কলকাতা: জেলায় জেলায় কাশ্মীরের জঙ্গি হানার ঘটনায় পথ মিছিল করছে স্কুল পড়ুয়া, সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে শাসক দল৷ পুলওয়ামারে পাকমদতপুষ্ট জঙ্গি হানার প্রতিবাদে সরব হয়েছে বাংলার সর্বত্র৷

বর্ধমান:  শুক্রবার বিকাল থেকে বর্ধমান শহরের রাস্তায় রাস্তায় গর্জে উঠল সাধারণ মানুষ৷ ছাত্রছাত্রী, যুব সমাজ সহ রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে এদিন পাকিস্তানের জঙ্গিবাহিনীর এই নারকীয় ঘটনায় পালটা জবাব দেওয়ার দাবিতে সোচ্চার হলেন৷ এদিন দুপুর থেকেই দফায় দফায় বর্ধমান শহর জুড়ে শোক মিছিল করা হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রী থেকে রাজনৈতিক দলগুলি সকলেই এদিন মোমবাতি নিয়ে মিছিল করে শহরের বিভিন্ন প্রান্তে। তারই মাঝে এদিন বিকাল থেকেই বর্ধমান শহরের রেলস্টেশন এলাকায় বর্ধমান মইনুদ্দিন মেমোরিয়াল ও ভারত সংঘের উদ্যোগে ষ্টেশন এলাকায় একদিকে করা হল যজ্ঞ এবং পবিত্র কোরাণ পাঠ। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর কুশ পুতুল দাহ করে গর্জে উঠলেন আয়োজকরা৷ সেই সঙ্গে তাঁরা বলে ওঠে পাকিস্তানকে আর রেয়াত করা নয়, যোগ্য জবাব দেওয়ার দিন এসে গিয়েছে।

হাওড়া: নিহত সেনা জওয়ানদের স্মরণে মোমবাতি জ্বেলে শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাল হাওড়া জেলা তৃণমূল৷ হাওড়ার মঠবাগান তৃণমূল ভবনের সামনে শহিদ বেদিতে মাল্যদান করা হয়৷ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন দলের সদর সভাপতি অরূপ রায়, সাংসদ প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়, বিধায়ক জটু লাহিড়ী, তৃণমূল নেতা সুপ্রীতি চট্টোপাধ্যায়, সুশোভন চট্টোপাধ্যায়, অরূপেশ ভট্টাচার্য সহ নেতৃবৃন্দ।

এদিন সন্ধ্যায় কদমতলা পাওয়ার হাউসের সামনে থেকে শহিদ স্মরণে এক মোমবাতি মিছিলের আয়োজন করে হাওড়া জেলা যুব কংগ্রেস। মিছিল চ্যাটার্জীপাড়ায় গান্ধী মূর্তির সামনে এসে শেষ হয়। যুব নেতা রঞ্জিত দেবনাথ, বিশ্বজিৎ সরকার, সত্যম বাগানি, প্রভাত সাউয়ের নেতৃত্বে এই মিছিল হয়। এদিন মোমবাতি মিছিল ও কালা দিবস পালন করা হয়।

রায়গঞ্জ: কাশ্মীরের পুলওয়ামার ভয়াবহ জঙ্গি হামলায় মৃত শহিদের শ্রদ্ধা জানাতে জেলা জুড়ে কর্মসূচি গ্রহণ করল উত্তর দিনাজপুর প্রেস ক্লাব। শুক্রবার রায়গঞ্জের দেহশ্রী মোড়ে মোমবাতি প্রজ্বলনের মাধ্যমে দেশের শহিদ জওয়ানদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করেন সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষেরা৷ সেখান থেকে একটি মৌন মিছিল দেহশ্রী মোড়ের ক্ষুদিরাম মূর্তির পাদদেশ থেকে শুরু হয়ে শহরের পথ পরিক্রমা করে বিদ্রোহী মোরে গান্ধী মূর্তির পাদদেশে এসে শেষ হয়।

বালুরঘাট: শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে পথে নামল শিশুরাও। শুক্রবার দুপুরে বালুরঘাটে প্রায় শ’দুয়েক স্কুল পড়ুয়ারা মৌন মিছিলে যোগদান করে৷ তাদের সঙ্গে পা মেলালেন শিক্ষক শিক্ষিকারাও৷ এদিন বালুরঘাট ললিত মোহন আদর্শ বিদ্যালয়ের এই শিশুরা বুকে কালো ব্যাচ পড়ে মৌন মিছিল করে। শহরের পুরসভা ও থানা মোড় সহ বিভিন্ন জনবহুল এলাকা দিয়ে তা পরিক্রমা করে ফের স্কুলে গিয়ে শেষ হয়।

তমলুক: কাশ্মীরের পুলওয়ামারে জওয়ানের মৃত্যুর ঘটনায় ক্ষোভে ফুঁসছে পূর্ব মেদিনীপুর জেলার মানুষ। নিহত জওয়ানদের আত্মার শান্তি কামনায় শুক্রবার জেলার ব্লকে ব্লকে মোমবাতি মিছিল করে বিভিন্ন সংগঠন। এদিন তমলুকের হাসপাতাল মোড়ে, মহিষাদলে, হলদিয়ায়, কাঁথির পাশাপাশি বাথুয়াড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রাণকেন্দ্র পিরিজখাঁবাড় স্ট্যান্ডে সংগঠনের পক্ষ থেকে নিহত শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে দীপ দান করা হয়।

এদিন ওই সংগঠনের পক্ষ থেকে মোমবাতি মিছিল করে শহিদদের শ্রদ্ধা জানানো ও এই ঘটনার জন্য নরেন্দ্র মোদীর পদত্যাগের দাবি জানানো হয়েছে। অপরদিকে বাথুয়াড়ি থেকে পিরিজখাঁবাড় পর্যন্ত বেশ কিছু যুবক ও ছাত্র-সহ গ্রামবাসীরা কয়েক কিলোমিটার মিছিল করে৷

বাঁকুড়া: পুলওয়ামায় সিআরপিএফের কনভয়ে আত্মঘাতি সন্ত্রাসবাদী হানায় শহিদ জওয়ানদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে মোমবাতি মিছিলে পথ হাঁটল বাঁকুড়া। এই ঘটনার তীব্র নিন্দা ও শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে শুক্রবার জেলার উত্তর থেকে দক্ষিণের জঙ্গল মহল, এমনকি এক সময়ের মল্ল রাজাদের রাজধানী বিষ্ণুপুরেও পথ হাঁটলেন মানুষ।

প্রায় এক হাজার মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে শোক মিছিল শ্রদ্ধার সঙ্গে অমর শহিদদের শ্রদ্ধা জানানো হয়। মিছিলে অংশ নিয়ে প্রাক্তন সেনা কর্মী ভক্ত রঞ্জন সৎপতি এই ঘটনার প্রেক্ষিতে কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে দৃঢ় পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান।

গড় রাইপুর হাই স্কুলের ছাত্র ছাত্রীরা এদিন মুখে কালো কাপড় বেঁধে এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে শোক মিছিল করে। রাইপুর বাজার পরিক্রমা শেষে তারা মোমবাতি জ্বালিয়ে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানায়। সারেঙ্গাতেও বেশ কয়েকটি সংগঠন এদিন মৌন মিছিলের আয়োজন করে। এছাড়াও বাঁকুড়া শহরে বাম ছাত্র যুব সংগঠন এসএফআই এবং ডিওয়াইএফআই এর পক্ষ থেকেও এদিন মোমবাতি মিছিলের আয়োজন করা হয়। এছাড়াও বড়জোড়া ব্লকের বেলিয়াতোড়ে এলাকার ছাত্র যুব সাধারণ মানুষের উদ্যোগে শহীদ স্মরণ ও মোমবাতি মিছিলে পথ হাঁটেন অসংখ্য মানুষ।