সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়, কলকাতা: একদিকে স্লোগান উঠল ‘গো ব্যাক মোদী’, অপরদিকে চলছে কভার ড্রাইভ, লেগ গ্ল্যান্স, ফ্লিকের বন্যা। বল হাতে কেউ তখন হরভজন, কেউবা দুসরায় ওস্তাদি দেখাচ্ছে। এমনভাবেই প্রতিবাদ জানাল ওরা। এমনভাবে প্রতিবাদ করা যায় তা আগেই দেখিয়েছিল যাদবপুরের পড়ুয়ারা কিন্তু আন্দোলনের ভাষা যখন চরমে তখন কিভাবে ঠান্ডা মেজাজে ক্রিকেট খেলে প্রতিবাদ করা যায় তা দেখাল সেই যাদবপুরের পড়ুয়ারা। একটা স্ট্রেট ড্রাইভ করলেন আনিস। বলটা সোজা গিয়ে পড়ল মোদীকে বিক্ষোভের ভাষায় তুলোধনা করা প্রতিবাদীদের মধ্যে। বোলার বললেন ‘ওরে আস্তে মার’।

আনিসকে জিজ্ঞাসা করা হল একদিকে আন্দোলন, অন্যদিকে ক্রিকেট। এভাবে কিছু কি বলতে চাইছেন তারা? আনিস বললেন, ‘খেলাটা প্রতীকী। খেলাটা শুরু হল এবার। এই খেলা এখন কলকাতা দেখছে, এপার সারা ভারত দেখবে। এই খেলায় গা জ্বালা করবে মোদী আর তার সঙ্গীদের’। কথা বলতে বলতেই ব্যাট করতে শুরু করে দিলেন। এবার ফ্লিক। মেরেই বললেন, ‘মাঠের বাইরে মোদী’। লাল পাঞ্জাবী পরে এক প্রতিবাদী ব্যাটসম্যান মারলেন লেগ গ্ল্যান্স। বল গিয়ে পড়ল ফুটপাথের উপরে এটিএম কাউন্টারের সামনে। মনে হল রবি শাস্ত্রীর কমেন্ট্রি ভেসে আসছে কানে। শুধু ভাষায় একটু পরিবর্তন ‘মোদী’জ হেড গোজ পাস্ট দ্য ফিল্ডার লাইক অ্যা ট্রেস অফ বুলেট’। ওপর প্রান্ত থেকে টপ স্পিন। ব্যাটসম্যান মারতে গেলেন। মিস। আবারও মনে হল ক্রিকেট কমেন্ট্রি ভেসে আসছে কানে।

এবার যেন হর্ষ বোগলে বললেন, ‘মোদী ইউ মিস আই হিট’। এভাবেই মেট্রো চ্যানেল মাতল প্রতিবাদ আর ক্রিকেটের মিশ্রনে। এক অন্যরকম ভাবে বেরিয়ে এল প্রতিবাদের ভাষা। শুধু রবিবার নয় শনিবার কয়েকটি পোস্টারের লেখাও ছিল খেলার ভাষায়। লেখা ছিল বাঙালির সেরা খেলা ফুটবল। তাই মোদীকে বলের মতোই লাথি মেরে গোলে পাঠিয়ে দিক বাঙালি। এর আগে ভারত বনধের দিনে একইরকম ভাবে বনধ পালন করেছিল যাদবপুরের পড়ুয়ারা। সেবার আবার শুধু ক্রিকেট নয় , ফুটবল দাবাও যোগ হয়েছিল।

প্রধানমন্ত্রীর বঙ্গ সফরের দ্বিতীয় দিনে ধর্মতলায় অব্যাহত ছিল নাগরিক ও ছাত্র বিক্ষোভ। রবিবার ফের উত্তেজিত হয় ধর্মতলা চত্বর। শনিবারের রাতভর বিক্ষোভের পর আজও ‘গো ব্যাক মোদী’ স্লোগানে মত্ত ছিল ধর্মতলা। কালো পতাকা, কালো বেলুন, ‘‌গো ব্যাক মোদী’‌, সিএএ–এনআরসি বিরোধী ব্যানার, ফেস্টুন, প্ল্যাকার্ড হাতে বিক্ষোভ দেখায় আন্দোলনকারীরা।