অরুণাভ রাহারায়, কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গ কবিতা আকাদেমির আয়োজনে শুক্রবার সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত হল বুদ্ধদেব বসু স্মারক বক্তৃতা। ‘কবিতার নবত্ব’ বিষয়ে বললেন প্রখ্যাত অধ্যাপক স্বপন চক্রবর্তী। তাঁর বক্তব্য শুনতে অবনীন্দ্র সভাঘরে কবিতা অনুরাগীদের উপস্থিত ছিল চোখে পড়ার মতো।

বাংলা সাহিত্যের বিস্তৃত পরিসরে বুদ্ধদেব বসু (১৯০৮-১৯৭৪) এক উল্লেখযোগ্য জ্যোতিষ্কের নাম। জার্মান ভাষার কবি রিলকে, রাশিয়ান কবি পাস্তেরনাক, ফরাসি কবি বোদলেয়ারের কবিতা তিনি বাংলা ভাষায় অনুবাদ করেন। তরুণ কবিদের কবিতার প্রতি তাঁর ছিল প্রবল আগ্রহ। বুদ্ধদেব বসু ‘কালের পুতুল’ বইয়ে সেই সময়ের তরুণ কবি সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের কবিতা নিয়ে আলোচনা করেন। এসব বাদ দিলেও বাংলা ভাষার একজন কবি হিসেবে বুদ্ধদেবের প্রধান পরিচয়।

এবার বুদ্ধদেব বসু স্মারক বক্তৃতার আয়োজন করল পশ্চিমবঙ্গ কবিতা আকাদেমি। ২০১৬ সালে বিধানসভা নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্যে কবিতা আকাদেমি গঠন করেন। পশ্চিমবঙ্গ কবিতা আকাদেমির সভাপতির দায়িত্ব পান কবি সুবোধ সরকার। সেই থেকে কবিতা কেন্দ্রিক নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে কবিতা আকাদেমি। প্রতি বছর রবীন্দ্র সদন চত্বরে ঘটা করে কবিতা উৎসব পালিত হয়। সারা ভারতের বহু কবি সেই উৎসবে অংশগ্রহণ করেন।

অধ্যাপক স্বপন চক্রবর্তীর বুদ্ধদেব বসু স্মারক বক্তৃতায় মুগ্ধ সাহিত্যপ্রেমীরা। স্বপন চক্রবর্তী একই সঙ্গে বাংলা ও ইংরেজি ভাষার পণ্ডিত। তিনি ডি. ফিল অর্জন করেন অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। অধ্যাপনা করেছেন রামকৃষ্ণ আবাসিক মহাবিদ্যালয়, নরেন্দ্রপুর ও যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে। এখন তিনি প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়ের মানবিক বিদ্যা বিভাগের ডিস্টিংগুইশড প্রফেসর।