মুম্বই- লকডাউনের মধ্যেই সিলিং ফ্যান থেকে ঝুলে আত্মহত্য়া করেছেন ২৫ বছরের অভিনেত্রী প্রেক্ষা মেহতা। মঙ্গলবার ইন্দোরের বাড়ি থেকে তাঁর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করা হয়। প্রেক্ষার বাবা জানিয়েছেন, লকডাউনের জেরে শ্যুটিং বন্ধ হওয়ার বিষয়টি মেনে নিতে পারছিলেন না প্রেক্ষা। এবিপি নিউজের কাছে প্রেক্ষার বাবা বলেছেন,” লকডাউনে শ্যুটিং বন্ধ হওয়ার দরুণ ও অস্থির হয়ে থাকত সব সময়ে।

মুম্বইয়ে লকডাউন দীর্ঘায়িত হওয়ায় আরও গুমরে থাকত ও। ও কখনও বসে থাকতে ভালোবাসত না। যখনই খবরের কাগজে লকডাউন নিয়ে ও পড়ত, আমি ওকে চিন্তা করতে বারণ করতাম, কারণ এটা তো সবার জন্য। আমাদের কোনও ধারণা ছিল না যে ও এরকম একটা কাজ করে ফেলবে।” আর একটি প্রতিবেদন থেকে জানা যাচ্ছে, প্রেক্ষা তাঁর বাবা মা নাকি তাঁকে বিয়ে করার কথা বলতেই থাকেন।

এই প্রসঙ্গে তাঁর বাবা বলছেন, “প্রেক্ষা আমাদের বলেছিল টিভি-ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে নাম করে ২-৩ বছর পরে ও বিয়ে করবে। আমরা ওকে কখনওই চাপ দিইনি বিয়ে করার জন্য়। আমরা খুবই হালকা ভাবে মাঝে মধ্যে জিজ্ঞাসা করতাম মাত্র।” প্রেক্ষার ঘর থেকে একটি সুইসাইড নোট পাওয়া গিয়েছে।

সেখানে তিনি লিখেছেন, “আমার ভেঙে যাওয়া স্বপ্নগুলোই আমার আত্মবিশ্বাস ভেঙে দিয়েছে। মরে যাওয়া স্বপ্নের সঙ্গে আমি বাঁচতে পারবো না। এই নেগেটিভিটির সঙ্গে বেঁচে থাকা কঠিন। গত এক বছর আমি অনেক চেষ্টা করেছি। এখন আমি হাঁপিয়ে গিয়েছি।”

এই প্রসঙ্গে তাঁর বাবা বলছেন, “আমি সুইসাইড নোট পড়ে বুঝতে পারিনি যে ও কেন এগুলি লিখল।” প্রেক্ষার বাড়ির কাছেই তাঁর আত্মীয় থাকেন। তিনি বলছেন, “ও অনেক পরিশ্রম করেছিল এবং নিজেই স্বপ্নগুলি গড়েছিল। তাই নিজের থেকেই অনেক বেশি আশা করত ও। ছোট থেকেই খুব হাসিখুশি ছিল ও। কিন্তু পরে শান্ত হয়ে যায়।” আত্মঘাতী হওয়ার আগে ইনস্টাগ্রামে শেষ পোস্টে লিখেছিলেন, সবথেকে খারাপ হয়, যখন স্বপ্নগুলো মরে যায়।

ন্দোর থানার ইন্সপেক্টর রাজীব ভাদোরিয়া জানান, “প্রেক্ষার ঘর থেকে একটি এক পাতার সুইসাইড নোট পাওয়া গিয়েছে। সুইসাইড নোটে প্রেক্ষা লিখেছিলেন, তিনি জীবনে পজিটিভ থাকার প্রবল চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তিনি পারেননি সেটা করতে।” রাজীব ভাদোরিয়া জানাচ্ছেন, “প্রাথমিক তদন্ত থেকে মনে করা হচ্ছে তিনি ডিপ্রেশনের শিকার হয়েছিলেন। এই মামলায় আমরা বিশদে তদন্ত চালাচ্ছি।”

পচামড়াজাত পণ্যের ফ্যাশনের দুনিয়ায় উজ্জ্বল তাঁর নাম, মুখোমুখি দশভূজা তাসলিমা মিজি।