মুম্বই: রাস্তায় গাড়ির চালকের আসনে মহিলাদের দেখলে এখন অবাক হওয়ার কিছুই নেই৷ পুরুষদের হাতই শুধু স্টিয়ারিংয়ে থাকবে এমনটা ভেবে নেওয়া বোধ হয় আর ঠিক হবে না৷ কিন্তু আজও বাস-ট্রাক এমনই হেভি যানে চালকের আসনে পুরুষদের দেখেই অভ্যস্ত সকলে৷ সেই চোখের অভ্যাসকেই ধাক্কা দিয়ে এবার এক মহিলা বসলেন বাসের চালকের আসনে৷ তাও আবার মুম্বইয়ের রাস্তায় দাপটের সঙ্গে সেই দায়িত্ব পালনের গুরুভার নিজের হাতে তুলে নিলেন প্রতীক্ষা৷

সংবাদ মাধ্যম থেকে সোশ্যাল মিডিয়ায় এখন ঘোরাফেরা করছে এই নাম৷ কারণ প্রতীক্ষা দাসই মুম্বইয়ের প্রথম মহিলা ড্রাইভার৷ ২৪ বছরের প্রতীক্ষা মালাডের ঠাকুর কলেজ থেকে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রী অর্জন করেন৷ তবে প্রথামাফিক কাজে তিনি বিশ্বাসী নন৷ তাই জানিয়েছেন, গত ছয় বছর ধরে তিনি ড্রাইভার হওয়ারই স্বপ্ন দেখেছেন৷ তাও ছোট-খাটো গাড়ি নয়, হেভি যান, একেবারে বাস৷ বাইক দিয়ে শুরু করে, চার চাকা, সবকিছু চালালেও তাঁকে আকর্ষণ করেছে বাস এবং ট্রাক৷ যা চালিয়ে রীতিমতো উচ্ছ্বসিত প্রতীক্ষা৷ যেন এই পেশাতে নিযুক্ত হওয়ারই প্রতীক্ষায় ছিলেন তিনি৷

পড়ুন: মাত্র ১০ মিনিটেই পেয়ে যান e-PAN কার্ড

ছোট থেকেই ইংরেজি রচণা হোক বা বাংলা, লিখতে দেওয়া হয়, বড় হয়ে কী হতে চাও৷ সেখানে নিজের নিজের মত ব্যক্ত করার সুযোগ থাকে৷ কেউ শিক্ষক, তো চিকিৎসক অথবা কেউ ইঞ্জিনিয়ার লেখে৷ বেশিরভাগ ক্ষেত্রে উত্তরটা এমনই হয়ে থাকে৷ কেউ কেউ অবশ্য ব্যতিক্রমী উত্তরও দেয়৷ কিন্তু ড্রাইভার হওয়ার কথা কেউ কখনও লিখেছে বলে বা সাহস করেছে বলে মনে করা বেশ কষ্টকর৷ কিন্তু এমনটাই করে দেখালেন প্রতীক্ষা দাস৷

প্রতীক্ষা আরও জানিয়েছেন, ডিগ্রী অর্জন করার পর তিনি আরটিও অফিসার হওয়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন৷ তার জন্য হেভি ভেহিকলসের লাইসেন্স প্রয়োজন ছিল তাঁর৷ যা আবশ্যিকও৷ রোডে বড় যান চালানোরই স্বপ্ন দেখেছিলেন তিনি, স্পষ্ট জানান প্রতীক্ষা৷ এখানেই শেষ নয়৷ লক্ষ্য অনেক দূর এই তরুণীর৷ বিমান চালানোর সুপ্ত বাসনা রয়েছে প্রতীক্ষার৷ আর সেই স্বপ্নকে বাস্তবায়িত করতে বেতন থেকে যে বড়সড় অর্থ জমিয়ে রাখতে হবে তা ভালোই জানেন তিনি৷