লখনউ: বড়সড় অভিযোগ কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক প্রিয়াঙ্কা গান্ধী৷ এবার তাঁর অভিযোগের নিশানায় আমেঠির বিজেপি প্রার্থী স্মৃতি ইরানি৷ রবিবার সাংবাদিকদের সামনে তাঁর অভিযোগ এই বিজেপি প্রার্থী ভোটে জেতার জন্য একের পর এক অনৈতিক কাজ করেছেন৷

টাকা, শাড়ি আর জুতো বিলোচ্ছেন স্মৃতি ইরানি৷ এমনই বিস্ফোরক দাবি প্রিয়াঙ্কার৷ গণতন্ত্রের কণ্ঠস্বর ও মানুষের দাবি দাওয়া চেপে রাখার জন্যই স্মৃতির এমন কাজ বলে অভিযোগ কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদকের৷ তাঁর আরও দাবি এই ধরণের ঘুষ দিয়ে মানুষের দরকার ও তাঁদের চাওয়া আটকে রাখতে চাইছে বিজেপি৷

আরও পড়ুন : মোদীর সভায় বিপুল খরচ, কমিশনের তদন্তের দাবি মমতার

প্রিয়াঙ্কা আরও বলেন, তাঁর যখন ১২ বছর বয়েস, তখন থেকে আমেঠির সঙ্গে যোগ রয়েছে তাঁর৷ এই এলাকার সঙ্গে তাঁর আত্মার সম্পর্ক৷ তাই বাইরে থেকে কেউ এসে এখানে অনৈতিক আচরণ করছে, তা তিনি মেনে নেবেন না৷ আমেঠি কখনও ভিক্ষা চায়নি৷ আমেঠি ও রায়বরেলির মানুষ নিজের গর্বের সঙ্গে বাঁচেন৷

আমেঠির দাবি কর্মসংস্থান, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য৷ এই নূন্যতম চাহিদা পূরণ করতে পারেনি বিজেপি সরকার৷ তাঁরাই এখন উন্নয়নের লোভ দেখাচ্ছে বলে অভিযোগ করেন প্রিয়াঙ্কা৷ তবে প্রিয়াঙ্কার এই বাক্যবাণে বিন্দুমাত্র বিচলিত নন স্মৃতি ইরানি৷ তিনি বলেন এই ধরণের কথার কোনও গুরুত্ব নেই তাঁর কাছে৷

আরও পড়ুন : মমতা, মায়াবতী ও চন্দ্রবাবুকেই প্রধানমন্ত্রীর দৌড়ে রাখছেন পাওয়ার

উল্লেখ্য, ২০১৯ লোকসভা নির্বাচনে উত্তরপ্রদেশের আমেঠিতে বিজেপির প্রার্থী কেন্দ্রীয় মন্ত্রী স্মৃতি ইরানি৷ অর্থাৎ কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধীর সঙ্গে ‘কাঁটে কি টক্করে’র আশঙ্কা বিজেপির এই হেভিওয়েট প্রার্থীর৷

চার বছর আগে কংগ্রেসের গড় আমেঠিতে লড়াই হয়েছিল এই দু’জনেরই৷ রাহুল জিতলেও রাজীব পুত্রকে ফাইট দিয়েছিলেন বিজেপির মডেল অভিনেত্রী প্রার্থী স্মৃতি ইরানি৷ রাহুল গান্ধী জিতলেও ব্যবধান কমেছিল ২ লক্ষ ৬৩ হাজার ভোটের৷ ২০১৪ নির্বাচনে রাহুলের কাছে স্মৃতি হেরেছিলেন ১ লক্ষ ৭ হাজার ভোটে৷ কিন্তু ২০০৯ লোকসভা নির্বাচনে রাহুলের জয়ের ব্যবধান ছিল ৩ লক্ষ ৭০ হাজার৷

আরও পড়ুন : ক্ষমতায় এলে দেশ বাতিল করে দিতে পারেন মোদী: মমতা

গত নির্বাচনে রাহুলের কাছে হারলেও এবারও স্মৃতির উপর ভরসা রেখেছে অমিত-মোদী জুটি৷ গত পাঁচ বছরে মোদী সরকারের উন্নয়নকে হাতিয়ার করে এবার রাহলকে কড়া টক্করের হুঁশিয়ারি দেন স্মৃতি৷ সম্প্রতি আমেঠিতে একদিনের সফরে গিয়ে স্মৃতি বলেন, ‘আমেঠি এখন আর রাহুল গান্ধীর গড় নয়৷ লোকসভায় ও সব ক’টি সিটেই হারবে৷ আমেঠি এখন থেকে উন্নয়নের গড় হিসেবে জানা যাবে৷ আমেঠিতে কংগ্রেস তার আধিপত্য ধরে রাখতে পারলে গত পাঁচ বছরে রাহুল গান্ধীর সব নির্বাচনে জিতত৷’