নয়াদিল্লি: তিনি চেয়েছিলেন৷ কিন্তু, শেষ পর্যন্ত মোদীর প্রতিপক্ষ হিসাবে নিজের বোনকে এগিয়ে দিতে পারেননি রাহুল গান্ধী৷ বারাণসী থেকে হাতের হয়ে লড়বেন অমর রাই৷ কেন হঠাৎ রণে ভঙ্গ দিল কংগ্রেস? জল্পনার মাঝেই এবার মুখ খুললেন প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বঢরা নিজে৷

কংগ্রেসের পূর্ব উত্তরপ্রদেশের দায়িত্বপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদিকা বারাণসী কেন্দ্রে ভোটে না লড়ার কারণ হিসাবে তুলে ধরেছেন দলের মতামতই৷ তিনি জানিয়েছেন, ‘‘দলের হয়ে রাজ্যের ৪১টি কেন্দ্রের দায়িত্বে রয়েছি৷ ফলে কেবল একটি কেন্দ্রে লড়লে সেখানেই মনোনিবেশ করতে হত৷ তাই বারাণসী থেকে আমি প্রার্থী হইনি৷’’

আরও পড়ুন: দেশদ্রোহিতার শিক্ষা বিজেপির থেকেই পেয়েছেন শত্রুঘ্ন: মাজিদ মেমন

বুয়া-বাবুয়া জোট করার পরপরই স্পষ্ট হয়ে যায় ১৯শের ফাইনালে উত্তরপ্রদেশের মহাজোটে সামিল হচ্ছে না কংগ্রেস৷ তারপরই সংগঠনকে চাঙ্গা করতে মাস্টার স্ট্রোক দেন রাহুল৷ পূর্ব উত্তরপ্রদেশের দায়িত্ব দেন নিজের বোন প্রিয়াঙ্কাকে৷ উন্মাদনা দেখা যায় হাত শিবিরের নেতা, কর্মীদের মধ্যে৷ রাজ্যজুড়ে প্রচারও শুরু করেন সোনিয়া তনয়া৷

২৮ মার্চ মা সোনিয়ার গান্ধীর হয়ে প্রচারের ফাঁকেই দলের কর্মীদের উদ্দেশ্যে প্রশ্ন ছুঁড়ে দেন প্রিয়াঙ্কা৷ জানতে চান বারাণসী থেকে ভোটে লড়বেন কিনা? শুরু হয় জল্পনা৷ তবে কি মোদী বধে এবার প্রিয়াঙ্কাকেই বাজি ধরছে কংগ্রেস? সমযয় যত এগিয়েছে সেই জল্পনা আরও গাড় হয়েছে৷ বহু কংগ্রেস কর্মী, সমর্থকই মনে করছিলেন ইন্দীরা গান্ধীর নাতনিই হতে চলেছেন বারণসীর কংগ্রেস প্রার্থী৷

প্রিয়াঙ্কাই লড়বেন বারাণসী থেকে৷ স্বামী রবার্ট বঢরার কথাতেই তার ইঙ্গিত মিলেছিল৷ তিনি বলেছিলেন, ‘‘প্রিয়াঙ্কা প্রস্তুত ভোটে লড়তে৷ অপেক্ষা শুধু পার্টির হাইকম্যান্ডের নির্দেশের৷ পার্টি কর্মীদের আর্জিতেই মোদীর বিপক্ষে লড়তে রাজি তিনি৷’’ ফলে অনেকেই ভেবেছিলেন দেরি হলেও প্রিয়াঙ্কার নামেই সিলমোহর দেবেন রাহুল৷

তবে শেষ পর্যন্ত তা হয়নি৷ বারাণসীতে মোদীর বিপক্ষে কংগ্রেস ভরসা রেখেছে অমর রাইয়ের উপরই৷ রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রথম ভোটেই বিজেপির হেভিওয়েটের কাছে গান্ধী পরিবারের পরবর্তী প্রজন্ম হেরে যাবেন৷ এতে একদিকে যেমন, প্রিয়াঙ্কার নেতৃত্বদানের ক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন উঠবে, তেমনই কংগ্রেস নেতা, কর্মীরাও হতদ্যম হয়ে পড়বেন৷ ফলে আপাতত জল্পনায় ইতি টেনে সংগঠনের কাজেই মনোনিবেশ করতে বলা হয়েছে সোনিয়া তনয়াকে৷

আরও পড়ুন: মা-ঠাকুমা মাঠে শৌচকর্ম করলে রাহুল শৌচালয়ের মর্ম বুঝতেন: বিজেপি সাংসদ

বিতর্কে প্রথম মুখ খুলেছিলেন, স্যাম পিত্রোদা৷ জানিয়েছিলেন, সংগঠনের অন্যান্য কাজ থাকার কারণেই এবার বারাণসী থেকে ভোটে লড়ছেন না প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বঢরা৷ তাঁর দায়িত্বে রয়েছে উত্তরপ্রদেশের বিশাল অংশ৷ ফলে যেকোনও একটি কেন্দ্রে আবদ্ধ রাখা হয়নি তাঁকে৷ তাহলে কী প্রিয়াঙ্কার ইচ্ছের বিরুদ্ধে গিয়েই সিদ্ধান্ত নিলেন রাহুল? রাজনীতির নানা মহলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে৷

সেই বিতর্কের মাঝেই মুখ খুললেন প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বঢরা৷ দলের কথাই তাঁর কথা, তুলে ধরতে চাইলেন সেই বিষয়টি৷ কিন্তু মোদীর ক্যারিশ্মায় কী ভয় পেয়েই কী পিছু হঠল হাত শিবিরের নেতারা৷ প্রশ্ন কিন্তু থেকেই গেল৷