নয়াদিল্লি: বৃহস্পতিবার সংসদের যৌথ অধিবেশনে বক্তব্য রাখেন রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ৷ কিন্তু এই বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করল কংগ্রেস৷ রাষ্ট্রপতির বক্তব্য কাউকে উৎসাহিত বা অনুপ্রাণিত করল না বলে এদিন মত প্রকাশ করে কংগ্রেস৷ তাদের মতে কোবিন্দের বক্তব্য অন্ত:সারশূণ্য৷

রাষ্ট্রপতির ভাষণের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন লোকসভায় কংগ্রেসের দলনেতা অধীর রঞ্জন চৌধুরী৷ তার সঙ্গে ছিলেন আরেক কংগ্রেস নেতা আনন্দ শর্মা৷ তাঁরা দুজনেই রাষ্ট্রপতির বক্তব্যের সমালোচনা করেন৷ অধীর রঞ্জন চৌধুরীর মতে নতুন কোনও কথা বা তথ্য তুলে ধরতে দেখা গেল না রাষ্ট্রপতিকে৷ নতুন কোনও দিশা নেই তাঁর বক্তব্যে৷ মূলত রাষ্ট্রপতির বক্তব্যে বিজেপি সরকারের মতাদর্শই ছাপ ফেলেছে বলে অভিযোগ কংগ্রেসের৷

আরও পড়ুন : টিডিপি’র চার রাজ্যসভার সাংসদ বিজেপিতে

অধীর রঞ্জন চৌধুরীর মতে সংসদে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বক্তব্যের হুবহু মিল রয়েছে রাষ্ট্রপতির বক্তব্যের সাথে৷ তাহলে নতুন কি বার্তা দিলেন কোবিন্দ? প্রশ্ন লোকসভায় কংগ্রেসের বিরোধী দলনেতার৷ আনন্দ শর্মা বলেন রাষ্ট্রপতির বক্তব্যে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুগুলিই নেই৷ বক্তব্যে নেই জিডিপির নিম্নগতি বা বেকারত্বের মত ইস্যুগুলিই৷

এদিন রাষ্ট্রপতির সওয়াল করা এক রাষ্ট্র এক নির্বাচনের তত্বকে ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন আনন্দ শর্মা৷ তিনি বলেন ভারতের মত এতগুলি রাজনৈতিক দলের দেশে ও এত বৈচিত্রের মধ্যে কখনই একই দিনে নির্বাচন সম্ভব নয়৷

আরও পড়ুন : ২০২১ এর বিধানসভায় বিজেপিকে রুখতে সোশ্যাল মিডিয়াই ‘অস্ত্র’ তৃণমূলের

এদিন রাষ্ট্রপতি বলেন প্রতি বছর দেশের কোনও না কোনও প্রান্তে ভোট হয়৷ এতে যেমন প্রচুর অর্থ ব্যয় হয় তেমন উন্নয়নমূলক কাজ থমকে যায়৷ যদি কেন্দ্র ও রাজ্যস্তরে একই সময়ে নির্বাচন হয় তাহলে রাজনৈতিক দলগুলি উন্নয়নমূলক কাজে বেশি করে সময় ব্যয় করতে পারবে৷ অর্থেরও সাশ্রয় হবে৷ জাতীয় ইস্যুগুলিকে মাথায় রেখে দেশের জনগণ সরকার নির্বাচিত করে৷ বর্তমান সময়ের দাবি মেনে ‘এক দেশ এক ভোট’ কার্যকর করা গেলে দেশের মানুষই লাভবান হবে৷

দ্বিতীয় মোদী সরকারের মূল মন্ত্র হল ‘সবকা সাথ সবকা বিকাশ এবং সবকা বিশ্বাস’৷ সেই মন্ত্র শোনা গেল রামনাথ কোবিন্দের গলাতেও৷ জানান, স্বাধীনতার ৭৫তম বছরেই দুনিয়া অন্য ভারতকে দেখবে৷ ভারত এখনই বিশ্বের পঞ্চম বৃহৎ অর্থনীতির দেশ৷ দেশের জিডিপি’র হার বৃদ্ধি রাখার ক্ষেত্রে আরও অর্থনৈতিক সংস্কারের পথে হাঁটবে সরকার৷ ২০২৪ সালের মধ্যে ভারতের অর্থনীতিকে ৫ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছনো সরকারের লক্ষ্য৷