ঢাকা: ব্রিটিশ বিরোধী সশস্ত্র সংগ্রামে অবিভক্ত ভারত তথা উপমহাদেশের প্রথম নারী শহিদ প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার ইতিহাসের একটি দুরন্ত পর্ব। তাঁর জীবন নিয়ে লেখা নন্দিত সাহিত্যিক সেলিনা হোসেনের উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত হতে যাচ্ছে ছবি ‘ভালোবাসা প্রীতিলতা’।

বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রকের অর্থ সাহায্যে এই ছবি তৈরি হচ্ছে। বৃহস্পতিবার ঢাকায় হলো ছবির মহরত। অনুষ্ঠানে ছিলেন কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেন, তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ।

অনুষ্ঠানে মন্ত্রী বলেন, ব্রিটিশবিরোধী স্বাধীনতা সংগ্রামে প্রাণদানকারী উপমহাদেশের প্রথম নারী বিপ্লবী প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার স্মরণে ‘ভালোবাসা প্রীতিলতা’ চলচ্চিত্র নতুন প্রজন্মের কাছে গৌরবময় ইতিহাস তুলে ধরবে। পরিচালক প্রদীপ ঘোষ, সংগীত পরিচালক বাপ্পা মজুমদার ও অভিনেতা মান্নান হীরা ছবির বিষয়ে আলোকপাত করেন।

প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদারের জন্ম ১৯১১ সালের ৫মে। চট্টগ্রামে বিপ্লবী কর্মকাণ্ডে অংশ নিয়ে তিনি আত্মহুুুুতি দেন ১৯৩২ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর। অবিভক্ত ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের প্রথম বিপ্লবী মহিলা শহিদ তিনি।

বিপ্লবী সূর্য সেনের নেতৃত্বে ব্রিটিশ বিরোধী সশস্ত্র আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন প্রীতিলতা। ১৯৩২ সালে চট্টগ্রামের পাহাড়তলী ইউরোপিয়ান ক্লাব দখলের সময় তিনি ১৫ জনের একটি বিপ্লবী দল পরিচালনা করেন। এই ক্লাবটিতে একটি সাইনবোর্ড লাগানো ছিলো যাতে লেখা ছিলো “কুকুর এবং ভারতীয়দের প্রবেশ নিষেধ”। প্রীতিলতার দলটি ক্লাবটি আক্রমণ করে এবং পরবর্তীতে পুলিশ তাদেরকে আটক করে। পুলিশের হাতে আটক এড়াতে প্রীতিলতা সায়ানাইড খেয়ে আত্মহত্যা করেন।

এমনই বিপ্লবীর জীবন নিয়ে সেলিনা হোসেনের উপন্যাস ভালোবাসা প্রীতিলতা। সেই উপন্যাসের চলচ্চিত্রায়ণ হচ্ছে বাংলাদেশে। তথ্য মন্ত্রকের ২০১৯-২০ অর্থবছরের অনুদানে এই চলচ্চিত্রের মহরত অনুষ্ঠান হলো।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, প্রীতিলতাকে নিয়ে সিনেমা নির্মিত হচ্ছে এবং আশা করা যায় যে এটি দেশের সীমানা ছাড়িয়ে ভারত ও অন্যান্য দেশেও প্রদর্শিত হবে। সুন্দরভাবে নির্মিত হলে এটি ইতিহাসকে সমৃদ্ধ করবে এবং নতুন প্রজন্ম, যারা ত্রিশের দশকে বিপ্লবী আন্দোলনের ইতিহাস জানেন না, তাদের সঠিক ইতিহাস জানানোর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

তিনি বলেন, দেশে সিনেমা শিল্পের যাত্রা শুরু হয়েছিল জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে ১৯৫৭ সালে এফডিসি প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে। আমাদের প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা একজন সংস্কৃতিপ্রেমী মানুষ। এফডিসি প্রতিষ্ঠার পর আমাদের দেশে ছবি নির্মাণ শুরু হয় এবং বহু কালজয়ী ছবি নির্মিত হয়েছে। যে ছবিগুলো স্বাধিকার আন্দোলন, স্বাধীনতা সংগ্রাম ও স্বাধীনতা পরবর্তীকালে দেশ গঠনে বিরাট ভূমিকা রেখেছে এবং বহু কালজয়ী শিল্পীর জন্ম দিয়েছে। কিন্তু আজকে চলচ্চিত্রে সেই পরিস্থিতি নেই। আমাদের লক্ষ্য চলচ্চিত্রের পুরনো সেই দিন ফিরিয়ে আনা। এই কারণে চলতি বছর থেকে আমরা চলচ্চিত্রের অনুদান ৫ কোটি থেকে ১০ কোটি টাকায় উন্নীত করেছি। এ বছর সর্বোচ্চ ১৬টি চলচ্চিত্রের জন্য অনুদান দেওয়া হয়েছে।

সপ্তম পর্বের দশভূজা লুভা নাহিদ চৌধুরী।