ধর্ষণে অভিযুক্ত চার

স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: সপ্তাহ খানেক আগেই ঘটেছে সেই ভয়ঙ্কর ঘটনা। ২৬ বছরের তরতাজা তরুণীকে ধর্ষণ করে নৃশংসভাবে পুড়িয় দেওয়া হয়েছে। কী শাস্তি হবে অভিযুক্তদের? আওয়াজ উঠেছে অনেক। কেউ বলেছেন, ফাঁসি। কেউ বলেছেন, গণপিটুনিতে শেষ করে দেওয়া হোক ওদের। শুক্রবার সকালে সেই ধর্ষকদের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ল। ভোররাতে সেই অভিশপ্ত হাইওয়েতেই পুলিশের এনকাউন্টারে মৃত্যু হয়েছে চার অভিযুক্তের।

পুলিশ জানিয়েছে, তারা পালানোর চেষ্টা করছিল। তখনই লক্ষ্য করে গুলি করা হয়। পশু চিকিৎসক সেই তরুণীর বাবা প্রতিক্রিয়া দিতে গিয়ে বলেছেন, অবশেষে আমার মেয়ের আত্মা শান্তি পেল। তেলেঙ্গানা পুলিশকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন তিনি। তরুণীর বোন বলেন, ‘একটা উদাহরণ হয়ে থাকবে।’ বিশিষ্ট অধ্যাপক তথা সমাজচিন্তক মীরাতুন নাহার বলেন, “এনকাউন্টারে মৃত্যু কাঙ্ক্ষিত ছিল না। কেননা, অভিযুক্তরা সব সময় অপরাধী হয় না। যতক্ষণ না প্রমাণ, তথ্য ইত্যাদি পাওয়া যাচ্ছে, আদালতের সিদ্ধান্ত হচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত অভিযুক্ত অপরাধী হিসেবে গণ্য হয় না।”

তিনি আরো বলেন, “অভিযুক্তদের যদি এইভাবে এনকাউন্টারে প্রাণ দিতে হয়, তাহলে নির্দোষীরও শান্তি পাওয়ার সম্ভাবনা থেকে যায়। সেই সম্ভাবনার কথা মাথায় রেখেই এই মৃত্যু আমার কাছে ভাল লাগছে না। কোনও মৃত্যুই ভাল লাগে না। প্রাণদণ্ড আমি সমর্থন করি না। এই চারজনের মধ্যে যদি একজনও নির্দোষ থেকে যায়, তাহলে সেটা চিন্তার বিষয়।” পাশাপাশি মৃত পশু চিকিৎসকের পরিবারের জন্য সমবেদনা প্রকাশ করেন মীরাতুন নাহার। এমন সম্ভাবনাময় তরুণীকে প্রাণ দিতে হল– তাঁর জন্য চিন্তিত হয়ে রয়েছি। এটা আমার কাছে ভয়ানক চিন্তার বিষয়।

মীরাতুন নাহারের কথায়, “রাষ্ট্র ব্যবস্থার পক্ষ থেকে শিবির তৈরি করা দরকার। যে শিবিরে পুরুষদের সংশোধন করা খুব জরুরি। শিবিরের মধ্যে দিয়ে পুরুষদের বোঝানো খুবই জরুরি যে, তুমি তোমার সহযাত্রীদের এতদিনেও চিনতে পারলে না কেন? তারা কি কেবলই তোমার কাছে ভোগের শিকার? এসব প্রশ্নের মুখোমুখি ফেলে তাদেরই মুখ দিয়ে বলানো– কী করনীয় আর কী করনীয় নয়।