বেঙ্গালুরু: বর্ধমান জেলার খাগড়াগড় বিস্ফোরণের কাণ্ডের মূল পাণ্ডা হাবিবুর রহমান শেখকে গ্রেফতার করল জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা এনআইএ। মঙ্গলবার তাকে দক্ষিন ভারতের রাজ্য কর্ণাটকের রাজধানী শহর বেঙ্গালুরু থেকে গ্রেফতার করা হয়।

২০১৫ সালের মার্চ মাসে এই ধৃত হাবিবুরের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করা হয়েছিল। তাকে পাকরাও করার জন্য ১০ লক্ষ টাকা পুরষ্কারের ঘোষণাও করা হয়েছিল এনআইএ-র পক্ষ থেকে। যাকে অবশেষে জালে ধরতে পারা গিয়েছে। হাবিবুরের গ্রেফতারিকে বিশেষ সাফল্য বলেই মনে করছে এনআইএ কর্তারা।

ধৃত ব্যক্তি জংগি সংগঠন জেএমবি-র সক্রিয় সদস্য। পশ্চিমবঙ্গের মাটিতে বসে ভারত এবং বাংলাদেশ সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র লিপ্ত ছিল। খাগড়াগড় কাণ্ডের সকল ধৃত ব্যক্তিদের নেতৃত্ব দিয়েছিল এ হাবিবুর রহমান। বীরভূম জেলার বোলপুরে জেএমবি জঙ্গিদের বিশেষ প্রশিক্ষণ শিবির চালাতো এই হাবিবুর। তাকে এদিন স্থানীয় একট আদালতে তোলা হয়েছিল। পাঁচ দিনের বিশেষ ট্রানজিট রিম্যান্ডে তাকে কলকাতায় নিয়ে আসার অনুমতি পেয়েছে এনআইএ।

ধৃত হাবিবুরের সঙ্গে খাওড়াগড় কাণ্ডের আরেক প্রধান অভিযুক্ত ছিল কওসর। তাকেও বেঙ্গালুরু থেকেই গ্রেফতার করা হয়েছিল। গত বছরের অগস্ট মাসে তাকে বেঙ্গালুরুর রামনগর থেকে গ্রেফতার করে এনআইএ।

২০১৪ সালের ২ অক্টোবর দুপুরে বর্ধমানের খাগড়াগড়ে একটি বাড়িতে বিস্ফোরণ ঘটে। বাড়ির মালিক নুরুল হাসান চৌধুরী তৃণমূলের স্থানীয় নেতা। তবে তিনি ওই বাড়ি ভাড়া দিয়েছিলেন নদিয়ার বাসিন্দা শাকিল আহমেদকে। বিস্ফোরণে ঘটনাস্থলেই মারা যায় ভাড়াটে শাকিল। পরে মারা যায় ওই বাড়ির আরও এক বাসিন্দা সোভান মণ্ডল৷ সোভান-ই ছিল দ্বিতীয় জঙ্গি। তৃতীয় জঙ্গি আবদুল হাকিম বিস্ফোরণে গুরুতর জখম হয়।

পুলিশ নিহত শাকিল ও জখম আবদুলের দুই স্ত্রীকে গ্রেফতার করে। ওই বাড়ি থেকে উদ্ধার করা হয় প্রচুর বিস্ফোরক, বোমা তৈরির মশলা, সরঞ্জাম। ঘটনার পর দিন (৩ অক্টোবর) দিল্লি থেকে খাগড়া বিস্ফোরণ কাণ্ডের তদন্তে আসে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনআইএ। জানা যায়, ওই বিস্ফোরণের সঙ্গে জেএমবি জড়িত। কলকাতায় সেই বছর দুর্গাপুজোয় নাশকতার উদ্দেশ্য ছিল তাদের।

তদন্তে নেমে আগের বছর অগস্টে বর্ধমানের খাগড়াগড় বিস্ফোরণ-কাণ্ডের অন্যতম পাণ্ডাকে বেঙ্গালুরু থেকে গ্রেফতার করে এনাইএ৷ মহম্মদ জহিদুল ইসলাম ওরফে কওসরকে বহুদিন ধরেই খুঁজছিল পুলিশ৷ ধৃত কওসর জামাত-উল-মুজাহিদিন বাংলাদেশ (জেএমবি)-এর সঙ্গে জড়িত বলে জানা যায়৷ এই কওসর-ই ভারতে জেএমবি জঙ্গিদের মাথা বলে খবর।

পুলিশের নজর এড়াতে সে অনেকগুলি নাম ব্যবহার করে৷ যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য মুন্না, মিজ়ান ও বোমা মিয়াঁ। আপাতত এনআইএ হেফাজতে রয়েছে সে৷ এরপর এদিন ফের খাগড়াগড় কাণ্ডে বড়সর সাফল্য পেল এনআইএ৷ খাগড়াগড়কাণ্ডের পর সন্দেহভাজন বেশ কয়েক জনকে গ্রেফতার করা হয়৷ বিস্ফোরণের ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ধৃতের সংখ্যা ২০৷ ধৃত দুই জঙ্গিকে জিজ্ঞাসাবাদ করে তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যেতে চাইছে এনআইএ গোয়েন্দারা৷