কুয়ালালামপুর: জাকির নায়েককে নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী ডঃ মহাথির মহম্মদ। তিনি বলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কখনই ইসলামিক প্রচারক জাকির নায়েককে বহিঃসমর্পণ করার ইস্যু নিয়ে কোন কথা বলেননি। ভ্লাদিভস্তকে ইস্টার্ন ইকোনমিক ফোরামে এবিষয়ে কোন কথা তাঁদের হয়নি।

একটি সংবাদসংস্থাকে দেওয়া খবরে তিনি জানিয়েছেন, “খুব বেশি দেশ নেই যারা জাকির নায়েককে চায়। আমার শুধু মোদীর সঙ্গে দেখা হয়েছে। তবে তিনি জাকির নায়েককে নিয়ে তিনি কিছু জিজ্ঞাসা করেননি, কোন কথা হয়নি।”

ভারত-মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীদ্র সাক্ষাতের কথা জানিয়ে বিদেশ মুখপাত্র বিজয় গোখলে বলাছিলেন, “প্রধানমন্ত্রী মোদী জাকির নায়েকের বিষয়টি নিয়ে সরব হয়েছেন। দু’জনই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মালয়েশিয়া নিউ দিল্লির সঙ্গে যোগাযোগ রাখবে।”

২০১৬ সালে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার হোলি আর্টিজান ক্যাফের ভিতর জঙ্গি হামলা হয়। বহু বিদেশিকে কুপিয়ে খুন করে জঙ্গিরা। তারপর থেকেই উঠে আসে মুম্বই নিবাসী জাকির নায়েকের নাম। কারণ হামলাকারী বাংলাদেশি জঙ্গিরা পিস টিভি নামে একটি ইসলাম ধর্মীয় চ্যানেলে জাকিরের ভাষণ থেকে অনুপ্রাণিত হয়েছিল। এছাড়াও কাশ্মীরের জঙ্গিদের মধ্যে জাকির নায়েকের জনপ্রিয়তা ছড়ায় দ্রুত।

পিস টিভিকে ঘিরে বিতর্কের মাঝে ২০১৬ সালেই জাকির নায়েক মুম্বই ছেড়ে সৌদি আরব চলে যান। তার বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি করা হয়। বন্ধ হয় পিস টিভির সম্প্রচার। পরে জাকির নায়েক মালয়েশিয়ায় আশ্রয় নিয়েছেন। শেষ তিন বছর তিনি সেই দেশের নাগরিকত্ব পেয়েছেন তিনি। এখনঅ দেশছাড়া করার সিদ্ধান্ত না নিলেও, জাতি বিদ্বেষমূলক মন্তব্য নিয়ে কিছুদিন আগেই নায়েকের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে মালয়েশিয়া সরকার। নজরদারি চালাচ্ছে সেই দেশের সরকার।

জুলাইয়ের ১৪ তারিখ জাকির নায়েক বলেছিলেন, ভারতের সংখ্যালঘু মুসলিমদের তুলনায় মালয়েশিয়ার হিন্দুরা ১০০ শতাংশ বেশি অধিকার ভোগ করে থাকেন। পাশাপাশি কোটা বারুতে এক সভায় তিনি আরও বলেন, মালয়েশিয়ার হিন্দুরা মহাথীর মহম্মদের তুলনায় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর প্রতি বেশি অনুগত। জাকিরের এই মন্তব্যে উঠেছে ঝড়। প্রতিবাদ জানিয়েছে দেশের একাধিক মহল।