কলকাতা : করোনার প্রকোপ বাড়ার জন্য নির্বাচন কমিশন সন্ধ্যা ৭টা থেকে পরের দিন  সকাল ১০টা পর্যন্ত সমস্ত রকমের রাজনৈতিক মিছিল, সভা নিষিদ্ধ করল।

ক্রমেই রাজ্যের করোনা পরিস্থিতি ভয়ানক জায়গায় পৌঁছে যাচ্ছে। এর ফলে নির্বাচনের মধ্যেই প্রচারে ছেদ টানতে কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিল নির্বাচন কমিশন। শুধু পঞ্চম দফায় নয়, বাকি সবকটি দফায় ৭২ ঘণ্টা আগে প্রচার শেষ করতে হবে বলে নির্দেশিকা জারি করল নির্বাচন কমিশন । এছাড়া প্রচারের সময় নিয়েও কিছু পরিবর্তন ও নিষেধাজ্ঞা অন্য নির্বাচন কমিশন। শীতলকুচির ঘটনা মাথায় রেখে আগেই পঞ্চম দফা নির্বাচনের ৭২ ঘণ্টা আগে প্রচার শেষ করার নির্দেশ জারি করেছিল নির্বাচন কমিশন। এবার পঞ্চম দফা পরবর্তী ৩ দফার নির্বাচনের ক্ষেত্রেও ৭২ ঘণ্টা আগেই শেষ করতে হবে রাজনৈতিক দলের প্রচার। এই নিয়ম শুক্রবার থেকেই চালু হয়ে গেল। ফলে শুক্রবার সন্ধ্যায় ভবানীপুরে তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভা বাতিল হয়ে গেল।

শনিবার ১৭ এপ্রিল রাজ্যে ৪৫টি বিধানসভা কেন্দ্রে পঞ্চম দফার ভোট। তার ৭২ ঘণ্টা আগেই প্রচার বন্ধ হয়েছে। এরপরের দফা ২২ এপ্রিল। তার প্রচার শেষ করতে হবে ১৯ এপ্রিল সন্ধে সাড়ে ৬টার মধ্যেই। তার পরের দফা ২৬ এপ্রিল। সেই দফার প্রচার কর্মসূচি শেষ করতে হবে ২৩ এপ্রিল সন্ধে সাড়ে ৬ টার মধ্যে। শেষ দফার ক্ষেত্রেও নিয়ম কার্যকর থাকছে।

এছাড়াও প্রচারের সময় নিয়েও কড়া সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন। কমিশনের তরফে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, সন্ধে ৭ টা থেকে সকাল ১০ টা পর্যন্ত কোনও প্রচার কর্মসূচি করা যাবে না। এই নিয়ম চালু হচ্ছে শুক্রবার সন্ধ্যা থেকেই। সেই নিয়ম অনুসারেই শুক্রবার সন্ধে ৭টার পর অমিত শাহ ও জেপি নাড্ডার সভা বাতিল করা হল। বেলেঘাটা অঞ্চলে বাঁধা হয়ে গিয়েছিল মঞ্চ। সেখান থেকেই ঘোষণা করা হয় কর্মসূচি বাতিল করার কথা। বাতিল হয়ে গেলো ভবানীপুরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভা।

কমিশনের এই সিদ্ধান্ত সম্পর্কে কথা বলতে গিয়ে, তৃণমূল কংগ্রেস নেতা সৌগত রায় বলেন, “কমিশন একসঙ্গে শেষ তিন দফা ভোট করালে পারত। আমরা সেটাই বলেছিলাম।সেটা করা হলো না।” সৌগতবাবুর অভিযোগ, “নির্বাচন কমিশন ভাল ভোট করাতে পারেনি, বিজেপির কথাই শুনে চলে কমিশন। কমিশনের কাজে পক্ষপাত নজরে পড়ছে, যেটা নির্বাচন কমিশনের মতো সংস্থার কাছে কাম্য নয়।”

রাজ্য প্রশাসনের তরফেও করোনা পরিস্থিতিতে কতগুলি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বলা হয়েছে কেন্দ্রীয় বাহিনীর প্রত্যেকের আরটিপিসিআর টেস্ট করাতে হবে।গতবছর করোনা পরিস্থিতি যখন খুবই ভয়াবহ হয়ে ওঠে, তখন সরকারি হাসপাতালের পরিকাঠামো বাড়ানো হয়। অবারও সরকারি হাসপাতালের পরিকাঠামো ২০ শতাংশ বাড়ানো হবে বলে রাজ্য প্রশাসন সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বেসরকারি হাসপাতালের পরিকাঠামো ২৫ শতাংশ বাড়ানো হবে। পুলিশ হাসপাতালগুলির একাংশ সেফ হোম হিসেবে ব্যবহার করা হবে। হোম আইসোলেশনে চিকিৎসার ব্যবস্থা হবে অডিও ভিস্যুয়ালের মাধ্যমে। সেন্ট্রাল মেডিক্যাল স্টোর টানা ২৪ ঘণ্টা খোলা রাখা হবে।

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.