নয়াদিল্লি: জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া কংগ্রেস ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেওয়া সিদ্ধান্তে পরিবারের বিবাদ নানা ভাবে মেটার সম্ভাবনা দানা বাধছে ৷ ভাইপোর এভাবে ফেরা নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করতে দেখা গিয়েছে তাঁর দুই পিসি বসুন্ধরা এবং যশোধারাকে। একদিকে যেমন বসুন্ধরা তাঁকে স্বাগত জানিয়েছেন তেমনই আবার যশোধরা তাঁর আসাকে ‘ঘর ওয়াপসি’ বলে মন্তব্য করেছেন।

রাজনীতির কুরুক্ষেত্রে ঠাকুমা বিজয়রাজে সিন্ধিয়া এবং পিসিরা একদিকে থাকলেও বাবা মাধবরাও তথা তাঁর ছেলে জ্যোতিরাদিত্য অন্য পক্ষে অবস্থান করেছেন৷ পিসিদের সঙ্গে প্রকাশ্যে তেমন কোনও তিক্ততা কখনও প্রকাশ্যে না এলেও এই সম্পর্কটা তেমন মসৃণ ছিল না। বিশেষত মাধবরাওয়ের মৃত্যুর পরে সম্পত্তি নিয়ে পিসিদের সঙ্গে সম্পর্কে জটিলতা দেখা যায়। যা আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে।

জ্যোতিরাদিত্যর অভিযোগ, প্রথমে নগদ এবং গয়নার বিনিময়ে সম্পত্তির উপর থেকে পিসিরা দাবি ছাড়তে রাজি বলে জানালেও পরে তাঁরা সেই অবস্থান বদল করেন ৷ যদিও বসুন্ধরাদের পাল্টা অভিযোগ, জ্যোতিরাদিত্যর কথার কোনও ভিত্তি নেই। বিশেষত ২০১৯ সালের শেষের দিকে এই মামলায় আসা একটি রায়ে কিছুটা চাপেই পড়তে হয়েছিল জ্যোতিরাদিত্যকে।

তবে এবার জ্যোতিরাদিত্যের দলবদলের নেপথ্যে এই বিবাদের মীমাংসার কোনও ভূমিকা আদৌ আছে কি না তা নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছে ৷ সূত্রের খবর, বিজেপি নাকি দু পক্ষকে এক টেবিলে বসিয়ে এই সম্পত্তি নিয়ে সংঘাত মেটানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে ৷ এদিনের এই রটনা কতটা সত্য তা ভবিষ্যতে বোঝা যাবে ৷

প্রসঙ্গত, জ্যোতিরাদিত্য এদিন দল ছাড়লেও, কংগ্রেসের সঙ্গে সিন্ধিয়া পরিবারের বিবাদের ইতিহাস প্রায় অর্থ শতাব্দী পুরনো। গত শতাব্দীর ৭১ সালের নির্বাচনে ইন্দিরার বিজয় রথ থামিয়ে দিয়ে ছিলেন বিজয়া রাজে সিন্ধিয়া তাঁর এলাকায়।সেখানে শুধু তিনি নিজেই জেতেননি,পাশাপাশি জিতিয়ে ছিলেন অটলবিহারী বাজপেয়ীকে এবং পুত্র মাধবরাও সিন্ধিয়াকে। যদিও পরবর্তীকালে মাধবরাও কংগ্রেসের ‘হাত’ ধরে মন্ত্রীও হন। তবে মাঝে কংগ্রেস ছেড়ে আলাদা দল গড়লেও ফের তা কংগ্রেসে মিশিয়ে দিয়েছিলেন মাধবরাও। এ বার অবশ্য অবহেলার দোহাই দিয়ে কংগ্রেস ছাড়লেন জ্যোতিরাদিত্য।

Proshno Onek II First Episode II Kolorob TV