শংকর দাস, বালুরঘাট: কারাগারের নাম পালটে তা হয়েছে সংশোধনাগার। একটা সময় কারাগারের মানেই সু-উচ্চ প্রাচীর ঘেরার ভেতরে বন্দীদের আটকে রেখে শ্রমিকের কাজ করানো ও হাতে পায়ে শেকল পড়িয়ে সাজা দেওয়ার কথা সকলে জানতেন।

কিন্তু অতীতের সেই গারদখানা আজ যে সত্যিই সংশোধনের আগার হয়েছে তার প্রমাণ আবারও মিলল সংস্কৃতির শহর বালুরঘাটের নাট্যতীর্থ’র মঞ্চে। এখানে আয়োজিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ভুষণ্ডির মাঠ নামক নাটকের কুশি লবরা সকলের মন জয় করে নিয়েছে। ভুষণ্ডির মাঠ-এর কুশি লব সকলেই সংশোধনাগারের বন্দি আবাসিক। আর পাঁচটা সাধারণ শিল্পীদের মত সুযোগ পেলে ওঁরাও যে নিখুঁত অভিনয়ের মাধ্যমে মঞ্চ কাঁপাতে অন্যদের থেকে কোনও অংশ পিছিয়ে থাকেন না রবিবার তার সাক্ষী হয়ে রইলেন সংস্কৃতির শহরের মানুষজন।

রবিবার বালুরঘাটের নাট্যতীর্থ মঞ্চে নূপুর নৃত্যালয়ের বার্ষিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। সেই অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল বালুরঘাটের কেন্দ্রীয় সংশোধনাগারের বন্দি আবাসিকদের দ্বারা অভিনীত নাটক ভুষণ্ডির মাঠ। নাটকটির অভিনেতা অভিনেত্রী হিসেবে ছিলেন জিতেন রায়, পদ্মপলাস দত্ত, খুশি মণ্ডল অমল বর্মণ, শচীন বর্মণ, জান্নাতুন ফিরদৌস,ভদং সরকার,পূর্ণিমা মহন্ত, বুড়ি মহন্তের মোট ১৮ জন শিল্পী।

তারা সকলেই কেন্দ্রীয় সংশোধনাগারের বন্দি আবাসিক। কেউ যাবজ্জীবন কেউ বা আংশিক সময়ের জন্য সাজাপ্রাপ্ত বন্দি। কারও বাড়ি এদেশেই, কেউ আবার বাংলাদেশের। বে-আইনি ভাবে এপারে এসে ঠাঁই হয়েছে সংশোধনাগারে। এঁরা কেউই প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত বা পেশাদার শিল্পী নয়। আগে কোন দিন সাংস্কৃতিক কোন অনুষ্ঠানে তাঁরা অংশও নেয়নি।

সংশোধনাগার কর্তৃপক্ষের প্রচেষ্টা আর অতীতের ভুল শুধরে নিজেদেরকে সমাজের মূলস্রোতে ফেরানোর তাগিদ। দুইয়ের মিলনে ১৮ জনের সকলেই আজ শিল্পী। যার প্রতিফলন ঘটল বালুরঘাটের নাট্যতীর্থে। বিশিষ্ট নৃত্য শিল্পী তথা সমাজসেবী তাপসী বিশ্বাস মাত্র ১৫ দিনের নির্দেশনায় বন্দি আবাসিকদের “ভুষণ্ডির মাঠ” নাটকের বিভিন্ন চরিত্রে কুশি লব করে তুলেছেন।

বন্দি আবাসিক শিল্পী পূর্ণিমা মহান্ত এদিন নাটক শেষে জানিয়েছেন যে সে আগে কখনই অভিনয় তো দূর নাচগানও শেখার সুযোগ পান নাই। সংশোধনাগারের ভেতরেই তাপসী দিদিমনি তাঁদের অভিনয় ও নাচের তালিম দিয়ে শিল্পী করে তুলেছেন। মঞ্চস্থ হওয়ার আগে নাটকটি নিয়ে ভীষণ ভয়ে ছিলেন তাঁরা। কিন্তু এদিন অনুষ্ঠান শেষে দর্শকদের উচ্ছ্বাস ও প্রশংসা পেয়ে তাঁরা আপ্লুত। সাজা শেষ করে তাঁরা প্রত্যেকেই সাধারণ জীবনে ফিরে গিয়ে নিজেদের ভেতরের এই শিল্পীসত্ত্বাকে এগিয়ে নিয়ে যাবেন।

এদিকে বন্দিদের কাছে শিক্ষাগুরু বলে পরিচিত বিশিষ্ট নৃত্যশিল্পী তাপসী বিশ্বাস জানিয়েছেন যে এবারই প্রথম নয় বালুরঘাট কেন্দ্রীয় সংশোধনাগারের সাজাপ্রাপ্ত আবাসিকরা উত্তরবঙ্গ উৎসবে “নারী” নামক নৃত্যনাট্য পরিবেশন করে সকলের প্রশংসা কুড়িয়েছিল।

এবারেও নূপুর নৃত্যালয়ের অনুষ্ঠান উপলক্ষে তাঁদের নাটকে অভিনয় করার কথা বললে এক বাক্যে সকলে রাজি হয়ে যায়। খুব ভাল লাগছে যে মাত্র ১৫ দিনের মহড়ায় ১৮ জন বন্দি আবাসিক ভুষণ্ডির মাঠ নামক নাটকটি সফলভাবে মঞ্চায়ন করেছে। তিনি একথাও জানিয়েছেন যে সাজাপ্রাপ্ত আবাসিকদের সাধারণ জীবনযাত্রায় ফেরানোর ক্ষেত্রে সংশোধনাগারের কর্তৃপক্ষের প্রচাষ্টাকেও তিনি কুর্নিশ জানিয়েছেন।

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.

করোনা পরিস্থিতির জন্য থিয়েটার জগতের অবস্থা কঠিন। আগামীর জন্য পরিকল্পনাটাই বা কী? জানাবেন মাসুম রেজা ও তূর্ণা দাশ।