করোনা ভাইরাস

কলকাতা : এই মুহূর্ত করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের দাপটে নাজেহাল সারা দেশ। এরই মধ্যে আবার নতুন করে নজরে পড়ল করোনার তৃতীয় মিউট্যান্ট স্ট্রেনের। কোনও ভাইরাসের মিউট্যান্ট পরিবর্তিত হলে সেই ভাইরাস আরও দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে । দেশের চিকিৎসকদের কাছে এই মুহূর্তের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ এই নতুন মিউট্যান্টের করোনা ভাইরাসকে মোকাবিলা করা। এখন সব থেকে বিপদ সঙ্কেত হল এটাই, যে সমস্ত রাজ্যগুলিতে এই ট্রিপল মিউট্যান্টের হদিশ মিলেছে তার মধ্যে রয়েছে পশ্চিমবঙ্গের নামও।

২০২০-র অক্টোবর মাসে হদিশ ডবল মিউটেশনের হদিশ পাওয়া গেছিল । তখন সেটা নিয়ে রীতিমতো আতঙ্কিত ছিলেন চিকিৎসক ও বিজ্ঞানীরা। এ বারে তৃতীয় মিউট্যান্টের সন্ধান মেলায় এক কোথায় দিশেহারা চিকিৎসক মহল। বিশেষজ্ঞরা এই বিপদের আশঙ্কা বাড়িয়ে এই মিউট্যান্টকে পুরোপুরি বুঝতে জিনোম সিকোয়েন্সিংয়ের আহ্বান জানিয়েছেন। তবে প্রশ্ন উঠছে আসলে কী এই ট্রিপল মিউট্যান্ট?

কী এই ট্রিপল মিউট্যান্ট?

ট্রিপল মিউট্যান্ট হচ্ছে করোনার ভাইরাসের তিনটি স্ট্রেনের সংযুক্ত বা এক সঙ্গে উপস্থিতি। এই নয়া ভেরিয়েন্টের ফলে আবার বদলে যাবে করোনার উপসর্গ। অর্থাৎ, যে উপসর্গ এখনকার ভেরিয়েন্টের সংক্রমণের ফলে হচ্ছে, অভিমুখ পরিবর্তন ঘটবে সেই উপসর্গের । আবার এর সঙ্গে যুক্ত হতে পারে একাধিক নতুন উপসর্গও, এমনটাই মনে করছেন চিকিৎসকরা । এতদিন দুটি স্ট্রেন সংযুক্ত হয়ে সংক্রামিত করে চলেছিল। এবার তিনটি স্ট্রেনের নতুন ভেরিয়েন্ট বিপদের সম্ভাবনা আৰু কয়েক ধাপ বাড়িয়ে দিল। আর এই ট্রিপল মিউট্যান্ট স্ট্রেনের হদিশ পাওয়া মানেই সংক্রমণের দ্রুততা আরও বাড়বেই।

কেন এ ভাবে একাধিক মিউটেশন তৈরি হয় ?

ভাইরাস নিয়ে কাজ করা চিকিৎসক এবং বিজ্ঞানীদের বক্তব্য, একটি ভাইরাস যতবেশি মানুষকে সংক্রামিত করবে, তার মিউটেশন তত বাড়বে। এক্ষেত্রেও সেটিই হচ্ছে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, প্রাণীর জিনোমের পরিবর্তনকে মিউটেশন বলে। বিস্তারিতভাবে বলতে গেলে বলা যায় , প্রাণী ক্ষুদ্র জাইগোট থেকে পরিণত প্রাণীতে রূপ নেয়।

আরও পড়ুন

হাসপাতালে অক্সিজেনের হাহাকার, চোখের সামনে প্রিয়জনের অসহ্য যন্ত্রণা

তাই বলা যায়, এই ট্রিপল মিউট্যান্ট ভারতের জন্য পরবর্তী চ্যালেঞ্জ হতে চলেছে। মহারাষ্ট্র, দিল্লি, ছত্তিশগড় এবং পশ্চিমবঙ্গে যেভাবে করোনা সংক্রমণ ছড়াচ্ছে, তার পিছনে নতুন এই ট্রিপল মিউট্যান্ট রয়েছে বলে চিকিৎসকদের ধারণা। এমনকি এই নতুন ভেরিয়েন্টের জন্যই সারা বিশ্বেও ব্যাপক প্রভাব পড়ছে। এমনকী, বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, পশ্চিমবঙ্গ এই জাতীয় মিউটেশনের হটস্পট হয়ে উঠলেও অবাক হওয়ার কিছু নেই। চিকিৎসকরা বলছেন, এই মিউট্যান্ট মানুষের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে দিতে পারে। যার জন্য প্রচুর নমুনার সিকোয়েন্সিংয়ের দরকার রয়েছে। চিকিৎসক অরিন্দম বিশ্বাস বলেন, “ভাইরাস এমনভাবে প্রভাব বিস্তার করছে যাতে কোষগুলো দেহের রোগ প্রতিরোধকে চিহ্নিত করতে পারবে না। আসলে বাউন্সার দেখলে আমরা যেমন নিজেদের সেখান থেকে সরিয়ে নিই, ঠিক সেই ভাবে কোষগুলো রজার উপসর্গগুলোকে চিহ্নিত করতে পারবে না।এটিই হচ্ছে এই তৃতীয় মিউট্যান্ট ভাইরাসের স্বাভাবিক চরিত্র। তবে এই ভাইরাসের চেন‌ না ভাঙলে আগামী দিনে বিপদ আসন্ন।”

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.