ওয়াশিংটন ও ঢাকাঃ চোস্ত ইংরাজিতে মার্কিন প্রেসিডেন্টকে বাংলাদেশের সংখ্যালঘু হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টানদের উপর নির্যাতনের কাহিনি তুলে ধরেছেন এক মহিলা। তাঁর দাবি, ইসলামিক চরমপন্থীদের হামলা হচ্ছে। তারা রাজনৈতিক আশ্রয় পাচ্ছে। কে তিনি? কী করে তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামনে গিয়ে বাংলাদেশের সংখ্যালঘু হিন্দু-বৌদ্ধদের নির্যাতন কাহিনি তুলে ধরলেন ? এই প্রশ্নে আলোড়িত বাংলাদেশ।

ওয়াশিংটন থেকে সেই ভিডিওর বিবরণে ওই বাংলাদেশি মহিলার পরিচয়ে বলা হয়েছে মিসেস সাহা। কিন্তু তার পুরো নাম বলা হয়নি। এদিকে ভিডিও ছড়িয়ে পড়তেই বাংলাদেশে আলোড়ন।

(যদিও এই ভাইরাল ভিডিওর সত্যতা যাচাই করেনি www.kolkata24x7.com)

জানা গিয়েছে, সম্প্রতি চিন, তুরস্ক, উত্তর কোরিয়া, মিয়ানমারসহ ১৬টি দেশে সাম্প্রদায়িক নিপীড়নের শিকার কয়েকজনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল হোয়াইট হাউসে। গত ১৬ জুলাই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে দেখা করেন তারা। ট্রাম্প যখন একে একে সবার বক্তব্য শুনছিলেন তখন এক মহিলা নিজেকে বাংলাদেশি পরিচয় দিয়ে বলেন, ‘স্যার, আমি বাংলাদেশ থেকে এসেছি। সেখানকার ৩ কোটি ৭০ লাখ সংখ্যালঘু হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান বিতাড়িত হয়েছেন। দয়া করে বাংলাদেশি জনগণকে সাহায্য করুন। আমরা আমাদের দেশে থাকতে চাই।’

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তখন বলেন, ‘বাংলাদেশ?’ তখন হ্যাঁ বলেন ওই মহিলা। তিনি জানান, ‘এখনও সেখানে ১ কোটি ৮০ লাখ সংখ্যালঘু মানুষ থাকে। আমার অনুরোধ, দয়া করে আমাদের সাহায্য করুন। আমরা দেশ ছাড়তে চাই না। সেখানে থাকতে আমাদের সহযোগিতা করুন। আমি আমার বাড়ি হারিয়েছি। তারা বাড়ি পুড়িয়ে দিয়েছে। আমার জমি ছিনিয়ে নিয়েছে। কিন্তু কোনও বিচার হয়নি।’

এদিকে বাংলাদেশের সোশ্যাল সাইটে প্রকাশ পেয়েছে রহস্যময়ী মিসেস সাহার পরিচয়। সেখানে অনেকেই জানাচ্ছেন, এই মহিলার নাম প্রিয়া সাহা। তাঁর স্বামী মলয় সাহা বাংলাদেশ দুর্নীতি দমন কমিশনের অন্যতম অফিসার। প্রিয়া নিজে বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের গুরুত্বপূর্ণ পদে রয়েছেন। এদিকে সোশ্যাল মিডিয়ার এই তথ্যে প্রিয়া সাহার বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন বহু বাংলাদেশি। সেখানে তাঁকে হুমকিও দেওয়া হতে শুরু করেছে। বিষয়টি ক্রমে ঘোরালো হচ্ছে। আপাতত মিসেস সাহা বা প্রিয়া সাহা মার্কিন মুলুকেই রয়েছেন।