সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়, হাওড়া: ‘মুখ পুড়েছে মমতার’। রাজ্যে বিজেপির ফল ভালোর দিকে। গেরুয়া শিবিরের সুসময়ে এমনই প্রতিক্রিয়া জানালেন হাওড়ার সেই প্রিয়াঙ্কা শর্মা। স্পষ্ট জানালেন , ‘মানুষ পরিবর্তন চেয়েছিল। তার উত্তর মিলছে।’ জেল হাজত থেকে মুক্তির পরেও রাজ্য সরকারের কাছে ক্ষমা চাইতে রাজি ছিলেন না। আজ যেন আরও দৃঢ় ছিল বিজেপি যুব মোর্চা নেত্রীর গলা।

১৬ মে মিম কাণ্ডে জড়িয়ে পড়ার পর জেল থেকে ছাড়া পাওয়ার পর প্রিয়াঙ্কা শর্মা বলেছিলেন, কোনওভাবেই ক্ষমা চাইবেন না। ঠিক এক সপ্তাহ আগে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে ছাড়া পেয়েছিলেন প্রিয়াঙ্কা।

আরও পড়ুন: মমতাকে আরও জোরে রাম ধ্বনি দেওয়ার হুঁশিয়ারি যুব মোর্চার

আজ রাজ্য বিজেপির সুখের দিনে তিনি বললেন , “প্রথমত বলব আমি স্বাভাবিক ভাবেই খুব খুশি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজের মুখ নিজে পুড়িয়েছেন। আগামী বিধানসভা নির্বাচনে চ্যালেঞ্জ আরও কড়া হবে তা স্পষ্ট। আর এটাও বলব যে মানুষ বিজেপিকে ভালোবাসছে। ভোট না করতে দিয়ে উনি পঞ্চায়েতে মানুষের আওয়াজকে আটকে রেখেছিলেন। এখন সেই আওয়াজ স্পষ্ট হচ্ছে।”

মিম প্রসঙ্গ উঠতেই তিনি আবারও একই কথা বললেন। প্রিয়াঙ্কার কথায়, “উনি তো প্রধানমন্ত্রী মোদীর বিরুদ্ধে এতকিছু বলছেন, তাহলে তো ওঁকেও গ্রেফতার করা উচিত। ওনার সমর্থকরাও প্রধানমন্ত্রীর নামে বিশ্রী কথা বলেন। ওদেরওতো
গ্রেফতার করা উচিৎ।”

১২ মে সোশ্যাল মিডিয়ায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিকৃত ছবি পোস্ট করায় প্রিয়াঙ্কাকে গ্রেফতার কড়া হয়েছিল। নিজের ফেসবুক টাইমলাইনে প্রিয়াঙ্কা চোপড়া ও নিক জোনাসের ছবির সঙ্গে ফটোশপ করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবিকে বিকৃত করে পোস্ট করার অভিযোগ উঠেছিল তাঁর বিরুদ্ধে। বাড়ি থেকেই প্রিয়াঙ্কা শর্মাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তাঁকে প্রথমে দুই সপ্তাহের বিচারবিভাগীয় হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।

আরও পড়ুন: ১৯শেই ফিনিশ, দিদির স্লোগান হল বুমেরাং

হাওড়া সিটি পুলিশের সাইবার সেলের পক্ষে জানানো হয়েছিল, হাওড়ার দাশনগর থানায় বিজেপির যুব মোর্চার নেত্রী প্রিয়াঙ্কা শর্মার বিরুদ্ধে সাম্প্রদায়িক বিধিনিষেধ লঙ্ঘনের অভিযোগ করা হয়। বিভাস হাজরা তৃণমূল কর্মী প্রিয়াঙ্কা শর্মার বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন। বিভাস হাজরার অভিযোগ ছিল, রাজ্যের জন্য যিনি নিরলস কাজ করেন, সেই মুখ্যমন্ত্রীর ভাবমূর্তি কালিমালিপ্ত করার চেষ্টা হয়েছে। তাই তিনি পুলিশে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছিলেন, চেয়েছিলেন কঠোর শাস্তি।

সুপ্রিম কোর্ট পরিস্থিতির সামঞ্জস্য রেখে জানিয়েছিল, প্রিয়াঙ্কা ক্ষমা চাইলে জামিন দেওয়া হবে। জামিন পেয়ে অবশ্য ক্ষমা চাওয়ার উল্টো পথে হেঁটেছিলেন প্রিয়াঙ্কা।