স্টাফ রিপোর্টার, কোচবিহার: দীর্ঘদিনের দাবি ছিল ঘাটের কাছে একটা সেতুর৷ কিন্তু সেই দাবি কোথাও গ্রহণযোগ্য হচ্ছিল না৷ তাই, কোচবিহারের ফাঁসির ঘাট সেতুর দাবিতে এবার কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে দাবি পত্র পেশ করতে চলেছে সেতুর ‘দাবি সমিতি’।

এই ব্যাপারে ফাঁসির ঘাট তোর্সা সেতু দাবি কমিটির সভাপতি কউসার আলম ব্যাপারী জানিয়েছেন, রাজ্য সরকারের কাছে এই সেতু তৈরির ব্যাপারে কোনও সদর্থক জবাব মেলেনি৷ তাই এবার তাঁরা কেন্দ্রীয় সরকারের দ্বারস্থ হবেন।

কোচবিহার শহর থেকে কোচবিহার ১ নম্বর ব্লক মাথাভাঙা ও দিনহাটার বিভিন্ন এলাকায় যোগাযোগের মাধ্যম তোর্সা নদীর উপর সড়ক সেতু। এই সেতু দিয়ে অনেকেরই ১৫ থেকে ১৬ কিলোমিটার ঘুরে কোচবিহার শহরে আসতে হয়। তাই এই সময় বাঁচানোর জন্য কোচবিহারের ফাঁসি ঘাটে চলছে নৌকা পারাপার।

প্রতিদিন কয়েক হাজার মানুষ নৌকা করে তোর্সা নদী পার হয়ে কোচবিহার শহরে যাতায়াত করেন। নৌকা দিয়ে পারাপার করা হয় মোটরবাইক ও৷ শীতের সময় জল কিছুটা কম থাকায় যাতায়াত কিছুটা সহজ হলেও বর্ষাতে চরম সমস্যায় পড়তে হয় যাত্রীদের৷ সেই সময় উত্তাল নদীতে বন্ধ থাকে এই ঘাট। শুধুমাত্র সাধারণ মানুষই নয় ছাত্র-ছাত্রী থেকে শুরু করে মুমূর্ষ রোগীর সকলকেই বেশ কিছু পথ ঘুরে কোচবিহারে আসতে হয়।

বহুদিন থেকে এই ফাঁসির ঘাটের উপর সেতু তৈরির দাবি জানিয়ে আসছেন স্থানীয়রা৷ তৈরি হয়েছে সেতু দাবি আদায়ের জন্য সংগ্রাম কমিটি। বারেবারে এই সেতুর দাবি নিয়ে রাজ্য সরকারের কাছে আবেদন করা হলেও এই বিষয়ে সরকারি প্রচেষ্টা না দেখা দেওয়ায় হতাশ আন্দোলনকারীরা।

আরও পড়ুন: দাঁড়িভিট কাণ্ডে সাসপেন্ড স্কুল পরিদর্শক! অবাক শিক্ষামহল

মুখ্যমন্ত্রীর কোচবিহার সফরের আগে এই বিষয়ে তাঁরা আবারও আবেদন করেছিলেন৷ কিন্তু এই সফর থেকেও সেতু তৈরির ব্যাপারে কোনও আশ্বাস না মেলায় এবার রাজ্য সরকারের উপর ভরসা ত্যাগ করে তাঁরা৷ এবার কেন্দ্রকেই তাঁদের সমস্যার কথা জানিয়ে সেতু আদায় করতে চাইছেন আন্দোলনকারীরা।

ফাঁসিঘাট সেতু দাবি সমিতির সভাপতি কউসার আলম ব্যাপারী বলেন, ‘‘দীর্ঘদিন থেকেই এই আন্দোলন চলছে৷ কিন্তু রাজ্য সরকার কোনও উদ্যোগ নিচ্ছে না৷ ১৪ লক্ষ মানুষ এই সেতু তৈরি হলে উপকৃত হবেন৷ কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী কোচবিহারে এসে এই বিষয়ে কোনও কথা বলেনি৷ মুখ্যমন্ত্রীর এই ব্যবহার আমাদের হতাশ করেছে৷ তাই আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি এই ব্যাপারে কেন্দ্রের কাছে দরবার করব এবং আন্দোলনকে আরও শক্তিশালী করে তুলবো৷’’