স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: শক্তি চট্টোপাধ্যায়ের বিখ্যাত কবিতা ‘অবনী বাড়ি আছো’-র অনুকরণে লেখা অন্য একটি কবিতা ‘নলিণী বাড়ি আছো’ নিয়ে আজ হঠাৎ-ই সরগরম হয়ে ওঠে ফেসবুক।

বাংলাদেশের চট্টগ্রামের বাসিন্দা মহীবুল আজিজ এই চুরির দায়ে অভিযুক্ত হয়েছেন।

মহীবুল আজিজের প্রকাশিত কবিতার বই ‘শ্রেষ্ঠ কবিতা’য় স্থান পেয়েছে ‘নলিণী বাড়ি আছো’ নামের লেখাটি। বিশিষ্ট কবি শক্তি চট্টোপাধ্যায়ের এই পরিচিত কবিতাটি এই ভাবে নকল হতে দেখে হতাশ দুই বাংলার বহু কবি।

অনেকে আবার ‘অবনী বাড়ি আছো’-র প্যারোডি মনে করছেন মহীবুল আজিজের কবিতাটিকে। তিনি নিজেও ঋণ স্বীকারের কথা উল্লেখ করেছেন। প্যারোডির রেওয়াজ বহুদিনের। প্যারোডি নিয়ে বিস্তর লেখালিখিও হয়েছে নানা ভাষায়। অনেকের দাবি, মহীবুল আজিজ হয়তো বাস্তব পরিস্তিতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে জেনেশুনেই শক্তির কবিতাটি অনুকরণ করেছেন। কিন্তু তা’বলে তো নিজের ‘শ্রেষ্ঠ কবিতা’ বলে দাবি করা বইটিতে অন্য কারওর কবিতার অনুকরণে লেখাকে স্থান দেওয়া যায় না! আর এখানেই মহীবুল আজিজের অপরাধ হয়েছে বলে আঙুল তুলেছে দুই বাংলা।

কবি শক্তি চট্টোপাধ্যায়ের স্ত্রী মীনাক্ষী চট্টোপাধ্যায় kolkata24x7.com-কে জানিয়েছেন, “বিখ্যাত কবিতাটির এমন নির্লজ্জ নকল ভাবা যায় যায় না। আমার মনে হয়েছে এটা নিতান্ত বোকামি।” শক্তি চট্টোপাধ্যায়ের মেয়ে তিতি চট্টোপাধ্যায় জানিয়েছেন– “বিষয়টা খুব হাস্যকর। বাবার সবচেয়ে জনপ্রিয় দুটি কবিতার মধ্যে একটি ‘অবনী বাড়ি আছো’। এইভাবে নকল! এই ঘটনায় আমি হতভম্ব হয়েছি।”

জানা গিয়েছে, মহীবুল আজিজ চট্টোগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক। একজন অধ্যাপক কীভাবে শক্তি চট্টোপাধ্যায়ের বিখ্যাত কবিতাটির এমন ভাবে নকল করে ফেললেন– সেটা ভাবেও অবাক হয়ে যাচ্ছেন কেউ কেউ।

শক্তির কবিতার নকল হতে দেখে ফেসবুকে অনেকেই প্রতিবাদে সরব হয়েছেন। তাঁরা জানতে চেয়েছেন– সুনীলের ‘কেউ কথা রাখেনি’, জয়ের ‘ঘুমিয়েছো, ঝাউপাতা?’, কিংবা রবীন্দ্রনাথের যে-কোনও কবিতার কিছু শব্দ বদলে দিলেই কি সেটা নিজের কবিতা হয়ে যাবে?