স্টাফ রিপোর্টার, বাঁকুড়া: অসেচ সেবিত এলাকাগুলিকে সহজেই সেচের আওতায় আনতে খরা প্রবণ বাঁকুড়া জেলায় শুরু হয়েছে ‘আদমি’ প্রকল্পের কাজ। রাজ্য সরকারের ‘জল ধর জল ভরো’ প্রকল্পের পাশাপাশি ‘আদমি’ প্রকল্পের কাজও দ্রুত গতিতে চলছে বলে প্রশাসনের দাবি।

যদিও স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, যে সব অঞ্চলে এই প্রকল্পের কাজ দ্রুত বাস্তবায়ন দরকার সেই সব অঞ্চলে এই কাজ এখনও সেভাবে শুরু হয়নি৷ ফলে স্থানীয়রা ক্ষোভও প্রকাশ করেছেন। যদিও জেলা প্রশাসন বিষয়টি মানতে নারাজ।

বৃহস্পতিবার বাঁকুড়া জেলার ১৮টি সমিতি মিলিতভাবে ছাতনার বড়শী গ্রামে ‘বিশ্ব জল দিবস’ পালন করেছে। ওইদিন জল সম্পর্কে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে একটি শোভাযাত্রা ও বিশ্ব জল দিবসের তাৎপর্যের আলোকে একটি মনজ্ঞ অনুষ্ঠানেরও আয়োজন করা হয়েছিল। ‘আদমি’ প্রকল্পে এখন জেলায় মোট ৯৪টি প্রকল্পের কাজ চলছে।

এর মধ্যে ৩৮টি প্রকল্প ইতিমধ্যে গ্রামবাসীদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। এর ফলে, জেলায় নতুন করে ২৪৭৫ হেক্টর জমি সেচ সেবিত হওয়ায় চাষযোগ্যের আওতায় এসেছে বলে প্রশাসনের দাবি৷ যার মধ্যে ছাতনা ব্লকেই রয়েছে ১৪৫০ হেক্টর জমি নতুন করে সেচের আওতায় এসেছে৷

কি এই ‘আদমি’ প্রকল্প? প্রশাসন সূত্রের খবর: রিভার লিফিটিং ইরিগেশন(আরএলআই) সিস্টেমে স্থানীয় নদীগুলি থেকে জল তোলা, আবার এস,এফ,এম,আই,এস প্রকল্পে সোলার সিস্টেমে বড়ো ইঁদারা থেকে জল তোলা বা বড় দিঘিতে জল সংরক্ষণ করে জমিকে সেচের আওতায় আনার কাজ চলছে জেলা জুড়ে। তাই, বাঁকুড়ার মতো রুখা,সুখা,খরা প্রবণ এলাকায় এই প্রকল্প নতুন করে বাঁচার রসদ যোগাচ্ছে এলাকার চাষিদের।

রাজ্য ক্ষুদ্র সেচ দফতরের উদ্যোগে এই প্রকল্পের ফলে সারা বছর জল থাকা বিভিন্ন নদী, খাল সংলগ্ন অকৃষি জমিগুলি সহজেই সেচের আওতায় আসতে পারে। মূলত চাষাবাদের উপর নির্ভরশীল পরিবার গুলির এক ফসলি চাষের জমি সহজেই দোফসলি বা তিন ফসলি হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।