নয়াদিল্লি: কংগ্রেসের মুখপাত্র ছিলেন প্রিয়াঙ্কা চতুর্বেদী। বিভিন্ন ইস্যুতে সাংবাদিক বৈঠক করতেও দেখা গিয়েছে তাঁকে।

কয়েকদিন আগেই স্মৃতি ইরানিকে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, ‘কিঁউ কি মন্ত্রী ভি কাভি গ্র্যাজুয়েট থি।’ আর নির্বাচন চলাকালীনই আচমকা ছাড়লেন দল।

লোকসভা নির্বাচন চলছে। এই সময় অস্বস্তির মুখে পড়ল কংগ্রেস। বৃহস্পতিবার রাতে দলত্যাগ করেছেন কংগ্রেস মুখপাত্র। দলের মধ্যেই অসন্মানিত হয়েছেন বলে দাবি করে দল ছাড়লেন তিনি।

বুধবার নিজের টুইটার হ্যান্ডেলে প্রিয়াঙ্কা লিখেছিলেন, লম্পট – গুণ্ডারা কংগ্রেসে প্রাধান্য পায়। যারা দলের জন্য ঘাম – রক্ত ঝরায় তাঁদের বদলে তারাই দলের প্রয়োজনীয় হয়ে উঠেছে। এরপর শুক্রবার সকালে হঠাৎই তাঁর টুইটার বায়োতে লেখা “কংগ্রেস স্পোকসপারসন” কথাটি মুছে দেওয়া হয়।

সূত্রের খবর, দলের শীর্ষ নেতৃত্বের প্রতি হতাশ হয়ে পড়েছিলেন তিনি। গত বছরই দলের যেসব কর্মীদের তাড়িয়ে দেওয়া হয় তাঁর সঙ্গে অশালীন আচরণের জন্য, তাঁদেরই আবার পুনর্বহাল করা হয়েছে বলে অভিযোগ প্রিয়াঙ্কার। কমিটির ফজলে মাসুদ স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়েছে, “দলীয় ভাবমূর্তি নষ্ট করার জন্য আপনি কিছু করবেন না বলে আশা করা হচ্ছে।” প্রিয়াঙ্কা প্রবীণ নেতাদের প্রতি তার হতাশা প্রকাশ করেছিলেন।

প্রিয়াঙ্কার এমন অভিযোগের পর ঝড় ওঠে কংগ্রেসের অন্দরে৷ আর যথারীতি কংগ্রেস মুখপাত্রের এই মন্তব্যকে লুফে নেয় বিজেপি৷ তাদের বক্তব্য, কংগ্রেস তাদের দলের মহিলাদের সম্মান দিতে পারে না, তারা দেশের মহিলাদের কী করে সম্মান দেবে?

কংগ্রেসের হয়ে সব সময়ই সরব হতে দেখা গিয়েছে প্রিয়াঙ্কাকে। কিছুদিন আগে স্মৃতি ইরানির প্রকৃত শিক্ষাগত যোগ্যতা সামনে আসা নিয়ে তিনি বলেন, “কিউ কি মন্ত্রী ভি কভি গ্র্যাজুয়েট থি।”

প্রধানমন্ত্রীর নমো টিভি নিয়েও মুখ খুলতে শোনা গিয়েছিল তাঁকে। প্রধানমন্ত্রীকে কটাক্ষ করে তাঁর উক্তি ছিল, ” মোদীর শুধুই টেলিভিসন আছে, কোন ভিসন নেই।”

কিছুদিন আগে, মথুরাতে সাংবাদিক সম্মেলনের সময় কয়েকজন কংগ্রেস নেতা তাঁর সঙ্গে অভব্য আচরণ করে৷ বিতর্কের জল যাতে বেশিদূর না গড়ায় সেই জন্য কংগ্রেস ওই নেতাদের দল থেকে তাড়িয়ে দেয়৷ কিন্তু এতে অন্য সমস্যা তৈরি হয়৷ যাদের দল থেকে তাড়ানো হয় তারা এলাকার পরিচিত নেতা৷ তাদের জনভিত্তি রয়েছে৷ আর উত্তরপ্রদেশের মতো রাজ্যে যতটুকুই বা টিমটিম করে জ্বলছে কংগ্রেস তার উজ্জ্বলতা আর কমাতে চায়নি শীর্ষ নেতৃত্ব৷ তাই ভোটের দিকে তাকিয়ে ওই নেতাদের ফিরিয়ে নেয় কংগ্রেস৷ এতেই বেজায় চটেছেন প্রিয়াঙ্কা৷ নিজের ক্ষোভের কথাও দলকে জানান৷ তারপর সরব হন সোশ্যাল মিডিয়ায়৷