কলকাতা: নীতিশ কুমারকে এবার চাঁচাছোলা ভাষায় আক্রমণ জেডিইউ সহ-সভাপতি তথা ভোটকুশলী প্রশান্ত কিশোরের। নীতিশ কুমারকে কড়া আক্রমণ করে পিকে-র টুইট, ‘আমি কীভাবে দলে যোগ দিয়েছিলাম তা নিয়েও মিথ্যা বলতে হল। কতটা নীচে নেমে গিয়েছেন নীতিশ কুমার।’

সংঘাত এবার চরমে। বিহারের মুখ্যমন্ত্রী তথা জেডিইউ সুপ্রিমো নীতিশ কুমারকে একহাত নিলেন তাঁর দলেরই নেতা প্রশান্ত কিশোর। শুরুটা করেছিলেন নীতীশ কুমার নিজেই। এবার তাঁকে জবাব পিকে-র। সিএএ ও এনআরসি নিয়ে বিজেপিকে বিঁধে একটানা সমালোচনা করে চলেছেন জেডিইউ নেতা প্রশান্ত কিশোর।

সম্প্রতি অমিত শাহের মন্তব্যের সমালোচনা করে পালটা মন্তব্য করায় পিকে-র উপর বেজায় চটেছেন জেডিইউ সুপ্রিমো তথা বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার। দিল্লিতে একটি নির্বাচনী জনসভায় শাহিনবাগে সিএএ বিরোধী আন্দোলন প্রসঙ্গে তোপ দাগেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। দিল্লিবাসীর উদ্দেশে শাহ বলেন,‘৮ ফেব্রুয়ারি দিল্লিতে ইভিএমে এমনভাবে বোতাম টিপুন, যাতে আপনার ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটে। যদি বিজেপিকে ভোট দেন, তাহলে দেশে অসংখ্য শাহিনবাগের মতো ঘটনা আটকে দেওয়া যাবে।’ অমিত শাহের এই বক্তব্যের পালটা প্রতিক্রিয়া দেন প্রশান্ত কিশোর। দিল্লি ভোট নিয়ে অমিত শাহের করা মন্তব্যের প্রেক্ষিতে টুইটে পিকে পালটা লেখেন, ‘দিল্লি ভোটে ইভিএমের বোতাম টিপুন ভালোবেসে, যাতে জোরের ঝটকা হালকাভাবে লাগে।’

জোটসঙ্গী বিজেপির শীর্ষ নেতাকে উদ্দেশ্য করে তাঁরই দলের এক নেতার এই টুইটে বেজায় চটেছেন নীতিশ কুমার। পিকে-র টুইটের পালটা কড়া প্রতিক্রিয়া দিয়ে নীতিশ পালটা টুইটে লেখেন, ‘কেউ দল ছাড়তে না চাওয়া পর্যন্ত পার্টিতে থাকতে পারেন। না চাইলে যেতে পারেন।’ এমনকী অমিত শাহের কথাতেই প্রশান্ত কিশোরকে জেডিইউতে নেওয়া হয়েছিল বলে জানান নীতিশ কুমার।

জেডিইউ সুপ্রিমোর প্রশান্তকে নিয়ে এই টুইটের পরই আবারও পালটা টুইট করেন পিকে। নীতিশকে উদ্দেশ্যে করে পিকের টুইট, ‘আমি কীভাবে ও কেন জেডিইউয়ে যোগ দিয়েছিলাম, তা নিয়েও মিথ্যা বলতে হল। কতটা নীচে নেমে গিয়েছেন নীতিশ কুমার।’ নীতিশকে কটাক্ষ করে পিকে আরও লেখেন, ‘অমিত শাহের সুপারিশ করা লোকের কথাও তাহলে শুনছেন না। আপনাকে এখন কে বিশ্বাস করবে।’

জেডিইউ সুপ্রিমো ও দলের সহ-সভাপতির টুইট ও পালটা টুইটে সরগরম জাতীয় রাজনীতি। আসন্ন দিল্লি ভোটে বিজেপির সঙ্গে গাঁটছড়া বেঁধেই লড়ছে জেডিইউ। এই আবহে জেডিইউয়ের অন্দরের এই কলহ নীতিশ কুমারের দলের কাছে যে বেশ অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে তা বলাই বাহুল্য।