লখনউ : একটার পর একটা হাসপাতাল। একটার পর একটা ঘন্টা। হাসপাতালের পর হাসপাতাল ঘোরার সঙ্গে সঙ্গে ঘুরে চলেছিল ঘড়ির কাঁটাও। পাল্লা দিয়ে অসুস্থতা বাড়ছিল নীলমের। বছর তিরিশের গর্ভবতী নীলমকে ঘুরতে হল ১৩ ঘন্টা ধরে। তাও কোনও হাসপাতাল তাকে ভর্তি নেয়নি। অ্যাম্বুলেন্সেই প্রাণত্যাগ করল নীলম। প্রায় ৬টিরও বেশি হাসপাতাল ঘুরতে হয় ওই অ্যাম্বুলেন্সকে। কোনও হাসপাতালেই আসন মেলেনি।

শনিবার মৃতার পরিবার দাবি করে ৮টি হাসপাতাল ঘোরার পরেও কেউ এগিয়ে আসেনি চিকিৎসার জন্য। নীলমের স্বামী বিজেন্দ্র সিংয়ের দাবি প্রতিটি হাসপাতাল চিকিৎসা করতে অস্বীকার করে। এর মধ্যে একটি সরকারি হাসপাতালও ছিল। শুক্রবার গ্রেটার নয়ডায় এমনই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে।

সংবাদ সংস্থা পিটিআই সূত্রে খবর, ইতিমধ্যেই গোটা ঘটনায় তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে গৌতম বুদ্ধ নগর জেলা প্রসাসন। নয়ডা-গাজিয়াবাদ সীমান্তের খোদা কলোনির বাসিন্দা নীলম আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিল। শিবালিক হাসপাতালে চিকিৎসা চলছিল তাঁর। শুক্রবার নীলমের কিছু সমস্যা দেখা দেয়। কিন্তু সেই হাসপাতালটি ভর্তি নিতে অস্বীকার করে। এরপরেই শুরু হয় যুদ্ধ। একের পর এক হাসপাতালে ছুটে গেলেও কারোর দরজা খোলেনি নীলমের জন্য।

ইএসআই হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় প্রথমে। তারপরে সেক্টর ৩০-র একটি হাসপাতালে। সেখানে থেকে সারদা হাসপাতাল, সরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও, কেউই দয়া দেখাননি। সোশ্যাল মিডিয়ায় এই পরিস্থিতির ভিডিও করে ছড়িয়ে দেওয়া হলে, তা ভাইরাল হয়ে যায়। ফর্টিস, জায়পি হাসপাতালগুলি ভর্তি করানোর চেষ্টাও করা হয় নীলমকে। কোথাও কোনও আসন ফাঁকা ছিল না।

পরে জিআইএমএসে নিয়ে যাওয়া হলে, তাঁকে ভেন্টিলেটরে দেওয়া হয়। কিন্তু ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গিয়েছে বলে অভিযোগ পরিবারের। কেন হাসপাতালগুলি একের পর এক ভর্তি নিতে অস্বীকার করল, তা খতিয়ে দেখছে প্রশাসন। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে। অতিরিক্ত জেলাশাসক মুনিন্দ্র নাথ উপধ্যায় ও চিফ মেডিক্যাল অফিসার দীপক ওরি গোটা ঘটনা খতিয়ে দেখছেন।

কলকাতার 'গলি বয়'-এর বিশ্ব জয়ের গল্প