তিমিরকান্তি পতি, বাঁকুড়া: ‘কাগজ আমরা দেখাব না’ স্লোগান লেখা সম্বলিত প্ল্যাকার্ড, ফেস্টুন নিয়ে এনআরসি ও সিএবি বিরোধী মৌন মিছিল করল ‘বাঁকুড়া জেলা জনসাধারণের ন্যায় বিচার মঞ্চ’।

মঙ্গলবার নিজেদের ‘একটি অরাজনৈতিক সংগঠন’ দাবি করা এই মঞ্চের পক্ষ থেকে বাঁকুড়া পৌরসভার ১৯ নম্বর ওয়ার্ড থেকে মৌন মিছিল শুরু হয়ে সারা শহর পরিক্রমা করে। জাতীয় পতাকা হাতে অসংখ্য মানুষের হাতে এদিনের এই মিছিলে ‘কাগজ আমরা দেখাব না’ লেখা প্ল্যাকার্ডের পাশাপাশি ‘নরেন্দ্র মোদি মুর্দাবাদ’, ‘জয় হিন্দ’, ‘সাম্প্রদায়িক শক্তি নিপাত যাক’ সহ ‘রক্ত দিয়ে কেনা মাটি কাগজ দিয়ে নয়’ লেখা প্লাকার্ডের ছবি দেখা গিয়েছে। আর এই মিছিলকে কেন্দ্র করে জেলাস্তরে রাজনৈতিক টানাপোড়েন শুরু হয়েছে। কংগ্রেস-তৃণমূল এই মিছিলকে সমর্থণ করলেও তীব্র বিরোধিতা করেছে বিজেপি।

জেলা কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক অরুপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথায়, ‘রাজনৈতিক দলাদলির উর্দ্ধে উঠে আমরা এই মিছিলে পথ হেঁটেছি। নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় সরকার ‘সংবিধানকে হত্যা করছে’ দাবি করে তিনি বলেন, এনআরসি, সিএএ আমরা মানছি না। এর বিরুদ্ধে যেই ডাকুক সেই সমস্ত কর্মসূচীতে কংগ্রেস যোগ দেবে। সংবিধান বাঁচাতে ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় দল, দলীয় পতাকা ও রং না দেখে সকলকে এগিয়ে আসতে হবে বলেও তিনি জানান।

তৃণমূল নেতা ও বাঁকুড়া পৌরসভার ভাইস চেয়ারম্যান দিলীপ আগরওয়াল এই মিছিলকে সমর্থণ করে বলেন, কেন্দ্রীয় সরকারের জনবিরোধী নীতি, ধর্মের নামে দেশ ভাগের চক্রান্ত ও সংবিধান লঙ্ঘন করে লোকসভায় শুধুমাত্র সংখ্যাগরিষ্ঠতার জেরে একের পর এক দেশ বিরোধী সিদ্ধান্তের বিরোধিতায় মানুষ পথে নেমেছেন। দলীয়ভাবে তারাও কেন্দ্রের বিরুদ্ধে এই মিছিলকে সমর্থণ জানিয়ে পথে নেমেছিলেন বলে তিনি জানান।

এদিনের মিছিল প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে বিজেপি সাংসদ ডাঃ সুভাষ সরকার তৃণমূল ও কংগ্রেসকে ‘ভাই-ভাই’ বলে কটাক্ষ করে বলেন, অনুপ্রেবেশকারীদের সমর্থনকারীরাই এই মিছিলে হেঁটেছে। বিরোধিদের ছারপোকার সঙ্গে তুলনা করে তিনি বলেন, ‘বেগম স্প্রে দেওয়ার পরে ছারপোকারা সব নড়েচড়ে হাঁটতে শুরু করেছে’। তৃণমূল-কংগ্রেস যত বেশী এনআরসি-র বিরোধিতা করবে ততবেশী বিজেপির পক্ষে তা লাভজনক হবে বলেও তিনি দাবি করেন।