নয়াদিল্লি: পাকিস্তানের জেলে রয়েছেন ভারতীয় জওয়ান হাবলদার ধরম পাল সিং। এমনটাই দাবি তাঁর স্ত্রী’র। কিন্তু পাকিস্তানের কাছে তাঁর বিষয়ে বারবার জানতে চাওয়া হলেও কোনও উত্তর মেলেনি।

বুধবার পঞ্জাব ও হারিয়ানা হাইকোর্টে কেন্দ্রের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে যে পাকিস্তান সরকার দূতাবাসের মাধ্যমে যোগাযোগ করার অনুমতি দিচ্ছে না। এমনকি লিখিত কোনও আবেদনেরও উত্তর দিচ্ছে না। চলতি বছরেও ৭ ও ২৫ জুলাই পাকিস্তানকে এই বিষয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে।

নিখোঁজ জওয়ান ধরম পাল সিং-এর স্ত্রী পাল কাউরের করা একটি পিটিশনের পরেই প্রকাশ্যে আসে পুরো বিষয়টি। তিনি আদালতের কাছে আবেদন করেন যাতে কেন্দ্র আন্তর্জাতিক আদালতে যায় এই বিষয়টি নিয়ে। কুলভূষণের উদাহরণ দিয়ে এই আবেদন করেন তিনি। পাকিস্তানের সঙ্গে এবিষয়ে গুরুত্ব দিয়ে কথা বলা যাবে বলে জানিয়েছেন অ্যাডিশনাল সলিসিটর জেনারেল সত্য পাল। সতীশ কুমার নামে একজন জানিয়েছেন, তিনি ধরম পাল সিং-এর সঙ্গে একই জেলে কাটিয়েছে দু’বছর। তিনি যে যুদ্ধবন্দি, সেই প্রমাণও রয়েছে তাঁর কাছে।

শিখ রেজিমেন্টের সদস্য ছিলেন ধরম পাল সিং। তাঁর স্ত্রী আদালতে জানিয়েছেন, তাঁর স্বামী বাংলাদেশ সীমান্তে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে লড়াই করেছেন। কেন্দ্রীয় সরকার ও ভারতীয় সেনা তাঁকে শহিদ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। কারণ ১৯৭১-এর ৫ ডিসেম্বর থেকে তিনি নিখোঁজ। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী পাল কাউরকে একটি চিঠি লিখে সমবেদনাও জানিয়েছিলেন। কিন্তু তাঁর দেহ পাওয়া যায়নি, তাঁর শেষকৃত্যও হয়নি। এমনকি নিখোঁজ সেনাদের নামের তালিকাতেও নেই তাঁর নাম। পাল কাউর অবশ্য আরও জানিয়েছেন যে তাঁর স্বামী একাই নন, অনেকের সঙ্গেই ঘটেছে এমন ঘটনা।