স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: সিনেমায় তিনি একজন দক্ষ ভিলেন। সেই তিনিই বাস্তবে পড়লেন ঘোর বিপদে৷ তাই সুবিচার পেতে দ্বারস্থ হলেন কলকাতা হাইকোর্টের।

ঘটনার সূত্রপাত ২০১২ সালে৷ মামলার বয়ান অনুযায়ী ছবি নির্মাতা রমেন বণিকের সাথে অভিনেতা শুভঙ্কর চক্রবর্তীর আগে থেকেই পরিচয় ছিল৷ আর সেই সুবাদে ২০১২ সালে ‘হেঁটেছি স্বপ্নের হাত ধরে’ সিনেমা তৈরি নিয়ে যুক্ত হন দুজনে৷

নির্মাতা রমেন বণিকের সাথে শুভঙ্কর বাবুর একটি চুক্তি হয় এবং তাতে বলা হয় শুভঙ্কর বাবু সিনেমায় ভিলেনের অভিনয় করবেন৷ পাশাপাশি, সিনেমা তৈরির জন্য টাকাও দেবেন অর্থাৎ সিনেমা প্রযোজনার সঙ্গে যুক্ত থাকবেন তিনি৷ কথা হয়, সিনেমা রিলিজ হওয়ার পর দুজনে চুক্তি মতো লভ্যাংশ পাবেন।

সেই মতো ৩ লাখ ৬০ হাজার টাকা দেন শুভঙ্কর বাবু। ২০১৪ সালে সিনেমা মুক্তি পায়। এবং তারপর থেকে অশান্তির সূত্রপাত। শুভঙ্কর বাবু চুক্তিমতো যখন রমেন বাবুর কাছে টাকা চান, সেই সময় শুভঙ্কর বাবুর বিরুদ্ধে বেলেঘাটা থানায় অভিযোগ করেন রমেন বাবু।

সেই অভিযোগের প্রেক্ষিতে পুলিশ শুভঙ্করবাবুকে গ্রেফতার করে৷ পরে অবশ্য শিয়ালদহ আদালতে জামিন পেয়ে যান। এর পর ২০১৭ সালে চুক্তি ভঙ্গ এবং প্রাণে মেরে ফেলার হুমকির অভিযোগে সিনেমা নির্মাতা রমেন বণিকের বিরুদ্ধে বেলেঘাটা থানায় এবং লালবাজারে অভিযোগ দায়ের করেন শুভঙ্কর৷

কিন্তু পুলিশ কিছুই করেননি বলে অভিযোগ তাঁর৷ মঙ্গলবার মামলা চলাকালীন শুভঙ্কর বাবুর আইনজীবী অনুভব কাঞ্জিলাল এই অভিযোগ তোলেন হাইকোর্টে৷ তিনি অভিযোগ করে বলেন ২০১৮ সালের জুন মাসে ফের সিনেমা নির্মাতা রমেন বণিকের বিরুদ্ধে বেলেঘাটা থানায় এবং লালবাজারে অভিযোগ দায়ের করলেও কোন কাজ হয়নি।

জুনের দ্বিতীয় সপ্তাহে কলকাতা হাইকোর্টে পুলিশি নিস্ক্রিয়তা মামলাও দায়ের করেন শুভঙ্কর৷ এদিন মামলার শুনানি চলাকালীন সরকারি আইনজীবী অসীম গঙ্গোপাধ্যায় বলেন শুভঙ্কর বাবুর অভিযোগ করার পর পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।

মঙ্গলবার বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী মামলা শোনার পর নির্দিষ্ট কিছু নির্দেশিকা জারি করেন৷ তিনি বলেন এটা অপরাধযোগ্য৷ তাই এফআইআর করতে হবে। বিচারপতি মামলাকারীর আইনজীবী অনুভব কাঞ্জিলালকে বলেন আপনারা শিয়ালদহ আদালতে মামলা করুন। তিনি এফআইআর করার নির্দেশ দেবেন।