হায়দরাবাদ: ৭০ বছরের এক দলিত বৃদ্ধকে কাঁধে করে মন্দিরে প্রবেশ করেছিলেন অন্ধ্রপ্রদেশের পুরোহিত বিজয় কুমার৷ সেরকমই ঘটনা ঘটল অন্ধ্রতেই৷ গুন্টুরের পর এবার স্থান চিলকুর৷

বিজয় কুমারকে দেখে অনুপ্রাণিত হয়েছিলেন রঙ্গরাজন৷ তার মনেও এই কাজ করার ভাবনা আসে৷ বালাজি মন্দিরের এই পুরোহিত এবার সেই কাজ করে দেখালেন৷

শ্রেণি বৈষম্য দূরীকরণে নজির গড়লের অন্ধ্রের এই পুরোহিত। দলিত ভক্তকে কাঁধে নিয়ে বিষ্ণু মন্দিরে প্রবেশ করেন তিনি। হায়দারাবাদের এক বিষ্ণু মন্দিরের পুরোহিতের এই উদ্যোগ নজর কেড়েছে গোটা দেশের। হায়দরাবাদের কাছেই চিলকুরের বালাজি মন্দিরের উপাসক সি এস রঙ্গরাজন, আদিত্য পারাশ্রী নামে এক দলিতকে কাঁধে নিয়ে মন্দিরে প্রবেশ করেন। সেখানে পুজোও করেন ওই দলিতই।

যেখানে দলিতদের একসময় মন্দিরেই প্রবেশ করতে দেওয়া হতনা সেখানে এরকম একটা ঘটনার পর দলিতদের মন্দিরে প্রবেশ করতে বাধা থাকবেনা বলেই আশা করা হচ্ছে৷ ২৫ বছরের আদিত্য পারাশ্রী জানিয়েছেন তাঁর বাড়ি মহবুবনগরে৷ সেখানে তাকে হনুমান মন্দিরে প্রবেশ করতে বারণ করে দেওয়া হয়৷ দলিত হওয়ার কারণে আমার পরিবার এই ঘটনায় অপমানিত ও উৎপীড়িত হচ্ছিলেন৷ বহু মন্দিরে এসব এখনও চলছে৷ কিন্তু তিনি আশা করেন, এখান থেকেই বদলের শুরু হল৷ এই ঘটনার পরে মানুষের মানসিকতার পরিবর্তন হবে৷”

যাঁকে কাঁধে করে বিজয় কুমার মন্দিরে প্রবেশ করেছিলেন সেই দলিত বৃদ্ধ নরসিংহলু চিত্তোর জেলার গান্ধীপুর গ্রামের বাসিন্দা। গ্রামে রামমন্দির তৈরির জন্য অর্থ সংগ্রহ করেছিলেন তিনি। পরে সেই টাকাতেই গ্রামে রামমন্দির তৈরি করা হয়।

ঘটনাটি নজরে পড়েছিল বৌদ্ধ ধর্মগুরু দলাইলামার। তিনি অত্যন্ত প্রশংসা করেন রঙ্গরাজনের। এর পরে অনেকেই এই শ্রেণি বৈষম্য দূরীকরণে আগ্রহ দেখান।