মুম্বই : আইনের বিচারে দেহ ব্যবসা কখনই কোনও অপরাধ নয়। তবে জোর করে কাউকে এই পেশায় ঠেলে দেওয়া বা পতিতালয় চালানো অবশ্যই অপরাধ। এমনই পর্যবেক্ষণ বম্বে হাইকোর্টের। হাইকোর্ট জানিয়েছে কোনও ব্যক্তিকে দেহব্যবসার সঙ্গে যুক্ত হওয়ার জন্য প্রলোভন দেখানোও অপরাধের তালিকায় পড়ে।

কিন্তু কোনও একজন প্রাপ্তবয়স্ক নারী, স্বইচ্ছায় যদি এই পেশায় আসেন, তবে তা কখনই অপরাধ নয় বলে এদিন জানিয়েছে বম্বে হাইকোর্ট।

আদালতের পর্যবেক্ষণ যে কোনও প্রাপ্তবয়স্ক মহিলার নিজের পছন্দমত পেশা বেছে নেওয়ার অধিকার রয়েছে। এই কাজের জন্য কাউকে শাস্তি দেওয়া যায় না। এই মর্মে রায় দিয়ে হাইকোর্ট জানায়, যে তিন মহিলা যৌন কর্মীকে আটকে রাখা হয়েছে, তাঁদের দ্রুত মুক্তি দিতে হবে।

উল্লেখ্য, দিন কয়েক আগেই মহারাষ্ট্রের মালাডে একটি মধুচক্রের খোঁজ পেয়ে সেখানে তল্লাশি চালায় পুলিশ। গ্রেফতার করা হয় তিন মহিলা ও নিজামুদ্দিন খান নামের এক ব্যক্তিকে। পরে জানা যায়, ওই তিন মহিলা বেদিয়া সম্প্রদায়ের, যারা একটা নির্দিষ্ট বয়সের পরে এই সম্প্রদায়ের মহিলাদের দেহ ব্যবসায় পাঠানো হয়।

সেই প্রেক্ষিত সামনে রেখে এই রায় ঘোষণা করে বম্বে হাইকোর্ট। বৃহস্পতিবার হাইকোর্টের বিচারপতি পৃথ্বীরাজ চৌহানের বেঞ্চ জানায়, দেহ ব্যবসা ইমমরাল ট্রাফিক (প্রিভেনশন) অ্যাক্ট, ১৯৫৬ আইন মোতাবেক অপরাধ বলে গণ্য করা হবে না।

এর আগে, ম্যাজিস্ট্রেটের আদালত জানায়, এই তিন মহিলাকে মহারাষ্ট্রের একটি হোমে রাখা হোক। দায়রা আদালতও ম্যাজিস্ট্রেটের রায় বহাল রাখে। কিন্তু শনিবার বম্বে হাইকোর্ট জানায়, ওই তিন মহিলার বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগ নেই। দেহব্যবসা কোনও অপরাধ নয়। ওই তিন মহিলা প্রাপ্তবয়স্ক। তাই তাঁদের ছেড়ে দিতে হবে।

এদিন হাইকোর্ট জানায়, এখানে প্রমাণিত হয়নি যে ওই তিন মহিলা জোর করে কাউকে দেহ ব্যবসায় নামিয়েছেন বা কাউকে প্রলোভন দেখিয়ে এই পেশায় যুক্ত করেছেন। তাই তাঁদের বিরুদ্ধে কোনও অপরাধ প্রমাণিত হয় না। তাঁরা কোনও পতিতালয়ও চালাচ্ছেন না। ফলে এই তিন মহিলাকে ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশ দেয় আদালত।

পচামড়াজাত পণ্যের ফ্যাশনের দুনিয়ায় উজ্জ্বল তাঁর নাম, মুখোমুখি দশভূজা তাসলিমা মিজি।