স্টাফ রিপোর্টার, বালুরঘাট: চিকিৎসকের গাফিলতিতে এক মহিলার মৃত্যুকে ঘিরে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়াল বালুরঘাট সুপারস্পেশালিটি হাসপাতালে৷ ঘটনার তদন্তের পাশাপাশি অভিযুক্ত চিকিৎসকের শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করে মৃতার পরিবার৷

জানা গিয়েছে, বালুরঘাট থানার পারপতিরাম এলাকার গর্ভবতী গৃহবধূ ঝুমা মালো। প্রসব বেদনা বাড়লে রবিবার সকালে পরিবারের লোকেরা তাঁকে অত্যাধুনিক পরিকাঠামো সম্পন্ন বালুরঘাট সুপারস্পেশালিটি হাসপাতালে ভরতি করান। অভিযোগ সকালে ভরতি করান হলেও প্রসূতি বিভাগের অন-ডিউটি চিকিৎসক তাঁকে দেখতে আসেন বেলা ১১টা নাগাদ। মৃতার স্বামী রণজিৎ চৌধুরীর অভিযোগ, ভরতির চার ঘন্টা পরে চিকিৎসক এসে তাঁর স্ত্রীকে পরীক্ষা করে বলে যান যে সবকিছু স্বাভাবিকই আছে। তারপর দুপুরের পর স্ত্রীর অবস্থা খারাপ হলে চিকিৎসককে খবর দেওয়া হলেও তিনি আসেননি।

এরপরই ঝুমার রক্তক্ষরণ শুরু হয়৷ অবশেষে দীর্ঘ কয়েক ঘন্টা বাদে রাতে চিকিৎসক এসে সিজার করে কন্যা সন্তান প্রসব করান। কিন্তু এদিকে অবস্থা আশঙ্কাজনক হয়ে গেলে তাঁকে সিসিইউতে স্থানান্তরিত করে রক্ত যোগার করার কথা বলেন চিকিৎসক। রাতে হাসপাতালের ব্লাডব্যাংকে গেলে সেখানে ডোনারের বিনিময়ে ছাড়া রক্ত দিতে অস্বীকার করেন ডিউটিতে থাকা কর্মীরা। অনেক চেষ্টায় রক্ত যোগার করতে পারলেও তাঁকে আর বাঁচানো যায়নি বলে জানান মৃতার স্বামী। চিকিৎসক তথা হাসপাতালের গাফিলতিতেই স্ত্রীর মৃত্যু হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেছেন।

হাসপাতালের সুপার ডাঃ তপন বিশ্বাস অবশ্য গাফিলতির অভিযোগ মানতে নারাজ। তিনি জানিয়েছেন, চিকিৎসক ও অন্যান্য কর্মীরা শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে গিয়েছেন প্রসূতিকে বাঁচানোর। পরিবারের লোকেরা অভিযোগ করায় পুরো ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। তদন্তে অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে অবশ্যই যথোপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি আশ্বাস দিয়েছেন।