তিমিরকান্তি পতি, বাঁকুড়া: আগামী চার মাসের মধ্যেই রাজ্যে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করা হবে বলে দাবি সাংসদ তথা বিজেপির রাজ্য যুব মোর্চার সভাপতি সৌমিত্র খাঁ। কৃষি আইনের সমর্থনে বাঁকুড়ার রাইপুরে এক মিছিল শেষে পথ সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি আরও বলেন, “যেভাবে রাজ্যে অত্যাচার চলছে তাত ডিসেম্বরে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি হবেই।”

একই সঙ্গে এদিন উপস্থিত দলীয় নেতা কর্মীদের তৃণমূল পরিচালিত ‘পঞ্চায়েত অফিস ঘেরাও করে তোলাবাজির হিসাব নেওয়ার নিদান দিলেন যুব মোর্চার রাজ্য সভাপতি। তিনি শাসক দলের নাম না করে বলেন, জঙ্গল মহলকে খেপিও না। জঙ্গল মহলের চ্যালা কাঠ দিয়ে এমন ঠেঙ্গানো হবে যে, বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যেতে হবে’।

পরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়েও একের পর এক ইস্যুতে বিস্ফোরক যুব মোর্চার রাজ্য সভাপতি, সাংসদ সৌমিত্র খাঁ। ছত্রধর মাহাতোর প্রসঙ্গ বলতে গিয়ে তিনি বলেন, কিষেনজিকে যেমন খুন করা হয়েছে, তেমনি হয়তো চলতি করোনা পরিস্থিতির মধ্যেও ছত্রধর মাহাতোকে মেরে ফেলা হবে।

একই সঙ্গে জ্ঞানেশ্বরী কাণ্ডে ঐ ছত্রধর মাহাতো যুক্ত অভিযোগ করে তাকে গ্রেফতারির দাবিও জানান তিনি। অন্য এক প্রশ্নের উত্তরে পুজো মণ্ডপে দর্শনার্থীদের প্রবেশ নিয়ে হাইকোর্টের সিদ্ধান্তকে তিনি স্বাগত জানিয়ে বলেন, নিজের পাড়ায় সবাই পুজো দেখুন। করোনা পরিস্থিতিতে এটাই সঠিক সিদ্ধান্ত বলে তিনি মনে করেন বলে জানান।

এদিনের মিছিল ও সভায় যুব মোর্চার রাজ্য সভাপতি, সাংসদ সৌমিত্র খাঁ ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বিজেপির রাজ্য সহ সভাপতি, সাংসদ ডাঃ সুভাষ সরকার, যুব মোর্চার রাজ্য সহ সভাপতি সৌগত পাত্র, দলের জেলা সভাপতি বিবেকানন্দ পাত্র প্রমুখ।

বিজেপি সাংসদের বক্তব্যের তীব্র প্রতিক্রিয়া দিয়েছে তৃণমূল। দলের বাঁকুড়া জেলা সভাপতি ও মন্ত্রী শ্যামল সাঁতরা বলেন, বিজেপি সাংসদ জঙ্গল মহলে যেভাবে উস্কানীমূলক বক্তব্য রাখছেন কোনও অশান্তি হলে উনি দায়ী থাকবেন।’’

রাজ্যে রাষ্ট্রপতি শাসনের দাবি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘‘এটা ওদের পূর্ব পরিকল্পিত বিষয়। তবে মানুষ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গেই আছেন।’’ জঙ্গল মহলের মানুষ ওদের ছুঁড়ে ফেলে দেবেন বলেও তিনি দাবি করেন।

জেলবন্দি তথাকথিত অপরাধীদের আলোর জগতে ফিরিয়ে এনে নজির স্থাপন করেছেন। মুখোমুখি নৃত্যশিল্পী অলোকানন্দা রায়।