অরুণাভ রাহারায়, কলকাতা: ফের আক্রান্ত অধ্যাপক। হীরালাল পাল কলেজের পর এবার শিক্ষক নিগ্রহের ঘটনা ঘটল খোদ যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে। বাংলা বিভাগের অধ্যাপক আব্দুল কাফিকে কষিয়ে থাপ্পড় প্রাক্তন ছাত্রের। ঘটনাটি ঘটে শুক্রবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের চার নম্বর গেটের সামনে। অভিযুক্ত ছাত্রের নাম রাজেশ সাঁতরা। তার বাড়ি আরামবাগে। ২০১৫ সালে যাদবপুর থেকে পাশ করে ওই ছাত্র। গোটা ঘটনায় হতবাক শিক্ষা মহল। ঘটনার নিন্দায় সরব হলেন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র তথা জয়পুরিয়া কলেজের অধ্যাপক অর্ণব সাহা।

তিনি kolkata24x7-কে বলেন, “কাফি ছাত্র বয়স থেকে আমার বন্ধু। খবরটা যখন প্রথমে শুনি তখন অত্যন্ত খারাপ লাগে। খোঁজখবর নিয়ে জানতে পারলাম এর পেছনে কোনও রাজনৌতিক উদ্দেশ্যে নেই। সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত আক্রোশ থেকে গোটা ব্যাপারটা ঘটেছে। ফেসবুকে মেসেজের উত্তর না-পেয়ে কাফির ওপর চড়াও হয়েছে। ছেলেটি মানসিক ভারসাম্যহীন এবং অবসাদগ্রস্ত। বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে কাফির হামলা করে ছেলেটি। এর আগে বাংলা বিভাগের প্রধান অধ্যাপক বরেন্দ্র মণ্ডলের ঘরে গিয়ে তাকে কদর্য ভাষায় গালিগালাজ করে। আমি রাজেশ সাঁতরার শাস্তি এবং মানসিক চিকিৎসা আশা করছি।”

দু’দিনও হয়নি কোন্নগর হীরালাল পাল কলেজের বাংলার অধ্যাপক ড. সুব্রত চট্টোপাধ্যায় একদল ছাত্রের হাতে আক্রান্ত হয়েছেন। অভিযোগের তীর তৃণমূল ছাত্র পরিষদের দিকে। যদিও ঘটনার পরে সুব্রত বাবুকে ফোন করে পাশে থাকার বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ঘটনাক্রমের ভিত্তিতে পশ্চিমবঙ্গে শিক্ষক নিরাপত্তার বিষয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

অর্ণব সাহার কথায়, “পশ্চিমবঙ্গে অনেক দিন ধরেই রাজনৈতিক হামলা হচ্ছে শিক্ষদের ওপরে। এমন ঘটনা অত্যন্ত নিন্দনীয়। সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে শিক্ষকদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করা উচিৎ বলে মনে করি। অতি সম্প্রতি হীরালাল পাল কলেজে সুব্রত চট্টোপাধ্যায় আক্রান্ত হন। ঘটনাটি শুনে সঙ্গে সঙ্গে মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী তাকে ফোন করেন। দোষীদের চিহ্ণিত করেন এবং তাঁদের উপযুক্ত শাস্তি হবে বলে কথা দেন। ফলে বোঝাই যাচ্ছে, সরকার নড়েচড়ে বসেছে। এটা পজেটিভ দিক। আশা করা যায় আগামী দিনে এমন ঘটনা ঘটবে না।”

অন্যদিকে অধ্যাপক আব্দুল কাফির আক্রান্ত হওয়ার ঘটনায় কড়া সমালোচনায় সরব হন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরাও। বাংলার অধ্যাপক আব্দুল কাফি বিশ্ববিদ্যালয়ে বেশ জনপ্রিয় তাঁর পড়ানোর গুণের জন্য। সূত্রের খবর, রাজেশ সাঁতরা নামের ওই ছাত্র ABVP-র সঙ্গে যুক্ত। আব্দুল কাফি মুসলিম বলেই তাঁর হামলা হয়েছে বলে মনে করছেন কেউ কেউ। তবে অর্ণব সাহার মতে, এই ঘটনার সঙ্গে কোনও রাজনৈতিক যোগাযোগ নেই।