স্টাফ রিপোর্টার, বর্ধমান: চিকিৎসা করাতে বহু রোগীর পরিবারকে দালাল রাজের শিকার হতে নয়৷ তাও আবার খোদ সরকারি হাসপাতালে৷ ইতিমধ্যে এই দালালরাজ দূর করতে ব্যাপক প্রচার শুরু হয়ে গিয়েছে গোটা পূর্ব বর্ধমান জেলা জুড়ে৷ শুধু জেলা হাসপাতালগুলিতে নয়৷ প্রচার চলছে মহকুমা হাসপাতাসগুলিতেও৷

ইতিমধ্যে বর্ধমান মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে এই দালালরাজের খপ্পরে পড়া এক রোগীর পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে ঠিকাদার নিযুক্ত এক রিজার্ভ কর্মীকে আটক করেছে পুলিশ৷ ধৃতের নাম উত্তম দলুই৷ বাড়ি বর্ধমানের বাহিরসর্বমঙ্গলাপাড়া এলাকায়।

অভিযোগকারী বীরভূমের সাঁইথিয়ার ২ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা দুর্গা বাড়ুই৷ প্রায় দুই সপ্তাহ আগে ৬৫ বছরের বৃদ্ধা দুর্গা দেবীকে বর্ধমান মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের জরুরী বিভাগে ভরতি করান তার পরিবার৷ তাঁর পরিবারের অভিযোগ, ভরতির পর থেকে নানা সময়ে কখনও এমআরআই, কখনও এক্স-রে, কখনও বা ড্রেসিং করানোর নাম করে তাদের কাছ থেকে টাকা নেয় অভিযুক্ত উত্তম দলুই।

এরপর আয়ার নাম করেও তাঁদের কাছ থেকে ৮০০ টাকা চায় উত্তম। শুধু তাই নয় দুর্গা দেবীর ওয়ার্ডে ঢুকে তিনি হম্বিতম্বিও শুরু করেন। সেই সময় ওই রোগীর পাশের বেডে থাকা অন্য একটি রোগীর পরিবারের লোকজন উত্তম দলুইকে কেন টাকা চাওয়া হচ্ছে তা জানতে চান। এই নিয়ে উভয়ের মধ্যে বচসা বাধে।

ঘটনার পর সোমবার দুর্গা বাড়ুই-এর পরিবার বর্ধমান মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পে গিয়ে উত্তম দলুই-এর বিরুদ্ধে প্রায় সাড়ে চার হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগ দায়ের করেন। এরপরই পুলিশ ওই ঠিকাদার নিযুক্ত কর্মীকে আটক করেন। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ওই কর্মী স্বীকার করেছেন তিনি ওই রোগীর পরিবার কাছ থেকে ৩০০০ টাকা নিয়েছেন।