তিমিরকান্তি পতি, বাঁকুড়া: ভোটের উত্তাপ মালুম হচ্ছে রাজ্য জুড়ে৷ আর বাঁকুড়া তাতছে পানীয় জল নিয়ে৷ নির্বাচন কমিশনের তরফে লোকসভা ভোটের দিনক্ষণ ঘোষণা এখন সময়ের অপেক্ষা। সূর্যের উত্তাপ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়বে ভোটের উত্তাপও। এরই মধ্যে বাঁকুড়া শহরে পানীয় জল নিয়ে রাজনীতির পারদ চড়তে শুরু করলো।

প্রতিবার দক্ষিণের এই জেলা শহরে ভোটের বাজারে শাসক-বিরোধী সব পক্ষের কাছেই অন্যতম প্রধান ইস্যু থাকে পানীয় জল। এবারও সেই লড়াই জমতে শুরু করেছে তা বলার অপেক্ষা রাখেনা। এই মুহূর্তে অন্যতম প্রধান বিরোধী বিজেপির অভিযোগ, পানীয় জল নিয়ে রাজনীতি করছে তৃণমূল পরিচালিত পুরবোর্ড। বিজেপির এই অভিযোগ নিয়ে কটাক্ষ করতে ছাড়ছে না শাসক শিবিরও।

২৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাঁকুড়া পুরসভার গত নির্বাচনী ফলাফল ঘোষণার পর বিরোধীদের দখলে ছিল মাত্র পাঁচটি ওয়ার্ড। পরে দু’জন কাউন্সিলর শাসক শিবিরে যোগ দেন। শহরের ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছেন বিজেপির নীলাদ্রী দানা।

তাঁর অভিযোগ, এই ওয়ার্ডে পানীয় জলের সমস্যা দীর্ঘদিনের। এখান থেকে আমি নির্বাচিত হওয়ার পর পানীয় জলের সমস্যা নিয়ে লড়ে যাচ্ছি। বিষয়টি বার বার পুরসভার চেয়ারম্যানকে লিখিত ও মৌখিকভাবে জানালেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি। এমনকি এই বিষয়ে পুরবোর্ডের মিটিংয়ে তোলা হয়েছে। এই ওয়ার্ড থেকে বিরোধী দলের কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছেন বলেই এই ধরণের ‘দ্বিচারিতা’ বলে তাঁর অভিযোগ।

একই সঙ্গে তিনি বলেন, গ্রীষ্মের শুরুতেই এই অবস্থা, চরম গ্রীষ্মে সমস্যা আরো বাড়বে। এই এলাকার যাদের বাড়িতে পানীয় জল সরবরাহের ব্যবস্থা নেই তারা রাস্তার ধারে পৌরসভার ট্যাপ কলে লাইন দেবেন। সেই সময় এক বালতি জল নেওয়ার জন্য প্রতিবেশীদের সঙ্গে ঝামেলা লেগে যায় বলে তাঁর দাবী।

কাউন্সিলর নীলাদ্রী দানার তাঁর ওয়ার্ডে নিয়মিত ও পর্যাপ্ত জল না পাওয়ার যে অভিযোগ করেছেন তাতে শিলমোহর দিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারাও। তাদের দাবী, শহরের অন্যান্য ওয়ার্ডে যেখানে প্রতিদিন দু’বার জল দেওয়া হয়, এখানে তা কেবলমাত্র একবার। আবার সেই জলের গতিও খুব সামান্য ফলে এক বালতি জল নিতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়।

স্থানীয় বাসিন্দা পার্থ চ্যাটার্জ্জী বলেন, শীতের সময়ই আমরা পর্যাপ্ত জল পাইনি। এক বালতি জল ধরতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়। কাউন্সিলরের মাধ্যমে পৌরসভাকে সমস্যার কথা জানিয়েও কোন কাজ হয়নি বলে তার অভিযোগ। একই সঙ্গে তিনি বলেন, লোকপুরের একাংশে জল নেওয়ার কেউ থাকেনা। খোলা পাইপে জল বেরিয়ে অপচয় হয়। অথচ আমরা সেই জলই পাচ্ছিনা।

গৃহবধূ মঞ্জু রায় বলেন, শহরেরই লোকপুরের, কানকাটার একাংশে, কেন্দুয়াডিহিতে ট্যাপের মুখ খোলা থাকায় অবিরাম জল পড়ে নষ্ট হচ্ছে। ফলে এক দিকে জল অপচয় হচ্ছে, অন্য দিকে তাদের এলাকার মানুষ চাইলেও জল পাচ্ছেননা। দিনে মাত্র একবার জল পাওয়া যায়। সেই জল এক বালতি সংগ্রহ করতে তাদের ন্যুননতম দু’ঘন্টা অপেক্ষা করতে হয় বলে তিনি দাবী করেন।

যদিও বিজেপি কাউন্সিলরের ‘দ্বিচারিতা’র অভিযোগ মানতে নারাজ বাঁকুড়া পুরপ্রধান মহাপ্রসাদ সেনগুপ্ত। তিনি বিজেপি কাউন্সিলর নীলাদ্রী দানাকে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, ”উনি যদি পুরসভার জল ব্যবহার করে বাথরুমে সাবান মেখে স্নান করবো বলেন সে জল আমরা দিতে পারব না”।

”বিজেপির মানুষের সঙ্গে কোন সম্পর্ক নেই’ দাবী করে তিনি বলেন, এবিষয়ে ঐ কাউন্সিলর আমাকে কিছুই বলেননি, তাছাড়া ওয়ার্ডে জলের সমস্যা নেই। নদীর ভূগর্ভস্থ জলস্তর নেমে যাওয়ার কারণে জলের গতিবেগ সামান্য কমলেও জলসংকট তৈরী হয়নি বলেই তার দাবী।

একই সঙ্গে পাইপের খোলা মুখ দিয়ে জল বেরিয়ে যাওয়া প্রসঙ্গে পুরপ্রধান বলেন, বার বার পাইপের মুখ লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে। কেউ বা কারা তা ভেঙ্গে দিচ্ছে। আবার ভাঙ্গতে না পারলে পাইপ সহ তুলে ফেলা হচ্ছে। এই কাজ পুরসভার একার পক্ষে করা সম্ভব নয়। এলাকার মানুষকেও নজরদারি করতে হবে। তাদের ভাবতে হবে এই ক্ষতি আমাদেরও। এরপরেও সমস্ত এলাকায় পাইপের মুখ নতুন করে লাগানো হচ্ছে বলে তিনি জানান।