরে গিলগিট-বালতিস্তানে যে বাঁধ নির্মাণ করতে চলেছে চিন, তা পুরোপুরি চিন ও পাকিস্তানের মধ্যে অর্থনৈতিক লেনদেন ও পারস্পরিক বোঝাপড়ার ফসল।

অনলাইন সাংবাদিক সম্মেলনে চিনের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র ঝাও লিঝিয়ান জানান, কাশ্মীর ইস্যুতে চিনের অবস্থান স্পষ্ট। অর্থনৈতিক বোঝাপড়ার মাধ্যমেই দুদেশের সহযোগিতায় এই বাঁধ নির্মাণ হচ্ছে।

পপ্রশ্ন অনেক: নবম পর্ব

Tree-bute: আমফানের তাণ্ডবের পর কলকাতা শহরে শতাধিক গাছ বাঁচাল যারা