মালদহ: পণের দাবিতে গৃহবধূর উপর শ্বশুরবাড়ির লোকেদের অত্যাচারের প্রতিবাদ করতে গিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনায় মৃত্যু হল গৃহবধূর কাকার। ঘটনায় গুরুতর জখম উভয় পক্ষের প্রায় পাঁচজন। ঘটনাটি ঘটে পুরাতন মালদহর রসিলাদহ কোর্ট স্টেশন এলাকায়। গুরুতর জখম অবস্থায় আহতরা ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়। মালদহ থানা পুলিশ ঘটনার তদন্তে নেমেছ৷

জানা গিয়েছে, মৃত ব্যক্তির নাম আমিরুল ইসলাম (৪৫)। তিনি পেশায় কৃষক ও টোটো চালক। গুরুতর জখম মৃতের ভাইপো সেলিম শেখ। অপরদিকে ছেলে পক্ষের গুরুতর জখম হয়েছে নেশারুল ও মুবারক শেখ। দুই পক্ষের বাড়ি একই এলাকায়। বর্তমানে মালদহ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

মৃত আমিরুল ইসলামের ভাই নাজিরুল ইসলামের মেয়ে মমিনা বিবির সঙ্গে প্রায় আট বছর আগে বিয়ে হয় আমিরুল হকের। তাদের একটি সন্তানও রয়েছে। অভিযোগ, গত কয়েক বছর ধরে শ্বশুরবাড়িতে অতিরিক্ত পণের দাবি করে আমিরুল ও তার পরিবার। এই নিয়ে গৃহবধূর উপর মানসিক ও শারীরিক অত্যাচার শুরু করে। শনিবার রাতে ফের গৃহবধূর উপর শুরু হয় অত্যাচার। বাবার বাড়ির লোকেরা খবর পেয়ে মেয়েকে মারধরের প্রতিবাদ করতে যায়। এই নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিবাদ শুরু হয়। বিবাদ থেকে সংঘর্ষ বাধে।

উভয় পক্ষ লাঠি ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে একে অপরের উপর চড়াও হয়। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের পাঁচ জন জখম হয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। প্রথমে জখমদের উদ্ধার করে নিয়ে যাওয়া হয় স্থানীয় মৌলপুর গ্রামীণ হাসপাতালে। সেখান থেকে চার জনকে মালদহ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। কিন্তু গৃহবধূর কাকা আমিরুল ইসলামের অবস্থা আশঙ্কাজনক থাকায় তাকে কলকাতা নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কিন্তু নিয়ে যাওয়ার পথে মৃত্যু হয় তাঁর। গৃহবধূর পরিবারের পক্ষ থেকে মালদহ থানায় অভিযোগ দায়ের করে৷ অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তদন্তে নেমেছ৷