হাওড়া: দেশে বসবাস করা প্রত্যেক মানুষের সমান অধিকার। অথচ সিএএ, এনআরসি-র নামে নরেন্দ্র মোদীর সরকার সেই অধিকার কেড়ে নিতে চাইছে। এর প্রতিবাদে জাতীয় পতাকা হাতে নিজেদের দাবি আদায়ে সরব হলেন সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষ।

হাওড়ার পিলখানায় মৌলানা আজাদ চকে ধর্নায় সামিল হয়েছেন সেখানকার মানুষ। এই ধর্না চলছে গত দশ দিন ধরে। রবিবার ২৬ জানুয়ারি প্রজাতন্ত্র দিবসের সকালেও সিএএ, এনআরসি-র প্রতিবাদে চলছে শ্লোগান। অবস্থান বিক্ষোভ। মহিলা এমনকি শিশুরাও জাতীয় পতাকা হাতে আজাদি চেয়ে পথে নেমেছে।

উল্লেখ্য, এনপিআর, এনআরসি, সিএএ-র প্রতিবাদ জানিয়ে উত্তর হাওড়ার পিলখানায় মৌলানা আজাদ চকে লাগাতার ধর্নায় বসেছেন সেখানকার মানুষ। স্থানীয় মহিলারা শিশুদের সঙ্গে নিয়েই সেই ধর্না মঞ্চে হাজির থাকছেন। ধর্না শুরু হয়েছে গত ১৭জানুয়ারি থেকে। তারা মনে করছেন সিএএ একটি কালা আইন। যে আইন মানুষের মধ্যে বিভেদ ঘটানোর একটা আইন। সেই আইন যতক্ষণ না প্রত্যাহার করা হবে ততক্ষণ পর্যন্ত তারা এই ধর্না অবস্থান চালিয়ে যাবেন সেখানে। সিএএ থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য সেই মঞ্চ থেকে আজাদীর স্লোগানও তুলছেন তারা। দশ দিন ধরে চলছে লাগাতার এই বিক্ষোভ কর্মসূচি।

এখানকার ধর্না মঞ্চ এখন যেন এক টুকরো শাহীনবাগের আকার নিয়েছে। গত কয়েকদিন থেকে জি টি রোডের ধারে এখানে লাগাতার মঞ্চ বেঁধে চলছে ধর্না প্রদর্শন। সকাল থেকে রাত অবধি তারা সিএএ, এনআরসি এবং এনপিআর এর বিরুদ্ধে বিক্ষোভ প্রদর্শনে অংশ নিয়েছেন। সামিল হয়েছেন এলাকার মহিলা ও শিশুরাও। হাততালির সঙ্গে মহিলারা ডাফলি বাজিয়ে মুর্হুমুর্হু শ্লোগান দিয়ে চলেছেন। শ্লোগান উঠেছে হল্লা বোল সিএএ, হল্লা বোল এনআরসি, হল্লা বোল এনপিআর।

শীতের কনকনে ঠান্ডাকে উপেক্ষা করেই এখন বাড়ির সব কাজ ফেলে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মহিলারা খোলা আকাশের নিচে বিক্ষোভ প্রদর্শন করছেন। বয়স্কা মহিলা থেকে শুরু করে শিশু কোলে মায়েদের মঞ্চে অথবা রাস্তায় বসে বিক্ষোভে সামিল হতে দেখা যাচ্ছে।