স্টাফ রিপোর্টার, বারাকপুর: অবশেষে প্রোমোটার গৌতম দে সরকারের খুনের প্রধান অভিযুক্তকে গ্রেফতার করল পুলিশ৷ আমডাঙায় লাগাতার রাজনৈতিক সন্ত্রাস সহ অন্তত তিনটি খুনের ঘটনায় জড়িত সার্প শুটার অভিযুক্ত সাহাবুদ্দিনকে গ্রেফতার করল উত্তর ২৪ পরগণার পুলিশের বিশেষ তদন্তকারী দল৷

উত্তর ২৪ পরগণার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অভিজিত বন্দোপাধ্যায় জানিয়েছেন, ২ ফেব্রুয়ারি মধ্যমগ্রামের একটি সেলুনে খুন করা হয় প্রোমোটার গৌতম দে সরকারকে। প্রোমোটিং সংক্রান্ত দ্বন্দ্বেই প্রাণ যায় তাঁর। গৌতম সরকারের খুনের অন্যতম সার্প সুটার ছিল সাহাবুদ্দিন ওরফে সাবু, যার আমডাঙ্গাতে শেষ পঞ্চায়েত নির্বাচনে লাগাতার রাজনৈতিক সন্ত্রাসে তার প্রত্যক্ষ যোগ রয়েছে বলে জানা গিয়েছে৷

পড়ুন: শহরের আকাশে গভীর নিম্নচাপ! ১৪ ডিগ্রির নীচে নামতে পারে তাপমাত্রা

শুক্রবার তাকে বারাসাত আদালতে তুলবে পুলিশ। তাকে পুলিশি হেফাজত চাওয়া হবে। এতদিন আমডাঙ্গার বড়গাছিয়া বিল এলাকায় আত্মগোপন করে ছিল অভিযুক্ত শাহাবুদ্দিন। গৌতম সরকারের খুনে অভিযুক্ত ১৪ জনের মধ্যে সাহাবুদ্দীন সহ এই নিয়ে মোট ১৩ জন গ্রেফতার হল৷ যদিও মূল অভিযুক্ত টুবাই মোদক ওই ঘটনায় এখনও অধরা।

পুলিশ গৌতম সরকারের খুনের ঘটনায় তদন্তে নেমে জানতে পারে নিহতকে বেশ কিছু বছর আগে দুবার গুলি চালিয়ে খুন করার চেষ্টা করেছিল৷ সেই সময়ে প্রাণে বেঁচে গিয়েছিলেন গৌতম দে সরকার। কিন্তু ২ ফেব্রুয়ারির তাঁর আর শেষ রক্ষা হয়নি৷ ঘটনার দিন সকালে দশটা চল্লিশ নাগাদ বঙ্কিম পল্লীর একটি সেলুনে এসে অন্তত বারোজন লাগাতার গুলি চালায়৷ ঘটনা স্থলে ঢোকার আগে বেশ কয়েকটি বোমা চার্জ করা হয়। কার্যত মৃত্যু নিশ্চিত করে ঘটনাস্থল ছাড়ে আততায়ীরা।

পড়ুন: “ধর্মনিরপেক্ষতার প্রমান দিতে বাবরি নিয়ে মুখ খুলুন মোদী”

বারাসাত নারায়ণা হাসপাতালে তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল৷ সেখানে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করে৷ সেই সময় পরিবার ও এলাকাবাসীরা যশোর রোড অবরোধ করে। মধ্যমগ্রাম থানা ঘেরাও করে। পরিবারের পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট ভাবে অন্তত বারোজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ হলেও মূল অভিযোগ ছিল টুবাই মোদকের বিরুদ্ধে। যদিও তাঁদের বক্তব্য ঘটনাস্থলে চোদ্দো জন আততায়ী ছিল। এদের মধ্যে অনেকেই ভাড়াটে খুনি। তাদের মধ্যে অন্যতম ছিল আম ডাঙ্গার শাহাবুদ্দিন৷

নিহত গৌতম দে সরকারের ভাই কার্তিক দে সরকার প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে জানান, গৌতম দে সেলুনে ছিলেন৷ সে সময় ছটি গাড়িতে জনা পনের দুস্কৃতী ঢুকে পড়ে। টুবাই মোদকের ঘনিষ্ঠ জনৈক কুরু বোস তাকে চিনিয়ে দেয়৷ এরপর সেলুনের শাটার বন্ধ করে শুরু হয় এলোপাথাড়ি গুলি। অন্তত বারো থেকে পনেরো রাউন্ড গুলি চলেছিল। শাহাবুদ্দিনকে গ্রেফতার উত্তর ২৪ পরগণা জেলা পুলিশের বড় সাফল্য বলেই মনে করছে প্রশাসনিক মহল।