স্টাফ রিপোর্টার, বাঁকুড়া: ধান, আলু সবজির ‘দেড়া দাম’ ও ঋণ মুক্তির দাবিতে সারা রাজ্যের সাথে বাঁকুড়াতেও প্রতীকী পথ অবরোধ করল সারা ভারত কিষাণ মহাসভা বাঁকুড়া জেলা কমিটি। সোমবার সিপিআই(এম-এল) লিবারেশনের এই কৃষক সংগঠনের সদস্যরা বাঁকুড়া-দুর্গাপুর সড়কের উপর মাকুড়গ্রামে রাস্তার উপর আলু, টম্যাটো, কপি সহ অন্যান্য কৃষিজাত ফসল ফেলে রেখে বিক্ষোভ অবস্থান ও পথ অবরোধ করেন।

প্রায় এক ঘন্টার এই অবরোধে আটকে পড়ে বহু যাত্রীবাহী ও পণ্যবাহি গাড়ি। ফলে বড়দিনের আগে সপ্তাহের প্রথম কাজের দিনে সমস্যায় পড়েন নিত্যযাত্রীরা৷ সারা ভারত কিষাণ মহাসভার এই অবরোধ আন্দোলনে ‘কৃষক বিরোধী মোদি সরকার’ হটানোর দাবিতে সরব হন সংগঠনের নেতা কর্মীরা।

তাদের দাবি, কৃষকরা তাদের রক্তঘামে তৈরী ফসলের দাম না পেয়ে রাস্তায় ফেলে দিচ্ছেন। মহারাষ্ট্রের কৃষক ৫০ পয়সা কেজি দরে পেঁয়াজ বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন। আর সেই পেঁয়াজ শহরাঞ্চলে বিক্রি হচ্ছে ২৫ থেকে ৩০ টাকায়। চাষী উৎপাদিত ফসলের দাম পাচ্ছেন না, অথচ কম দামে সেই কৃষিজ দ্রব্য কিনে ফড়ে, মহাজন আর মিল মালিকরা লক্ষ কোটি টাকা মুনাফা করে নিচ্ছেন।

কৃষক সংগঠনের নেতারা বলেন, ‘মোদি সরকার দেশের কৃষকদের সঙ্গে চরম বেইমানি করেছে’। কৃষি কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী জমি, যন্ত্রপাতির হিসেব ধরে ধানের প্রকৃত সহায়ক মূল্য ক্যুইন্ট্যাল প্রতি ২৩০০ টাকা হওয়ার কথা। অথচ কেন্দ্র তা না করে ১৭৫০ টাকা ঘোষণা করলো।

আজও দেশের ৪৮ শতাংশ মানুষ কৃষির উপর নির্ভরশীল। অথচ সর্বত্র সেচের সুব্যবস্থা নেই। দৈনন্দিন কৃষকের ব্যবহার্য্য জিনিসের দাম বাড়ছে, অথচ কৃষকের উৎপাদিত ফসলের দাম নেই। ফলে একপ্রকার বাধ্য হয়েই কৃষক পরিবারের সন্তানেরা সস্তার ‘পরিযায়ী শ্রমিকে’ পরিণত হচ্ছেন, যারা সস্তার শ্রমের বিশাল বাজার। এই অবস্থায় কেন্দ্রের মোদি সরকারের বিরুদ্ধে গণআন্দোলন ছাড়া কোন পথ নেই বলে সংগঠনের নেতৃত্বের তরফে দাবি করা হয়েছে।

একই সঙ্গে এদিনের পথ অবরোধ থেকে আগামী ৮-৯ জানুয়ারি ট্রেড ইউনিয়ন গুলির ডাকে ৪৮ ঘন্টা সারা ভারত সাধারণ ধর্মঘট সর্বাত্মক করার ডাক দেওয়া হয়।

সিপিআই (এম-এল) লিবারেশন এর বাঁকুড়া জেলা সম্পাদক বাবলু বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘আমরা এদিন মোট পাঁচ দফা দাবীতে পথ অবরোধ করেছিলাম। প্রতি পঞ্চায়েত এলাকায় ধান কেনার শিবির করতে হবে। কৃষকের ঋণমুক্তি ঘটাতে হবে, সমস্ত গ্রামীণ শ্রমিকদের নিজের এলাকায় কাজের ব্যবস্থা করতে হবে ও তিন মাসের বিদ্যুতের বিল না পাঠিয়ে তা প্রতিমাসে পাঠাতে হবে।’

একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন ‘এক ঘন্টার আগেই স্থানীয় পুলিশের প্রতিশ্রুতি মতো তারা অবরোধ তুলে নিয়েছেন। পুলিশের পক্ষ থেকে তাদের দাবিপত্র যথাস্থানে পৌঁছে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে’ বলে তিনি জানান।