দুবাই: ২০২০ আইপিএলে ইতিমধ্যেই একাধিক সুপার ওভারের সাক্ষী থেকেছে মরু শহর৷ রবিবার সেই সুপার ওভারেও ইতিহাস দেখল আইপিএল৷ আর তাতে গত বারের চ্যাম্পিয়ন মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের বিরুদ্ধে বাজিমাত করেছে প্রীতি জিন্টার কিংস ইলেভেন পঞ্জাব৷ দলের রুদ্ধশ্বাস জয়ে বাকরুদ্ধ হয়ে গিয়েছিলেন কিংস ইলেভেন মালকিন৷

ভিভিআইপি বক্সে দলের রুদ্ধশ্বাস লড়াই দেখে মাঝে মাঝেই আপসেট হয়ে পড়ছিলেন প্রীতি৷ হাতে দলের পতাকা নিয়ে আবেগের বিস্ফোরণ হচ্ছিল কিংস ইলেভেন পঞ্জাবের মালকিনের৷ দ্বিতীয় সুপার ওভারে ক্রিস গেইল ও ময়াঙ্ক আগরওয়ালের দুরন্ত ব্যাটিংয়ে ঐতিহাসিক এই ম্যাচ জিতে স্মরণীয় করে রাখে পঞ্জাব৷ তারপরই টুইটারে প্রীতি জিন্টা লেখেন, “Actions speak louder than words as words fail me completely. Two super overs ? OMG ! I’m still shaking. So proud of the #Kxip boys. What a game, what a night, what a feeling Thank you @lionsdenkxip for this supreme team effort Team work at its best.”

আইপিএলের ইতিহাসে সেরা ম্যাচ বললেও কম বলা হয়৷ রবিবারের মরু শহর সাক্ষী ছিল আইপিএলের ইতিহাসে সেরা ডাবল-হেডারের। আক্ষরিক অর্থে ক্রিকেট অনুরাগীদের কাছে ১৮ অক্টোবর দিনটা ছিল সুপার-সানডে।

টি-২০ ক্রিকেটের ইতিহাসে রবিবার একটি ম্যাচে দ্বিতীয় সুপার ওভারের সঙ্গে পরিচিতি ঘটে ক্রিকেটবিশ্বের। দুবাইয়ে মুম্বই ইন্ডিয়ান্স বনাম কিংস ইলেভেন পঞ্জাব ম্যাচের নিষ্পত্তি ঘটল দ্বিতীয় সুপার ওভারে। এর ঠিক আগে আবুধাবিতে সুপার-সানডে ডাবল হেডারের প্রথম ম্যাচে কলকাতা নাইট রাইডার্স ও সানরাইজার্স হায়দরাবাদ ম্যাচটিও নিষ্পত্তি হয় সুপার ওভারে। সানরাইজার্সকে সুপার ওভারে হারিয়ে টুর্নামেন্টে পঞ্চম জয়টি পায় কলকাতা৷

কিন্তু দ্বিতীয় ম্যাচে মুম্বই ও পঞ্জাবের লড়াই সুপার ওভার টাই হওয়ায় একই ম্যাচে দ্বিতীয় সুপার ওভারের সাক্ষী থাকল ক্রিকেটবিশ্ব৷

প্রথম সুপার ওভারে প্রথমে ব্যাট করে বুমরার বিষাক্ত ডেলিভারিতে ৫ রানের বেশি তুলতে পারেনি পঞ্জাব। রাহুল এবং নিকোলাস পুরানকে আউট করে স্বল্প রানে বিপক্ষকে বেঁধে রাখেন বুমরাহ। জবাবে ইয়র্কারের পর ইয়র্কারে মুম্বইকেও ৫ রানের বেশি তুলতে দেননি মহম্মদ শামি।

দুই ভারতীয় বোলারের নাছোড় লড়াই যেন সেরা বিজ্ঞাপন হয়ে থাকে সুপার-সানডে। শেষ বলে ২ রান নিতে উদ্যত কুইন্টন ডি’কককে অসাধারণ দক্ষতায় রান-আউট করে নজর কাড়েন রাহুলও। প্রথম সুপার টাই হওয়ায় ম্যাচ দ্বিতীয় সুপার ওভারে গড়ায়।

২০১৯ বিশ্বকাপ ফাইনালের স্মৃতি উসকে দিয়ে অনেকে ভেবেছিলেন হয়তো বাউন্ডারি গণনা হবে। কিন্তু পরিবর্তিত নিয়মে তা হয়নি। তবে দ্বিতীয় সুপার ওভার শুরু হওয়ার আগে ম্যাচ অফিসিয়াল এবং কমেন্ট্রি বক্সে জোর চর্চা নিয়ম নিয়ে। দীর্ঘ আলোচনার পর দেখা যায় ব্যাট হাতে মাঠে নামছেন কাইরন পোলার্ড এবং হার্দিক পান্ডিয়া।

আর বল হাতে ক্রিস জর্ডন। অর্থাৎ প্রথম সুপার ওভারে প্রথমে ব্যাট করা পঞ্জাবকে আইসিসি’র নিয়ম অনুযায়ী এক্ষেত্রে প্রথমে বল করা বাধ্যতামূলক ছিল। ঐতিহাসিক দ্বিতীয় সুপার ওভার শুরুর আগে আম্পায়ারদের সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ আলোচনা করেন আইসিসি ক্রিকেট কমিটির চেয়ারম্যান তথা কিংস ইলেভেন পঞ্জাবের প্রধান কোচ অনিল কুম্বলে।

দ্বিতীয় সুপার ওভারে প্রথমে ব্যাট করে হার্দিক পান্ডিয়ার উইকেট হারিয়ে ১১ রান তোলে মুম্বই। ডিপ মিড-উইকেটে নিজেকে দক্ষতার শীর্ষে নিয়ে গিয়ে পোলার্ডের একটি নিশ্চিত ছক্কা বাঁচিয়ে দেন ময়াঙ্ক আগরওয়াল।

দ্বিতীয় সুপার ওভারে ১২ রান তাড়া করতে নেমে ট্রেন্ট বোল্টকে ছক্কা হাঁকিয়ে শুরু করেন ক্রিস গেইল। তারপর ময়াঙ্কের ২টি বাউন্ডারি দু’ বল বাকি থাকতেই তিন পয়েন্ট নিশ্চিত হয়ে যায় প্রীতির দলের৷ সেই সঙ্গে পয়েন্ট টেবলে ‘লাস্ট বয়’-এর তকমা ভুলে ছ’ নম্বরে উঠে আসে কিংস ইলেভেন৷

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.