সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায় : তিনি তৃনমূলের প্রার্থী। সপ্তদশ লোকসভা নির্বাচনে হাওড়া কেন্দ্রে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বড় ভরসা। ফুটবলার জীবনে যেমন বারবার মোহনবাগানের বৈতরণী পার করে দিয়েছেন। তেমনই রাজনীতির ময়দানেও প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায় তৃনমূলের হাওড়া লোকসভা নির্বাচনের আসনকেও নিশ্চিন্তে ফের জয়ের তটে পৌঁছে দেবে বলে বিশ্বাস ঘাসফুল সমর্থকদের।

সেই তিনিই কিনা বলছেন ভোট দেবেন বিজেপিকে! হ্যাঁ বললেন। তবে তা শর্তসাপেক্ষে। করতে হবে মানুষের জন্য কাজ। যেটা তিনি ও তাঁর দল করেছে। না হলে মানুষের থেকে লবডঙ্কা ছাড়া বিজেপি কিছু পাবে না বলে জানিয়েছেন তৃণমূল প্রার্থী।

বৃহস্পতিবার ভোট লক্ষ্মীর ভাঁড়ার চেলে দেখে নিতে নিজের লোকসভা কেন্দ্র হাওড়ায় প্রচারে বেরিয়েছিলেন লোকসভা নির্বাচনে তৃনমূলের প্রার্থী সাংসদ প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়। ২১ থেকে ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের বিশাল এলাকা কখনও হাঁটলেন, কখনও প্রচার করলেন গাড়িতে চেপে। সঙ্গে ছিলেন সমবায় মন্ত্রী অরূপ রায় এবং হাওড়ার শিবপুর কেন্দ্রের পাঁচবারের বর্ষীয়ান নেতা জটু লাহিড়ী।

প্রচারের মাঝেই প্রশ্নোত্তর পর্ব চালাচ্ছিলেন সাংসদ। সেখানেই তিনি বুক চিতিয়ে বললেন , “মানুষের বিজেপির কাছে অনেক প্রশ্ন রয়েছে, সেগুলোর উত্তর দিক। তাহলে মানুষ ভোট দেবে, আমরা ভোট দেব। আমি ভোট দেব।”

প্রশ্নগুলো কি ? পয়েন্ট করে দিয়েছেন হাওড়ার বিদায়ী সাংসদ। তিনি বলেন , “ভোট চাইতে আসবে বিজেপির হয়ে তাঁকে বলতে হবে ১) কেন নোটবন্দি করা হল ? ২) কেন জিএসটি করা হল ? ৩) বলা হয়েছিল ২ কোটি মানুষের চাকরি হবে ৪) আচ্ছে দিন লায়োগে ৫) কালো টাকা ফেরত আনবে বলেছিল। কিচ্ছু করেননি। উত্তর দিতে হবে এই প্রশ্নগুলোর। এই প্রশ্নের উত্তর দিন আমরা ভোট দেব, আমি ভোট দেব।”

একইসঙ্গে তিনি বলেন , “আমি কি কাজ করেছি ওনারা আমার যে ওয়েবসাইট রয়েছে সেখানে যেমন দেখতে পাবেন তেমনই স্বচক্ষেও দেখতে পাবেন। মানুষ জানে হাওড়ার রাস্তাঘাট , জলের ব্যবস্থা , মাঠ ঘাটের কি খারাপ অবস্থাই না ছিল। আজ মানুষ রাস্তায় বেরোলে শুধু পানীয় জল নয় গরমে ঠাণ্ডা পানীয় জল পান করতে পারে। আর শান্তি শৃঙ্খলা এ নিয়ে আর কি বলব মানুষ জানে তারা কতটা ভালো আছে। জয়ের ব্যপারে আমি ১০০ নয় ১২০ শতাংশ নিশ্চিত।”

জয়ের বিষয়ে তিনি এতটাই নিশ্চিত যে তিনি বলে দিয়েছেন, “হাওড়ায় বিজেপির কিছুই নেই। বিজেপি কোনও দলই নয়। ২০১৪ সালে হাওয়া দিয়ে টুপি পড়িয়েছিল। এবার আর সেটা হবে না। এখন রাজ্যে একটাই হাওয়া, মমতার।”