শ্রীনগর: আরও ছয় মাসের জন্য জম্মু কাশ্মীরে লাগু হল রাষ্ট্রপতি শাসন৷ কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক বুধবার এই ঘোষণা করেছে৷ উপত্যকার পরিস্থিতি বিবেচনা করার পর কেন্দ্রের পক্ষ থেকে রাজ্যটির রাজ্যপাল সত্য পাল মালিকের সঙ্গে আলোচনা করা হয়৷ আলোচনার সূত্র ধরেই কাশ্মীরে আরও ছয় মাস রাষ্ট্রপতি শাসন থাকবে বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়৷

মোদী সরকারের দ্বিতীয় দফায় কাশ্মীরে রাষ্ট্রপতি শাসনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হল৷ এর আগে, ২০১৮ সালের ১৯ ডিসেম্বর মধ্যরাত থেকে কাশ্মীরে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করা হয়৷ সূত্রের খবর ইতিমধ্যেই এই প্রস্তাব সংসদের দুই কক্ষে পাশ করিয়েছে মোদী সরকার৷

১৯৯৬ সালের পর গত বছর ডিসেম্বরে গেজেট নোটিফিকেশন জারির মাধ্যমে সন্ত্রাস বিধ্বস্ত কাশ্মীরে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করেন রামনাথ কোবিন্দ৷ তাঁর নির্দেশ বাস্তবায়িত করেন রাজ্যপাল সত্য পাল মালিক৷ তিনি তাঁর বিবৃতিতে লেখেন এই রাষ্ট্রপতি শাসনের প্রয়োজন ছিল৷ কাশ্মীরে এর মাধ্যমে স্থিতাবস্থা আসবে বলে আশাপ্রকাশ করেছিলেন তিনি৷

ইন্টারনেট থেকে প্রাপ্ত৷

এবার রাষ্ট্রপতি শাসনের মেয়াদকাল বৃদ্ধি করার পর মালিক জানান, কাশ্মীরের যা পরিস্থিতি, তাতে সেনাবাহিনীর আরও কড়া হওয়া প্রয়োজন ছিল৷ এই শাসনের ফলে সেনা নিজের ক্ষমতায় কাজ করতে পারবে৷ এই পরিস্থিতিতে কোনও সুস্থ রাজ্য সরকার গঠন সম্ভব নয়৷ তাই কাশ্মীরে রাষ্ট্রপতি শাসনের মেয়াদ বৃদ্ধি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্র৷

এর আগে, ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে রাজ্যপালের শাসন জারি করার অনুমতি দেন রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ৷ দ্রুত এই নির্দেশ কার্যকর করার কথা জানানো হয় রাষ্ট্রপতি ভবন থেকে৷

জম্মু কাশ্মীরের তৎকালীন রাজ্যপাল নরিন্দর নাথ ভোরা এই সংক্রান্ত রিপোর্ট পাঠান রাষ্ট্রপতির কাছে৷ সংবিধানের ৯২ নম্বর ধারা মেনে রাজ্যে রাজ্যপালের শাসন জারি করার অনুমতি চান৷ সেই রিপোর্ট খতিয়ে দেখে রাজ্যপালের শাসন জারি করার আবেদন গ্রহণ করেন রাষ্ট্রপতি৷ এই নিয়ে জম্মু কাশ্মীরে গত ১০ বছরে চতুর্থবার রাজ্যপালের শাসন জারি করা হল৷

গত বছর জম্মু ও কাশ্মীরের জোট সরকার থেকে সমর্থন তুলে নেয় বিজেপি। বিজেপির তরফে জানিয়ে দেওয়া হয়, দেশের স্বার্থে কোনও ভাবেই সংঘর্ষ বিরতি মেনে নেওয়া সম্ভব নয়। এই ঘোষণার কিছুক্ষণের মধ্যেই রাজভবনে যান মুখ্যমন্ত্রী মেহেবুবা মুফতি। রাজ্যপালের সঙ্গে কথা বলে মুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে ইস্তফা দেন তিনি৷

ফাইল ছবি৷

মুখ্যমন্ত্রীর ইস্তফার পরেই রাষ্ট্রপতি শাসন জারির সম্ভাবনা প্রবল হয়ে ওঠে৷ জম্মু ও কাশ্মীরে জোট সরকারে দলের সব বিধায়ককে হঠাৎ করেই দিল্লিতে বৈঠকে ডাকেন তৎকালীন বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ। রাজধানীতে হাজির হতে বলা হয় তাঁদের সবাইকে। সদ্য জম্মু ও কাশ্মীরে রমজান শেষ হতেই সংঘর্ষবিরতি বা জঙ্গি দমন অভিযান বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে কেন্দ্র। এই প্রেক্ষাপটে বিজেপি সভাপতির দলীয় মন্ত্রী, শীর্ষ নেতাদের জরুরি তলব ঘিরে তীব্র কৌতূহল, জল্পনা তৈরি হয়।